চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯

জামায়াত ইস্যুতে মুখোমুখি ড. কামাল-ফখরুল

প্রকাশ: ২০১৯-০১-১৪ ১৭:৫১:০৭ || আপডেট: ২০১৯-০১-১৪ ২০:৫৫:৪৩

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে জামায়াত নেতাদের থাকা না থাকা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে জোটের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ও মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সম্প্রতি জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করে ভুল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গ ত্যাগে বিএনপিকে চাপ দেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তবে তার এসব মন্তব্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নয় বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম।

সোমবার (১৪ জানুয়ারি) হযরত শাহজালালের মাজার জিয়ারতকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত নিয়ে কামাল হোসেনের বক্তব্য গণফোরামের। এটি ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য নয়। আমরা নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে এখনও কোনো আলাপ-আলোচনা করিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঐক্যফ্রন্টে কোনো ফাটল ধরার সুযোগ নেই। এটি সবসময় অটুট থাকবে। কারণ আমরা অভিন্ন দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছি।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১২ জানুয়ারি) আরামবাগে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে দাবি করে বক্তব্য দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে কখনও রাজনীতি করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না। আমি যখন ঐক্যে সম্মতি দিয়েছি তখন জামায়াতের কথা আমার জানা ছিল না। এটা ঐক্যফ্রন্ট গঠনে ভুল ছিল।

ড. কামাল বলেন, জামায়াতের ২২ জন প্রার্থীকে প্রতীক দেওয়া হবে, বিষয়টি আমি জানতাম না। দেওয়ার পর বিএনপির কাছে আমি ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম। তারা বলেছে সবাই ধানের শীষের প্রার্থী। জামায়াতের কেউ নেই।

বিএনপি জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে চাপ দেওয়া হবে কি না-এ প্রশ্নের জবাবে গণফোরাম সভাপতি বলেন, আমিতো মনে করি জামায়াত ছেড়ে আসতে বিএনপিকে চাপ দেওয়া যেতে পারে।

বিএনপির সঙ্গে জামায়াত থাকলে ভবিষ্যতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, জামায়াত নিয়ে কোনো রাজনীতি নয়, অবিলম্বে এ বিষয়ে সুরাহা চাই।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ অক্টোবর সরকারবিরোধী জোট হিসেবে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। শুরু থেকে অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এই জোটের অন্যতম সংগঠক হিসেবে থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাকে ছাড়াই বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য ও জেএসডির সমন্বয়ে এ জোট গঠিত হয়।