চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: ফিলিপাইনে ব্যাংকারের সাজা

প্রকাশ: ২০১৯-০১-১০ ১৩:৪৯:০৪ || আপডেট: ২০১৯-০১-১০ ১৭:২৩:২৫

সাইবার জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ লোপাটের ঘটনায় ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) তৎকালীন এক শাখা ম্যানেজারকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজার রায় দিয়েছে ফিলিপাইনের একটি আদালত।

রিজার্ভ চুরিসহ অর্থ পাচারের আট দফা অভিযোগে আজ (বৃহস্পতিবার) মায়া সান্তোষ দেগুইতো নামে ওই নারী কর্মকর্তাকে ৩২ থেকে ৫৬ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। প্রত্যেকটি অভিযোগের জন্য চার থেকে সাত বছর করে কারাদণ্ড ঘোষিত হয়।

হ্যাকাররা সুইফট কোড (এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তরের জন্য যে সংকেতলিপি) চুরি করে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনে। পরে ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের মাকাতি শাখার মাধ্যমে তা ক্যাসিনো ও বিভিন্ন ব্যক্তির হাতে চলে যায়। অর্থ পাচারের এই কাজে আরসিবিসির মাকাতি শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে সরাসরি জড়িত ছিলেন মায়া সান্তোস দেগুইতো।

ফিলিপাইনের মাকাতি শহরের আরসিবিসি শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ ফিলিপাইনে আসার পর তা মুদ্রা লেনদেনকারী ফিলরেম নামের এক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে। মায়া সান্তোস দেগুইতো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক থেকে অর্থ আনা এবং তা চারটি অজ্ঞাত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে জমা করার বিষয় নিজে তদারকি করেছিলেন বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে।

তিন বছর আগে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া ওই সাইবার চুরির ঘটনায় গত বছরের আগস্টে মায়া সান্তোস দেগুইতোকে গ্রেপ্তার করে ফিলিপাইন সরকার। তবে তিনি আদালতে অর্থ পাচারের ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করে করেছেন। তাঁর দাবি, আরসিবিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে কিছু কাজ করতে হয়েছে।

আদালত আজ ২৬ পৃষ্ঠার রায়ে বলেছে, ‘অর্থ লেনদেনে তাঁর কিছুই করার ছিল না বলে মায়া আদালতে যে কথা বলেছেন, তা একেবারে নির্জলা ও বড় ধরনের মিথ্যা।’

তবে মায়ার আইনজীবী ডেমি কাস্টোডিয়ো এই রায়ে হতাশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তাঁরা উচ্চ আদালতে যাবেন।