চট্টগ্রাম, ১১ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

বাংলাদেশেও গ্রাউন্ড স্পেস স্টেশন স্থাপন করবে ভারত

প্রকাশ: ৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ১১:৪৫ : পূর্বাহ্ণ

ভারতের মহাকাশ কূটনীতির অংশ হিসেবে দেশটি তার পাঁচ প্রতিবেশী যথা ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকায় ৫টি বৃহৎ গ্রাউন্ড স্টেশন ও পাঁচ শতাধিক ছোট টার্মিনাল স্থাপন করবে। এই অঞ্চলে চীনা প্রভাব প্রতিরোধে প্রতিবেশী প্রথম নীতির অংশ হিসেবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মহাকাশ হাতিয়ার ব্যবহার করছে। খবর – টাইমস অব ইন্ডিয়া

এ ধরনের প্রকল্প পরে আফগানিস্তানেও স্থাপন করা হবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো ছাড়াও এই উদ্যোগের ফলে ভারতের কৌশলগত এসেটগুলো তাদের মাটিতে রাখতে সহায়তা করবে। টেলিভিশন সম্প্রচার, টেলিফোনি, ইন্টারনেট, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও টেলিমেডিসিনের মতো ব্যাপারে এসব স্টেশন ও টার্মিনালগুলো ব্যবহার করা হবে।

সূত্র জানায়, পাঁচটি গ্রাউন্ড স্টেশনের প্রথমটি স্থাপন করা হবে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে। এটি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত হবে ৯ জানুয়ারি। তবে ১৫ জানুয়ারি এর উদ্বোধন হতে পারে। এর ফলে ভুটানের প্রত্যন্ত অনেক এলাকাতেও টেলিভিশন দেখা যাবে।

সূত্র জানিয়েছে, এই স্টেশনকে তিব্বতে চীনের স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং অবকাঠামোর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইসরোর চেয়ারম্যান সিবান কে বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইসরো এই মিশনের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। ইসরো সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা স্যাটেলাইট পরিষেবা প্রদান করতে ওইসব দেশে জনবল পর্যন্ত পাঠাতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য ১২ ডিসেম্বর ওই দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে একটি বৈঠকও করেছি।

গত বছর ইসরো এসব দেশে কয়েকটি টার্মিনাল চালু করেছে। এর ফলে টেলিভিশন সম্প্রচার, ভিডিও কনফারেন্স, ডাটা মেসিজিং সহজ হয়ে পড়েছে। এসব দেশ ভারত সরকরকে ৭.৫ মিটার অ্যান্টিনাসহ পূর্ণাঙ্গ গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করার জন্য অনুরোধ করেছে।

দশ দিন আগে ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ভারত সফর করে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করে। এতে অন্তত ১০০টি টার্মিনাল সারা দেশে স্থাপন করা হবে। এছাড়া সম্ভবত ঢাকায় একটি বৃহৎ গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করা হবে।

আলফা ডিজাইনের কর্নেল (অব.) এইচ এস শঙ্কর বলেন, ইসরোর সহযোগিতায় আমরা ৫টি দেশের সব স্থানেই আমাদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারব।

ভারত গত ৫ মে সাউথ এশিয়া স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে। এতে ব্যয় হয়েছে ৪৫০ কোটি রুপি। এর মাধ্যমেই এই পরিষেবা প্রদান করা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, ভুটানের পর বাংলাদেশ ও মালদ্বীপে প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হবে। তিন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এরপর নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় তা বাস্তবায়ন করা হবে।