চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

খালেদা জিয়াসহ দণ্ডিতরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, আপিল বিভাগের রায়

প্রকাশ: ২০১৮-১২-০২ ১২:১৫:২১ || আপডেট: ২০১৮-১২-০২ ১২:১৫:২১

বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা কিংবা দণ্ড স্থগিত হলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে দুর্নীতির দায়ে কমপক্ষে দুই বছর সাজা হলে নির্বাচনের সুযোগ থাকছে না দণ্ডিত ব্যক্তির।

রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে শনিবার বিশেষ ব্যবস্থায় চেম্বার আদালতের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে বিষয়টি শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

রবিবার আপিল বিভাগে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অপরপক্ষে শুনানি করেন এ জে মোহাম্মদ আলী। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম।

গতকাল আদেশের পরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, এ আদেশের ফলে সাবিরা সুলতানার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি না আগামীকাল আপিল বিভাগ অন্য কোনো আদেশ না দেন।

গত ২৯ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে ঝিকরগাছা উপজেলার চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানাকে বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা ও দণ্ড স্থগিত করে বিচারপতি মোহাম্মদ রইস উদ্দিনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশ দেন।

পরে সাবিরা সুলতানার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম জানান, বিচারিক আদালতের দেওয়া সাবিরা সুলতানার সাজা ও দণ্ড স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এই আদেশের পর থেকে যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান তারা হাইকোর্টে সাজা বা দণ্ড স্থগিত চেয়ে আবেদন করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছিলেন, সংবিধান অনুসারে দুই বছরের অধিক সাজাপ্রাপ্ত ব্যাক্তির নির্বাচনে অংশ নিতে অযোগ্য হবেন। তাই হাইকোর্টের এই একক বেঞ্চের আদেশের বিরুদ্ধে আমরা আপিলে যাব।

সাবিরা সুলতানার ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ২৪ মে সাবিরা সুলতানা তার ৫৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকা সম্পদের হিসাব জমা দেন দুদকে। পরবর্তী সময়ে দুককের অনুসন্ধানে দেখা যায় ৪৫ লাখ টাকার সম্পদের বিষয়ে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়াসহ ১ কোটি ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকার সম্পত্তি অসাধু উপায়ে অর্জন করেছেন সাবিরা সুলতানা। যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

ওই ঘটনায় গত ২০১০ সালের ২০ জুলাই সৈয়দ আহমেদ (দুদকের সহকারী পরিচালক) বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ওই বছর ২৫ জুলাই ৯ জনকে সাক্ষী করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০১১ সালের ৯ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।