চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯

ভোটের মাঠে টিকে থাকার ছক কষছে ঐক্যফ্রন্ট

প্রকাশ: ২০১৮-১২-১৩ ২৩:৪৪:২৪ || আপডেট: ২০১৮-১২-১৩ ২৩:৪৪:৩৩

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ভোটের মাঠে টিকে থাকার কৌশলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের র্শীষ নেতারা। হামলা, মামলা, নির্যাতন এবং গ্রেফতার এড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার টিকে থাকার লড়াইয়ের ছক কষছে দলটির হাইকমান্ড। তা

তাদের টার্গেট, টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতাসীনদের বিজয় ঠেকানো। বিএনপির বিশ্বাস, ভোটের মাঠে টিকে থাকলেই দলের জন্য সবুজ সংকেত অপেক্ষা করছে। তাই সর্বোচ্চ কৌশলে প্রচারণায় মাঠে থাকতে উপর থেকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রচার-প্রচারণা চালাতে বিএনপি একটি উপকমিটি গঠন করেছে বলে জানা গেছে। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের তরুণ নেতাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বিএনপির একটি সূত্রের দাবি, ক্ষমতাসীন বিরোধী সব শক্তিকে হাতে রেখেছে বিএনপি। ড.কামালের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টকে আর সবচেয়ে বেশি আসন সমঝোতায় বিতর্কিত দল জামায়াতকেও। ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে বিএনপি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক গতি ধরে রাখবে আর দলের নেতাকর্মী ও জামায়াতের মাধ্যমে মাঠ টিকিয়ে রাখবে।

বিএনপি’র হাই-কমান্ডের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো সবগুলো আসনে নিজেদের প্রার্থী টিকিয়ে রাখা। আর এখন দলের নেতারা কাছে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত মাঠে টিকে থাকা। দলের জন্যে আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন কী না।বিএনপি’র নীতি-নির্ধাকরা আশংকা করেছিলেন যে, মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিভিন্ন কারণে দলের অধিকাংশ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যেতে পারে।

ঐক্যফ্রন্টের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, আগামী ১৬ তারিখ বিজয় দিবসের পরই রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। ড. কামালের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনি মাঠে শক্তভাবে টিকে থাকতে পারবে। তখন দেশের মানুষের চিন্তাভাবনারও পরিবর্তন আসবে।বিএনপি বিশ্বাস, এবার আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা আগের মতো নেই, গুম, খুন, ব্যাংক লুটসহ নানা কর্মে ক্ষমতাসীন দল জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। তাছাড়া আওয়ামী জোটেও আছে রহস্য। ২৯টি আসনে সমঝোতার পাশাপাশি আরও ১৪৫টি আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। তিনটি আসন পাওয়া বিকল্পধারাও আরও ৩২টি আসনে প্রার্থী রেখে দিয়েছে। এগুলোকে ক্ষমতাসীনের দুর্বলতা হিসেবেই বিবেচনা করছে ঐক্যফ্রন্ট।

বিএনপির দাবি, ব্যালট ছিনতাই, কারচুপির ভোটও যদি হয় আর বিএনপি যদি ভোট বর্জন না করে তাহলে বেলাশেষে ১২৫-১৫০ আসন পাবে। কিন্তু এটিই দলের টার্গেট নয়। বিএনপির ভাষ্য, এবার ভোটের ঘুঁটি ঘুরেও যেতে পারে। কেননা দশম সংসদ নির্বাচন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। যার ফলে ১৫৩ জন সাংসদ কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই সাংসদ নির্বাচিত হয় আওয়ামী লীগ। তখন এরশাদই বিরোধীদল হয়ে আওয়ামী লীগকে বৈধতা দেয়। এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে সেই এরশাদেরও মন ভরেনি।

