চট্টগ্রাম, ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯

সৌদি আরবের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ১০:৪৪ : পূর্বাহ্ণ

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমানের দায় বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আর এগুতো পারে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। একই সঙ্গে দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, এ ব্যাপারে একটি ফয়সালায় আসতে হবে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরগোদানের সঙ্গে বৈঠকের একদিন পর দেশটির রাজধানী আঙ্কারায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, লেখক ও সাংবাদিক খাসোগি হত্যাকাণ্ড বিষয়ে ইতিমধ্যেই যেসব তথ্য-উপাত্ত প্রকাশিত হয়েছে তা উভয় দেশের মধুর সম্পর্ককে দুর্বল করে দিচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র গ্রাহাম এর আগে বলেছেন, ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক খাসোগির নারকীয় হত্যাকাণ্ডে যুবরাজ জড়িত।

তিনি বলেন, আমার সিদ্ধান্ত হচ্ছে- মোহাম্মদ বিন সালমানের ব্যাপারে একটি ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এগোতে পারে না।

এ সময় এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেন তিনি। তিনি বলেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্ব আমার কল্পনায় আসেনি। সমস্ত সমালোচনাকে এড়িয়ে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে বন্দী করা এবং কারাগারে নিক্ষেপ করা সবশেষ তুরস্কের মি খশগিরির নৃশংস হত্যা, আন্তর্জাতিক আচরণের প্রতিটি নিয়মকে লঙ্ঘন করছে।

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও কানাডা ২০ সৌদি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ ঘটনায় দেশটির আন্তর্জাতিক সুনাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌদি যুবরাজকে সমর্থনের ব্যাপারে তিনি খুব আগ্রহী ছিলেন জানিয়ে বলেন, তার এ সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।

গত বছরের ২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে বিয়ের কাগজপত্র আনতে গেলে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ওয়াশিংটন পোস্টের প্রদায়ক জামাল খাশোগি।

রিয়াদ প্রথমে খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। পরে বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী ভাষ্য দেয়ার পর তাকে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সৌদি।

সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কিছু জানেন না। গত বছর দেশটি জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ২১ সৌদি নাগরিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জনকে অভিযুক্ত করে বিচারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন সিনেট ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি মার্কিন সমর্থন দেয়া বন্ধ করার একটি প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে ভোট দেয়। এ ছাড়া মার্কিন আইনপ্রণেতারা নতুন বছরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য চাপ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।