চট্টগ্রাম, ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯

জামানত বাজেয়াপ্ত বিএনপির ১৫২ প্রার্থীর

প্রকাশ: ২ জানুয়ারি, ২০১৯ ১১:০০ : পূর্বাহ্ণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন২৫৯টি আসন পেয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে দেশের ২৯৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১ হাজার ৮৫৫ জন প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ১ হাজার ৪২২ জন। সবচেয়ে বেশি ২৯৭ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ -এর। তারপরই বিএনপির অবস্থান। ধানের শীষ প্রতীকে ২৫৬টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন ১৫২ জন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াতের ২২ প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনই জামানত হারিয়েছেন। তবে নৌকা প্রতীকের কোনও প্রার্থীই জামানত হারাননি।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে, ‘মনোনয়নপত্র কেনার সময় একজন প্রার্থীকে জামানত হিসেবে ২৫ হাজার টাকা নির্বাচন কমিশনে জমা রাখতে হয়। নির্বাচনে কোনও আসনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট কোনও প্রার্থী যদি না পান তাহলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা তার বেশি ভোট পেলে জামানত হিসেবে রাখা ২৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়।’

সারাদেশে ২৯৮টি আসনে ১ হাজার ৮৫৫ জন প্রার্থীর মধ্যে জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন মোট ৪৩৩ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে নৌকা প্রতীকে জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন ২৭১ জন প্রার্থী। মোট আসনের বিপরীতে ২৫৯টি আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। বাকি আসনগুলোতে শরিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচন করেছেন। তারা প্রত্যেকে জামানত রক্ষার জন্য যত ভোট প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন।

জামানত বাজেয়াপ্তদের তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তাদের প্রতীক হাত পাখায় নির্বাচন করেছেন ২৯৭ জন। যার মধ্যে জামানত হারিয়েছে ২৯৬ জন। অর্থাৎ জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন মাত্র একজন প্রার্থী।

তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২৮১টি আসনে নির্বাচন করেছে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। এককভাবে ২৫৬টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এদের মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ১৫২ জনের। বাকিদের মধ্যে জয়লাভ করেছেন ৫ জন। অন্যরা পরাজিত হলেও জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জাতীয় পার্টি। তাদের ১৫৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৩৩ জন জামানত হারিয়েছেন। বাকি ২১ জন জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন। জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছেন ২০ জন।

বিভাগ অনুযায়ী, চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৩৪টি আসনে বিএনপি প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা (৩১), তৃতীয় খুলনা (৩০), চতুর্থ বরিশাল (২০), পঞ্চম ময়মনসিংহ (১৮), ষষ্ঠ রাজশাহী (১৪), সপ্তম রংপুর (৫)। সিলেট বিভাগে ১২ জন বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে সবাই জামানত রক্ষার জন্য প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের মধ্যে এক ভাগের বেশি ভোট পেয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন পেয়েছেন ২০ হাজার ৯৩৩ ভোট। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৯ হাজার ৬০৪ ভোট। নোয়াখালী-৫ আসনে জামানত রক্ষার জন্য ৩৪ হাজার ৭৮ ভোটের বিপরীতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ পেয়েছেন ১০ হাজার ৯৭০ ভোট। নরসিংদী-২ আসনে জামানত হারিয়েছেন বিএনপি নেতা ড. মঈন খান। তিনি ভোট পেয়েছেন ৭ হাজার ১৮০। ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ভোট পেয়েছেন ১৬ হাজার ৬১২টি। জামানত রক্ষার জন্য তার প্রয়োজন ছিল ৩০ হাজার ৮৩৩ ভোট। চট্টগ্রাম-১০ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪১ হাজার ৩৯০টি। জামানত বাজেয়াপ্ত থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৪২ হাজার ১২৯ ভোট। পটুয়াখালী-১ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার ৪১৩ ভোট। বিএনপি প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম ভোলা-২ আসনে ভোট পেয়েছেন ১৪ হাজার ৩১৪। নোয়াখালী-১ আসনে পরাজিত হয়েছেন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৬২। ফরিদপুর-৩ আসনে ২১ হাজার ৭০৮ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন বিএনপি নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। খন্দকার মাহবুব হোসেন বরগুনা-২ আসনে নির্বাচন করে ভোট পেয়েছেন ৯ হাজার ৫১৮। মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সিনহা পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৮০ ভোট। জামানত রক্ষার্থে তার প্রয়োজন ছিল ৩০ হাজার ১৫ ভোট।

