চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯

সীমান্তে বাঁধ নির্মাণ করছে মিয়ানমার, তলিয়ে যাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প

প্রকাশ: ২০১৯-০১-১০ ১৫:১৯:৫২ || আপডেট: ২০১৯-০১-১০ ২১:০০:০১

নির্মাণাধীন ব্রীজটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হলেও আগামী বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে ডুবে যাবে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ক্যাম্পটি

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের তমব্রু খালে কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে ব্রীজের নামে বাঁধ নির্মাণ করছে মিয়ানমার। নির্মাণাধীন ব্রীজটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হলেও আগামী বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে ডুবে যাবে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ক্যাম্পটি। একইসাথে পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে সীমান্তবর্তী প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দার।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, বিয়ষটি নজরে এসেছে এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হচ্ছে।

তুমব্রু নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ও সীমান্তবর্তী স্থানীয়রা এই প্রতিবেদককে জানান, নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের তাড়াতে নতুন করে পায়তারা শুরু করেছে মিয়ানমার সরকার। কোন ধরণের রাস্তা নেই এমন একটি জায়গায় ব্রীজ নির্মাণের প্রয়োজন নেই। এটি নামে মাত্র ব্রীজ নির্মাণ। আগামী বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি আটকে দিয়ে তুমব্রু সীমান্তে খালের পাশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সরাতে এমনটি করছে মিয়ানমার।

ইতোপূর্বে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সরাতে চেষ্টা করেছিল মিয়ানমার। উক্ত সীমান্তে দেশটির অভ্যন্তরে ঘন ঘন গুলিবর্ষণ, রাতে কাঁটাতার ঘেঁষে অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশসহ নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছিল।

মিয়ানমার ব্রিজ তৈরির নামে বাঁধ নির্মাণ করলে বর্ষা মৌসুমে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ক্যাম্প, সীমান্তবর্তী স্থানীয় অধিবাসি ও কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিবে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে রয়েছে ২৭১ কিলোমিটার সীমানা যার ২০৮ কিলোমিটার স্থলভাগে ও ৬৩ কিলোমিটার জলসীমানা। সীমান্তঘেঁষা বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের কুনারপাড়া সীমান্তের তমব্রু খালের পাশ ঘেষে নো-ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী।

উল্লেখ্য, গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংস ঘটনার পর বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। তবে কিছু কিছু রোহিঙ্গা সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকা পড়ে এবং সেখানেই আশ্রয় শিবির তৈরি করে অবস্থান নেয় তারা।

ওই বছরে নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম সীমান্ত পয়েন্টে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সরকার নো-ম্যানস ল্যান্ড থেকে সরিয়ে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে আসে। তবে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডের অন্তত আরো ৫ হাজার রোহিঙ্গা এখনো অবস্থান করছে। এসব রোহিঙ্গাদের বর্তমানে চিকিৎসাসহ মানবিক সহায়তা দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি, রেডক্রস ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা।