চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বিএনপিতে পুনর্গঠনের ইঙ্গিত

প্রকাশ: ২০১৯-০১-১৯ ১১:১২:২০ || আপডেট: ২০১৯-০১-১৯ ১৫:১৬:৫১

টানা তিন মেয়াদে পরাজয়ের পর নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও কৌশলগত ভুল শুধরে দলকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বিএনপি। তরুণ, ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বে ঢেলে সাজানো হবে দলকে। ফলে শীর্ষ থেকে তৃণমূলের নেতৃত্বে আসছে বড় পরিবর্তন।

দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বলছে, জেল জুলুমের ভয়ে যেসব নেতারা দেশ ছেড়েছেন বা আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন না তাদের খসড়া করা হচ্ছে। নতুন কমিটিতে তারা স্থান পাবেন না।

একইসঙ্গে, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে পরীক্ষিত তরুণ, ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে। সেক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ অনেকেই তাদের পদ হারাতে পারেন।

বিএনপির পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনেও নতুন কমিটি নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল, কৃষক দল, সেচ্ছাসেবক দলসহ সকল সহযোগী সংগঠনের ‘টপ টু বটম’ নেতৃত্বে আসবে আমূল পরিবর্তন।

বিএনপির একটি সূত্রে জানা গেছে, দলের তরুণ, ত্যাগী, বঞ্চিত ও অভিজ্ঞদের নেতৃত্বে তৃণমূল নেতাকর্মীদের যাতে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে রাখা সম্ভব হয় সেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই লক্ষ্যে শীঘ্রই ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ে সফর করবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এবার আর কাগজে নয়, মাঠে ময়দানে গিয়ে তুলে আনতে চান দলের যোগ্য নেতৃত্ব। যারা মাঠে ময়দানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারবে।

দল পুনর্গঠন নিয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, ‘শুনেছি, বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনকে ঢেলে সাজানো হবে। এ কাজটি দ্রুততার সঙ্গে করা উচিত, যাতে সকল নেতাকর্মীদের মনোবল সুদৃঢ় করা যায়।’

‘ছাত্রদলের অনেক জায়গায় ১৫ বছর কিংবা ১৮ বছরেও কোনো কমিটি হয়নি। এভাবে সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিকে ঢেলে সাজাতে হবে, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে।’

দল পুনর্গঠন প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দলের পূণর্গঠন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, এটা ক্রমাগত চলছে, থেমে নেই।’

‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) জেলে যাওয়ার পরও ছাত্রদল, যুবদল ও সেচ্ছাসেবক দল জেলা পর্যায়ে প্রায় সব কমিটি করে ফেলেছে। পুনর্গঠন তো আর দিনক্ষণ ঠিক করে হয় না। পুনর্গঠন সব সময় চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে।’

এদিকে শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) বিকালে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের অডিটরিয়ামে এক আলোচনা সভায় পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের মহসচিবসহ নীতিনীর্ধারণী ফোরামের দুই সদস্য।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দল পুনর্গঠন প্রসঙ্গে বলেন, ’বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দল পুনর্গঠন করতে হবে। কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। ত্যাগী, পরিক্ষিত নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে আনতে হবে। আমরা যারা ব্যর্থ বলে পরিচিত হয়েছি আমাদের পদ ছেড়ে দিতে হবে তরুণদের জন্য।’

একই সভায় দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ’নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারকে পুনর্বাসন করতে হবে। যারা নির্বাচনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এদের দেখাশোনা করতে হবে, পাশে দাঁড়াতে হবে। দরকার হলে আমরা যাদের বয়স হয়ে গেছে, তারা সরে যাবো। তারপরেও দলটাকে রাখতেহবে।’