চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামের ২জনসহ প্রথমদিনে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন ৮০ জন

প্রকাশ: ২০১৮-১২-০৬ ১৮:৫৬:৪৬ || আপডেট: ২০১৮-১২-০৭ ১০:৪৫:৫৪

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে প্রাথমিকভাবে বাদ পড়া ৫৪৩ জন রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছিলেন। তাদের আবেদনের ওপর প্রথম দিনে ১৬০ জনের শুনানি শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর বাধা রইল না।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে সকাল ১০টায় নির্বাচন কমিশনের অস্থায়ী এজলাসে এ শুনানি শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এ আপিল শুনানি করেন। দুপুর পর্যন্ত ৫৬ জন বৈধ, ৪০ জন বাতিল ও দুইজনের আবেদন স্থগিত রাখে ইসি।

প্রথম দিন দুপুরের বিরতির আগে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোর্শেদ মিল্টন, ঢাকা-২০ আসনে ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তমিজ উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, চাপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে তৈয়ব আলি, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি, ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মজিদ, ঢাকা-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক, জামালপুর-৪ ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, পটুয়াখালী-৩ মোহম্মদ শাহজাহান, পটুয়াখালী-১ মো. সুমন সন্যামত, মাদারীপুর-১ জহিরুল ইসলাম মিন্টু, সিলেট-৩ আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জয়পুরহাট-১ ফজলুর রহমান, পাবনা-৩ হাসাদুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ-২ আবিদুর রহমান খান, নাটোর-১ আসনে বীরেন্দ্রনাথ সাহা, সিরাজগঞ্জ-৩ আয়নাল হক, গাজীপুর-২ মাহবুব আলম, গাজীপুর-২ জয়নাল আবেদীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ জেসমিন নূর বেবী, রংপুর-৪ মোস্তফা সেলিম, খুলনা-৬ এসএম শফিকুল আলম, হবিগঞ্জ-২ আসনে মো. জাকির হোসেন, হবিগঞ্জ-১ জুবায়ের আহমেদ, ময়মনসিংহ-৭ জয়নাল আবেদীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আবদুল্লাহ আল হেলাল, ময়মনসিংহ-২ মো. আবু বকর সিদ্দিক, শেরপুর-২ আসনে এ কে মুখলেসুর রহমান, হবিগঞ্জ-৪ মাওলানা মোহাম্মদ সোলায়মান খান রাব্বানী, নাটোর-৪ আলাউদ্দিন মৃধা, কুড়িগ্রাম-৪ মো. ইউনুছ আলী, বরিশাল-২ আনিচুজ্জামান, ঢাকা-৫ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-৩ এ কে এম মুজিবুল হক, মানিকগঞ্জ-১ মো. তোজাম্মেল হক, সিলেট-৫ ফয়জুল মনির চৌধুরী, ময়মনসিংহ-৩ আহম্মদ তাইবুর রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আব্দুল মান্নান, ব্রাক্ষ্মবাড়িয়া-৩ সৈয়দ আনুর আহমদ লিটন, ব্রাক্ষ্মবাড়িয়া-৫ মো. মামুনুর রশিদ, ব্রাক্ষ্মবাড়িয়া-২ আবু আসিফ, ঢাকা-১৪ মো. জাকির হোসেন, পঞ্চগড়-২ মো. ফরহাদ হোসেন, মানিকগঞ্জ-৩ মো. আতাউর রহমান, ময়মনসিংহ-৮ এম এ বাশার, ঢাকা-১৪ সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, কুড়িগ্রাম-৩ আব্দুল খালেক, কুড়িগ্রাম-৪ মো. মাহফুজার রহমান, চট্টগ্রাম-১ মি. নূরুল আমিন, ব্রাক্ষ্মবাড়িয়া-২ মুখলেসুর রহমান, লক্ষ্মীপুর-১ মো. মাহবুব আলম, কুমিল্লা- ৫ মো. ইউনুছ, চাঁদপুর-৫ মো. নেয়ামুল বশির, বরিশাল-২, মোয়াজ্জেম হোসেন, চট্টগ্রাম-৩ মোস্তফা কামাল পাশা।

দুপুরের পর আরও বৈধতা পেয়েছেন রংপুর-১ মো. আসাদুজ্জামান এবং গাইবান্ধা-৩ থেকে মো. আবু জাফর, রংপুর-১ মো. আসাদুজ্জামান।

গত তিন দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৫৪৩টি আপিল জমা পড়ে। প্রথম দিন ৩ ডিসেম্বর ৮৪, দ্বিতীয় দিন ৪ ডিসেম্বর ২৩৭ এবং শেষ দিন গতকাল বুধবার ২২২টি আপিল জমা পড়ে।

শুনানি উপলক্ষে নির্বাচন ভবনের ১১ তলায় ট্রায়াল রুম তৈরি করেছে ইসি।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার প্রথম দিন ১ থেকে ১৬০, দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ১৬১ থেকে ৩১০ এবং তৃতীয় দিন শনিবার ৩১১ থেকে ৫৪৩ পর্যন্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মোট ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল।

গত ২ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাইয়ের পর নানা কারণে ৭৮৬টি বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে অনেকেই প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেছেন।

উল্লেখ্য, আগামী ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। আর ভোট গ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।