চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

কড়া সতর্কবার্তা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী ৭৯

প্রকাশ: ২০১৮-১২-০৭ ২১:০৪:১৪ || আপডেট: ২০১৮-১২-০৮ ১১:৪৭:৫৮

এ ব্যাপারে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল কাজ শুরু করেছেন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কড়া সতর্কবার্তা দেয়া হলেও নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসনে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। দল থেকে আজীবন বহিস্কারের কথা বলার পরও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী সংখ্যা ৭৯ জন বলে ইউএনবির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দলটির সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিরোধী দলের প্রার্থীদের তুলনায় নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়েই তারা বেশী উদ্বিগ্ন।

এ ব্যাপারে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত মঙ্গলবার বলেন, “জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে এই টিম নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করবে এবং নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে কেন্দ্রীয় নেতাদের জানাবে”।

এই দলের অন্য সদস্যরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক এবং আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

এদের মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাননি।

উল্লেখ্য, আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১১তম সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩০০ সংসদীয় আসনে ২৬৪টি মনোনয়ন জমা দেয় আওয়ামী লীগ। তবে, এবারের নির্বাচনে অনেক সিনিয়র নেতা ও সংসদ সদস্যের পরিবর্তে আওয়ামী লীগের টিকিট পেয়েছেন ৪৭ জন নতুন মুখ। এই বিষয়টি কিছু কিছু নেতা অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন।

এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান জানান, “আমাদের আলোচনার প্রক্রিয়া পুরোদমে চলছে। যারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরাসরি দলের মনোনিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আমরা তাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছি”।

এর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন তাদের আজীবন বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বারবার একই ঘোষণা দিয়ে এসেছেন। তবুও হাইকমান্ডের নির্দেশ উপেক্ষা করে ৭৯ জন প্রার্থী বিভিন্ন সংসদীয় আসনে লড়ার জন্য স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এপ্রসঙ্গে দলটির দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে গত মঙ্গলবারের এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, “তারা ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করবেন। আওয়ামী লীগ একটি বড় দল, এখানে অনেক সমস্যা বিরাজমান। আলোচনার পর যদি বিদ্রোহীরা দ্বিমত পোষণ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের জন্য দলে কোনো জায়গা নেই এবং আওয়ামী লীগ থেকে তাদের আজীবন বহিষ্কার করা হবে”।

দলের অন্যান্য সিনিয়র নেতারাও জানিয়েছেন, যথাযথভাবে বিদ্রোহী প্রার্থী সমস্যা সমাধান করা হবে। কেননা নির্বাচনে তাদের উপস্থিতি বিরোধী দলের জন্য লাভজনক হবে।