এছাড়া বিএনপির অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে জামানত হারানোদের তালিকায় রয়েছেন, ফরিদপুর-২ থেকে শামা ওবায়েদ (১৪ হাজার ৯১২ ভোট), নোয়াখালী-৬ থেকে ফজলুল আজিম (৪ হাজার ৭১৫ ভোট), শেরপুর-১ আসনে সানসিলা জেবরিন (২৭ হাজার ৬৪৩ ভোট), যশোর-১ আসনে মফিকুল ইসলাম তৃপ্তি (৪ হাজার ৯৮১ ভোট), খুলনা-৪ থেকে আজিজুল বারী হেলাল (১৪ হাজার ১৮৭ ভোট), বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের ছেলে যশোর-৩ আসনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (৩১ হাজার ৭১০ ভোট), ভোলা-৩ আসনে হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ (২ হাজার ৫১৪ ভোট), বরিশাল-১ আসনে জহির উদ্দিন স্বপন (১ হাজার ৩০৫ ভোট), বরিশাল-২ আসনে সর্দার শরফুদ্দিন আহমেদ (১১ হাজার ১৩৭ ভোট), বরিশাল-৫ আসনে মজিবর রহমান সরওয়ার (৩১ হাজার ৩৬২ ভোট), মুন্সিগঞ্জ-৩ থেকে আব্দুল হাই (১২ হাজার ৭৩৬ ভোট), ঢাকা-২ আসনে আমান উল্লাহ আমানের ছেলে ইফরান ইবনে আমান (৪৭ হাজার ১৯৫ ভোট), নরসিংদী-১ আসনে খায়রুল কবির খোকন (২৪ হাজার ৭৮৭ ভোট), পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য, ধানের শীষে নির্বাচন করা গোলাম মাওলা রনি (৬ হাজার ৪৫৯ ভোট), সিরাজগঞ্জ-২ থেকে রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা (১ হাজার ১১৮ ভোট), সিরাজগঞ্জ-২ থেকে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ পেয়েছেন (১৩ হাজার ৭৭৮ ভোট)। তারা প্রত্যেকে জামানত হারিয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে ছাতা প্রতীকে নির্বাচন করেছেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব) অলি আহমদ। তিনি ভোট পেয়েছেন ২২ হাজার ২২৫। জামানত রক্ষার জন্য তার প্রয়োজন ছিল ২৭ হাজার ৪১৯ ভোট। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ থেকে ড. কামালের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগ দেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। তিনি পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচন করে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪ ভোট। জামানত রক্ষার জন্য তার প্রয়োজন ছিল ৩৮ হাজার ১৮৯ ভোট।

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা জামায়াতের ২২ জন প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ১১ জন। তারা হলেন, সিরাজগঞ্জ-৪ থেকে রফিকুল ইসলাম খান, খুলনা-৫ আসনে মিয়া গোলাম পারোয়ার, খুলনা-৬ আসনে আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা-১১ থেকে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহম্মদ তাহের, কক্সবাজার-২ আসনে হামিদুর রহমান আযাদ, ঠাকুগাঁও-২ থেকে আবদুল হাকিম, পিরোজপুর-১ শামীম সাঈদী, বাগেরহাট-৩ থেকে আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ থেকে আবদুল আলীম, যশোর-২ আসনে আবু সাঈদ মো. সাহাদাত হোসেইন, ঝিনাইদহ-৩ থেকে মতিউর রহমান জামানত হারিয়েছেন।
অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১২ আসনে কাস্তে প্রতীকে নির্বাচন করে জামানত হারিয়েছেন জোনায়েদ সাকি। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ১০০ ভোট। জামানত রক্ষার জন্য তার প্রয়োজন ছিল ২৯ হাজার ১৮৫ ভোট। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোটরগাড়ি মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৭৭৫ ভোট।

হিসেব অনুযায়ী, ১৩০টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ১১৬ জনের। জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পেয়েছেন ১৪ জন এবং জয়লাভ করেছেন তিনজন প্রার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। তিনি সিংহ প্রতীকে নির্বাচন করে পেয়েছেন ৬৩৮টি ভোট। জামানত রাখার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৮ হাজার ৫৩ ভোট।- বাংলা ট্রিবিউন