চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯

মিয়ানমারে ফেরত যাবার ভয়ে ভারতের রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালাচ্ছে

প্রকাশ: ২০১৯-০১-১১ ১৮:২১:৪৮ || আপডেট: ২০১৯-০১-১২ ১০:৩৬:৫৫

মিয়ানমারে পাঠিয়ে দেয়া হবে- এমন ভয়ে ভারত থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনেকেই সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কয়েক বছর ধরে হায়দারাবাদ এবং জম্মু-কাশ্মির, রাজস্তান ও পাঞ্জাবে বসবাসরত অন্তত ৭৪ জন রোহিঙ্গা ত্রিপুরা রাজ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর এখন কুমিল্লা ও ফেনীতে অবস্থান করছে।

এসব উদ্বাস্তের প্রায় অর্ধেক শিশু। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদেরকে বান্দরবান জেলার নাইখংছড়ির গুনদুমের ইউএনএইচসিআর ট্রানজিট ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। এখানে এখন বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু আশ্রয় নিয়েছে।

কুমিল্লা জেলার পুলিশ জানিয়েছে, তারা কেবল ১ জানুয়ারিতেই ব্রাহ্মণপারা ও কুমিল্লায় ৪৮ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে। তারা জম্মু-কাশ্মির, রাজস্তান, হায়দারাবাদ ও পাঞ্জাব থেকে ত্রিপুরা রাজ্য হয়ে বাংলাদেশে এসেছে।

কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রধান মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, রোহিঙ্গারা ছয় থেকে সাত বছর আগে ভারতে গিয়েছিল। তারা এখন মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের ভয়ে ভীত। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখন রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে।

বাংলাদেশের উদ্বাস্তু, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করা শুরু করেছেন। সম্প্রতি আগত সব রোহিঙ্গা জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংস্থার তদারকিতে রয়েছে।

ব্রাহ্মণপারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান কবির বলেন, আটককৃত রোহিঙ্গারা ছয় থেকে সাত বছর ধরে ভারতে বসবাস করছিল। তারা বিভিন্ন ধরনের কায়িক শ্রমে জীবিকা নির্বাহ করছিল। ভারতীয় পুলিশের অভিযানের পর তারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

ভারতের স্থানীয় মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ২৩০ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে তারা ভয় পাচ্ছে যে তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। উল্লেখ্য, ভারত জাতিসংঘ উদ্বাস্তু কনভেনশনে সই করেনি।

তিনি বলেন, ভারত থেকে রোহিঙ্গাদের আগমন এই প্রথম নয়। ২০১৮ সালে দুই ধাপে ত্রিপুরা হয়ে ব্রাহ্মণপারায় ডজন দুয়েক রোহিঙ্গা এসেছে।

বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সময় সীমান্ত নিরাপত্তা শিথিল থাকার সুযোগে এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে যায়।

জাতিসংঘ উদ্বাস্তু কমিশনের মতে, ২০১৭ সালের পর থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী শুদ্ধি অভিযান চালানোর পর এসব রোহিঙ্গা পালিয়ে আসে।

জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংস্থার হিসাব মতে, ভারতে প্রায় ১৮ হাজার রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু রয়েছে। সংস্থাটি তাদেরকে আইডি কার্ড দিলেও তারা নির্বিচারে গ্রেফতার, আটক ও প্রত্যাবাসনের শিকার হচ্ছে।