মার্কা পাওয়ার পর দেশের প্রধান দল আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা, ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমীর প্রচারণায় নামলেও এখনো পর্যন্ত মাঠে নেই জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো- চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ! অন্যদিকে চেয়ারম্যন এরশাদও দেশের বাইরে! বিএনপি এগুলোকে পজিটিভ হিসেবেই দেখছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির যে দাবি ছিলো, ক্ষমতাসীনদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, সেই দৃশ্যই আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত বিশ্বের কাছে তুলে ধরবে দলটি। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে যত হামলা-মামলা, সংঘর্ষ হয়েছে, ভোটের মাঠ কার ভূমিকায় উত্তপ্ত হচ্ছে এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ইসির ভূমিকা কী? প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কী? আওয়ামী লীগের ভোটের রূপ কেমন? এগুলোই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিবেদন আকারে তুলে ধরছে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট।এ গতিপথ ভোটের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন জাতীয় নির্বাচন বর্জনের কোনো সম্ভাবনা নেই।আমরা নিবার্চনে আছি এবং থাকবো। চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত মাঠ ছাড়বে না।

বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সাথে কথা বলে জানা যায়, শুরুতেই আওয়ামী লীগ প্রশাসনকে হাতে রেখে নানা কৌশলে হামলা-বাধা দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মাঝে ভয় ও আতঙ্ক ঢুকিয়ে দিচ্ছে। । যার মূল টার্গেটই হচ্ছে যাতে কোনোভাবে বিএনপির প্রার্থীরা মাঠে না থাকে। আওয়ামী লীগ চাইছে এককভাবে ভোটের মাঠ দখলে রাখতে। এমন পরিস্থিতিতে সকল প্রার্থী ও এজেন্টদের নিরাপত্তা এবং মাঠপর্যায়ে লড়াই করা সকল নেতাদের শেষ পর্যন্ত সুরক্ষায় রাখতে চাচ্ছে বিএনপি। শুরুতেই বড় ধরনের কোনো ঝামেলায় যেতে চাচ্ছে না। গ্রেপ্তারের মহোৎসব, প্রচারণায় বাধা, হামলায়ও প্রতিরোধে যাবে না। এ নিয়ে কথা হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের সঙ্গে। তারা বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতিই বিএনপি হাতে রেখেছে। অঙ্কিত ছকেই বিএনপি হাঁটছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন লন্ডন থেকে সবকিছুই মনিটরিং করছে। ভোটের মাঠে টিকে থাকা ও লড়াই করাই দলের প্রধান টার্গেট। প্রথম দশদিন বিএনপি কোনো ধরনের পাল্টা আক্রমণ ও প্রতিরোধে যাবে না। শেষ সপ্তাহে তারেক রহমান নির্দেশ দিলে প্রতিরোধের প্রস্ততিও আছে। দলের অন্য একটি সূত্রের ভাষ্য, কোটা আন্দোলনকারীরা ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে নির্যাতিত হওয়া সব পরিবারই সুযোগের অপেক্ষায় আছে। তারা বিএনপির পক্ষেই আছে। এটি আওয়ামী লীগও জানে। ব্যালটের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগকে প্রতিরোধ করতে দেশের মানুশ প্রস্তুত আছেন। বিএনপি ভোটে থেকে সেই ফলাফল ঘরে তুলতে চায়।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট নেতা-কম র্দের ধরপাকড় করা হচ্ছে, তাতে নিবার্চনের সময় কোনো এজেন্ট পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে চিন্তায় আছে বিএনপি । ধরপাকড়ের এমন অবস্থায় নিবার্চনের সময় কোনো এজেন্ট পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে চিন্তায় থাকার কথা জানালেন দলটির নেতারা।

তারা বলেন, যারা জামিনে আছেন, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। যাদেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তাদের জামিন দেয়া হচ্ছে না। যেসব নেতা-কমীর্র নামে মামলা নেই, মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ চায় না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকুক। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আবারো ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায় সরকার। তারই আলামতের অংশ হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বাধা দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।