চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

আমি জেল থেকে বলছি ডা. শাহদাত

প্রকাশ: ২০১৮-১২-০৩ ২১:৪৭:০৬ || আপডেট: ২০১৮-১২-০৩ ২১:৪৭:২৩

চট্টগ্রাম কারাগারে অন্তরীণ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে নিজ হাতে লেখা ৬ পৃষ্ঠার একটি খােলা চিঠি দিয়েছে।

শাহাদাতের প্রেস সচিব মারুফুল হক চৌধুরী এবং নগর বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে সেই চিঠিটি প্রেরণ করেন।

চিঠির শুরুতেই ডা. শাহাদাত ‘আমি জেল থেকে বলছি’ শিরোনামে লেখা চিঠিতে নির্বাচনী এলাকার সকল মানুষকে সালাম জানান।

তিনি লিখেন, আমি ডা. শাহাদাত হোসেন (বাকলিয়া-কোতোয়ালী-চকবাজার) চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনের প্রার্থী। চট্টগ্রাম কারাগারের নির্জন সেল থেকে আপনাদের কাছে আমি আমার কিছু কথা তুলে ধরছি।

গত ৭ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম কোর্টে ঢাকায় গ্রেফতারকৃত চট্টগ্রাম মহানগরীর কিছু নেতাকর্মীকে দেখতে গেলে ডিভি পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে ঢাকার মিন্টো রোডে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে আসে। এমন একটা সময়ে আমাকে গ্রেফতার করা হল যখন বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট আওয়ামী লীগ মহাজোটের সাথে ঐতিহাসিক সংলাপ শেষে ওবায়দুল কাদের সাহেব ঘোষণা করলেন বিরোধীদলের আর কোনো নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হবে না। কারো বিরুদ্ধে কোনো গায়েবী মিথ্যা মামলা দেয়া হবে না। অথচ এর ঠিক দু’ঘণ্টার মধ্যে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪ টায় আমাকে গ্রেফতার করা হলো বিনা গ্রেফতারী পরোয়ানায়। ডিবি অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম আমাকে গ্রেফতার করা হলো কেন? আমার অপরাধ কী?

উত্তরে বলা হল, আপনি নির্বাচন করবেন এটাই আপনার অপরাধ। আপনি জনপ্রিয় এটাই আপনার অপরাধ। এরপরে ঢাকায় ৫৪ ধারায় একটি মামলা দেখিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে একদিন ও কাশিমপুর কারাগারে প্রায় ১৫ দিন রেখে চট্টগ্রাম কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ইতোমধ্যে আমি ঢাকা থাকতেই চট্টগ্রামে আমার বিরুদ্ধে ১০টি গায়েবী মামলা করা হয়। ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম কোর্টে আমাকে হাজির করা হয়। আমার জামিন না-মঞ্জুর হয়। কারাগারে আমাকে কোর্ট থেকে ডিভিশনের আদেশ দিলেও যথারীতি আমাকে নির্জন সেলে রাখা হয়। যেখানে ফাঁসির আসামীরা থাকে। চট্টগ্রাম কারাগারে আসার পর গত ১০ দিনেও আমার মায়ের সাথে এখনও পর্যন্ত দেখা করতে দেয়া হয়নি। মিথ্যা গায়েবী মামলায় হাজার হাজার বিএনপির নেতাকর্মীকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। দেশে আজ দুর্নীতি, দু:শাসন, গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র চলছে। গুম, গুপ্তহত্যা, নির্যাতন, মামলা, হামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে বিরোধী দল ও মতকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সরকার।

গত ১০ মাস ধরে তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। এমতাবস্থায় বাকলিয়া কোতোয়ালী চকবাজারসহ ৯ সংসদীয় আসনের সর্বস্তরের জনসাধারণের কাছে একান্ত অনুরোধ, গত ৩২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে একজন রাজনীতিবিদ, পাশাপাশি একজন চিকিৎসক হিসেবে আপনাদের সুখ-দু:খের সাথী হওয়ার চেষ্টা করেছি। ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে, কখনও অগ্নিদুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে, বন্যাদুর্গত এলাকায় কিংবা পাহাড়ধসে অসহায় পরিবারদের মাঝে। বার বার রাজপথে আন্দোলন করেছি, আপনাদের যৌক্তিক হোল্ডিং ট্যাক্স কমানোর দাবী নিয়ে কিংবা বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সরবরাহের দাবী নিয়ে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কিংবা জলবদ্ধতা নিরসনের দাবী নিয়ে। আজকে যারা আমাকে কিছু গায়েবী মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি রেখে খোলা মাঠে গোল দিতে চায়, হয়তোবা দেখা যাবে এরা এ সংসদীয় আসনের ভোটারও না। তাদের এই অমানবিকতার বিরুদ্ধে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপনারা একজন নিজেকে বেগম খালেদা জিয়া কিংবা ডা. শাহাদাত হোসেন মনে করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হউন। যে বাংলাদেশ হবে নিরাপদ, যেখানে আমার ছাত্রছাত্রী ভাইবোনদের যৌক্তিক কোটা সাংস্কারের দাবী পূরণ হবে। ৪ কোটি বেকার তাদের কর্মসংস্থানের উপায় খুঁজে পাবে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা পাবে, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ও সাম্যতা-মানবিক মর্যাদা সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।
সংগ্রামী ৯ সংসদীয় আসনের এলাকাবাসী, আপনাদের প্রতি দেশের এই চরম ক্রান্তিকালে অনুরোধ থাকবে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর আপনারা আপনাদের সাংবিধানিক অধিকার ভোটের অধিকার স্ব স্ব ভোট সেন্টারে গিয়ে প্রতিষ্ঠা করুন। ধানের শীষ প্রতীকে আপনার একটি মূল্যবান ভোট অন্ধকার কারাগারে থেকে আমাদের দেশমাতার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। আমিসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী গায়েবী মামলার শিকার হয়ে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি আছি- তাদের মুক্তির পথ দেখাবে।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোক।

ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। গণতন্ত্র মুক্তি পাক, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।