চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮

নজিবুলকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন সাইফুদ্দিন!

প্রকাশ: ২০১৮-১২-০৪ ১১:৫১:০১ || আপডেট: ২০১৮-১২-০৪ ১১:৫১:০১

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে প্রার্থী নিয়ে সঙ্কটে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এখান থেকে এমপি হন মহাজোটের প্রার্থী তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। এবারও তিনিই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।

তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নজিবুল বশরকে মেনে নিতে পারছেন না। তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছে।

এরই মধ্যে সামনে এসেছেন মহাজোটের আরেক শরিক সম্মিলিত জোট ও সুন্নি মহাজোটের প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী। তার নিজের দল বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি নিবন্ধিত না হওয়ায় ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

বলেন, ‘চট্টগ্রাম-২ ও ঢাকা-১৪ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে অংশ নেই। তার নির্দেশেই আমি নির্বাচনে নেমেছি।’

সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারী আরও বলেন, ‘প্রথমত নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাও হচ্ছে। তবে বিকল্প হিসেবে মোমবাতি প্রতীকও রেখেছি।’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ইসলামী ফ্রন্টের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হলেও উপজেলায় সাইফুদ্দিনের ক্লিন ইমেজ রয়েছে। সুন্নি আকিদা, সুফিবাদের মতাদর্শীরা ছাড়াও মাইজভান্ডারী তরিকার প্রায় ১ লাখ ভোট ব্যাঙ্ক রয়েছে তার। হেফাজতে ইসলামেরও সমর্থন পাবেন তিনি।’

সাইফুদ্দিনের সমর্থকরা মনে করছেন, প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও তরিকত ফেডারেশনের তৃণমূলে দূরত্ব বেড়েছে। নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে নৌকার প্রার্থী করাই ক্ষুদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। তারা তরিকত ফেডারেশনের এই নেতাকে মেনে নিতে পারছেন না।

স্থানীয় নেতারা নজিবুল বশরকে মহাজোট থেকে মনোনয়ন না দিতে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা এটিএম পেয়ারুল ইসলামের পরিবর্তে নজিবুল বশরকে জোটের প্রার্থী করায় বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিমুদ্দিন মুহুরী বলেন, ‘আমরা তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। এখন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছি। আমরা এখানে দলীয় প্রার্থী চাই। জোটের কাউকে চাই না।’

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিজয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। পরে মানবতাবিরোধী অপরাধে তার ফাঁসি কার্যকর হয়।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এমপি হন তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।