চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯

টেকনাফের বিএনপি ধরপাকড় আতংকে! আসন ধরে রাখতে চাই আওয়ামীলীগ

প্রকাশ: ২০১৮-১২-২৭ ২০:০৩:০৭ || আপডেট: ২০১৮-১২-২৭ ২০:০৩:১৫

আমান উল্লাহ কবির
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে নেই নির্বাচনী আমেজ। সরগরম হয়ে উঠেনি চায়ের দোকানগুলো। উল্টো ধরপাকড় আতংকে দিন কাটাচ্ছেন অনেক সাধারণ ভোটারসহ বিএনপি সমর্থক নেতাকর্মীরা। গায়েবী মামলায় ধরপাকড়, হুমকী ও হয়রানীসহ নির্ঘুম রাত কাটছেন অনেকে। এমন অভিযোগ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ফলে কোথাও চোখে পড়েনি ধানের শীষের পোষ্টার ও মাইকিং।

অপরদিকে এককভাবে প্রচারনায় তুঙ্গে আছেন আওয়ামীলীগের নৌকার প্রার্থী শাহীন আক্তার চৌধুরী। গ্রামে গঞ্জে নৌকার প্রচারণার পাশাপাশি পোষ্টারে চেয়ে গেছে অলিগলি। প্রতিটি গ্রামে ও স্টেশনে নৌকার অফিস চোখে পড়ার মতো। ভোট চেয়ে মাইকিং, পথসভা ও উঠান সভা করে যাচ্ছে নিয়মিত। নেচে গেয়ে উল্লাসে মেতে উঠছেন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত বর্তমান সাংসদ আবদুর রহমান বদিকে মাইনাস করে তার স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড। এ আসন অর্থাৎ কক্সবাজার- ০৪ (সীমান্ত উপজেলা উখিয়া ও টেকনাফ) সংসদীয় আসন অরাজনৈতিক নারী প্রার্থী নৌকার মাঝি হওয়ায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আসনটি পুনরুদ্ধারে দৃঢ় আশাবাদী বিএনপি।

এদিকে অসন্তুষ হলেও আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রধানমস্ত্রী শেখ হাসিনার ইমেজ ধরে রাখার জন্য প্রস্তুত আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। অবশেষে বাদ পড়ায় দেশজুড়ে নানা বির্তক নিয়ে আলোচনায় থাকা সাংসদ আবদুর রহমান বদির স্থলে এই আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার মাঝি হয়েছেন তারই স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরী। তাঁর মনোনয়নের খবরে উখিয়া-টেকনাফের সর্বত্রে আলোচনা হলেও এখন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।

উখিয়ার বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে তিনি। উখিয়া উপজেলায় তাদের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় অধিকাংশ নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তুষ দেখা দিলেও আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইমেজ ও ক্ষমতা অব্যাহত রাখার জন্য কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে নারী প্রার্থী ও কোন আওয়ামীলীগ কিংবা সহযোগি সংগঠনের সদস্য না হওয়ায় আসনটি পুনরুদ্ধার দৃঢ় আশাবাদী বিএনপি। উখিয়া-টেকনাফে এবারের বিএনপির প্রার্থী চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইফ শাহজাহান চৌধুরী। তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতিও। উখিয়া-টেকনাফে তার জনপ্রিয়তা শীর্ষে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষনার পর থেকে টেকনাফের বেশ কয়েকটি এলাকা চষে বেড়ালেও প্রচারনার পর থেকে টেকনাফ উপজেলার তেমন দেখা মিলছেনা নেতাকর্মীদের। গায়েবী মামলায় ধরপাকড়, হুমকী ও হয়রানীর অভিযোগ করেছেন ধানের শীষের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। ইতিমধ্যে তিন সাবেক মেম্বারসহ টেকনাফ উপজেলার বেশ কয়েকজন বিএনপির শীর্ষ নেতাকর্মীদের আটক করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। এর ফলে ভয়ে নেতা কর্মীরা কেউ প্রচারণায় নামছেননা। এলাকা ছাড়া হয়েছে অনেক নেতা কর্মীরা। এর প্রতিকার চেয়ে কয়েকদফা সংবাদ সম্মেলন ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেছেন শাহজাহান চৌধুরী। এই সুযোগ নিয়ে একচেটিয়া প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন নৌকার প্রার্থী শাহীন আক্তার চৌধুরী।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থীও রয়েছে এই সংসদীয় আসনে। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওঃ মুহাম্মদ শোয়াইব হাত পাখা ও জাতীয় পার্টির মাষ্টার এম, মন্জুর লাঙ্গল প্রতিক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, নির্বাচনে ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে ও পুলিশি ধরপাকড় না হলেনিঃসন্দেহে আসনটি তাদের। কেননা উখিয়া টেকনাফের ৮০% ভোটার তাদের পাশাপাশি দশ বছরে এলাকায় কোন উন্নয়ন হয়নি বলে জানালেন বিএনপি নেতারা। টেকনাফ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ আলম বাহাদুরসহ কয়েকজন নেতা জানান, বর্তমান সাংসদ আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে মাদকের বদনাম ও দলীয় নেতাকর্মীদের মুল্যায়ন না করার অভিযোগ থাকায় তাকে মনোনয়ন না দিয়ে তারই সহধর্মীনিকে প্রার্থী ঘোষনায় জনপ্রীয়তা আরো বেড়েছে। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। সব ভেদাভেদ ভুলে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় এনে উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।


ধানের শীষের প্রার্থী বর্ষিয়ান নেতা শাহজাহান চৌধুরী বলেন, প্রচারনাকালে পুলিশ ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বাধা, পোষ্টার বিলিকালে কর্মীদের মারধর, বিভিন্ন গায়েবী মামলায় নেতাকর্মীদের আটক ও গ্রামে গঞ্জে নেতা কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং নেই। তবুও তিনি জয়ীর ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলেও জানান। তিনি নিজেকে ক্লীন ইমেজের প্রার্থী ঘোষনা দিয়ে আরো জানান, এমপি থাকাকালীন উখিয়া-টেকনাফে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তাই জনগন তাকেই ভোট দিয়ে আবারো সংসদে দেখতে চাই।

আওয়ামীলীগের প্রার্থী শাহীন আক্তার চৌধুরী এক প্রতিনিধি সভায় বলেন, দলের সিদ্ধান্তে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে তিনি প্রস্তুত। জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী হয়ে বলেন, কক্সবাজারের এই উখিয়া-টেকনাফ আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উখিয়া উপজেলায় ৫টি ইউনিয়ন এবং টেকনাফ উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়ন নিয়েই কক্সবাজার-৪ আসনটি গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪০৬ জন। ভোটকেন্দ্র সংখ্যা ১০০টি। উখিয়া উপজেলায় ৪৫টি ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে ৬০ হাজার ৪৮৮জন পুরুষ ও ৫৮ হাজার ২৯৭ জন নারী মিলিয়ে ভোটার রয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৫ জন।
টেকনাফ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নে ৫৫টি ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে ৭২ হাজার ৫২২ জন পুরুষ ও ৭৩ হাজার ৯৯ নারীসহ ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৪৫ হাজার ৬২১ জন।


সাধারন ভোটাররা মনে করেন, সুষ্টু নির্বাচন হলে বিএনপি এবং আওয়ামীলীগের মধ্যে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে। তবে এবারের ভোটাররা ইয়াবা দূরীকরণ ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় যার ভূমিকা বেশী থাকবে তাকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন।