চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

মানুষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: কার দৌড় কতদূর

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৯ ১১:১৮:৫৪ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৯ ১১:৫৮:২৭

ফজলুর রহমান

‘হ্যালো, আপনারা এখন ইংরেজি খবর দেখছেন। আমি আপনাদের জানাতে চাই, এই সিস্টেমে কোনো টেক্সট দেওয়া হলে আমি নির্বিঘ্নে তা পড়তে পারি। এর মাধ্যমে আমি আপনাদের একটি নতুন অভিজ্ঞতা দিতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’ এসব মানুষের কথা নয়। মানুষরূপী রোবটের কথা। এটি ৮ নভেম্বর, ২০১৮ এর দিনে ঘটে। প্রথমবারের মতো টেলিভিশনের পর্দায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক উপস্থাপক। পর্দায় এসে ইংরেজিতে ওই সংবাদ উপস্থাপক এসব বলা শুরু করে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া তাদের টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে ‘এআই নিউজ রিডারের’ পরিচয় করিয়ে দেয়। স্যুট-টাই পরা ওই সংবাদ উপস্থাপককে দেখলে প্রথমে মনেই হয় না, তিনি ‘মানুষ’ নন। শুধু কথা বলার ধরন যদি কিছুটা রোবটের মতো না হতো, তাহলে কারও বোঝার উপায় থাকত না, এটি আসলে এআই-নির্ভর একটি রোবট। সংবাদ উপস্থাপকের কণ্ঠস্বর, তার ঠোঁটের নড়ন-চড়ন এবং অভিব্যক্তি গড়তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়েছে। সিনহুয়ার সংবাদ পাঠকদের অঙ্গভঙ্গি নকল করে তা করা হয়েছে। সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা জানায়, কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই সপ্তাহের প্রতিদিনই প্রতিটি ঘণ্টা কাজ করতে পারবে এই সংবাদ উপস্থাপক। ফলে টেলিভিশনের ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। যে কোনো ব্রেকিং নিউজের ক্ষেত্রে এআই সংবাদ উপস্থাপক ভালো করবে বলেও দাবি করেছে সিনহুয়া। সংস্থাটির দাবি, শুধু লিখে দিলেই AI উপস্থাপক তা পড়ে যেতে পারবে। তাই সময় বাঁচবে। তাড়াহুড়ায় ভুল হওয়ার যে আশঙ্কা থাকে, এআই সংবাদ উপস্থাপকের বেলায় একেবারেই থাকবে না। এভাবেই চীনে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংবাদ উপস্থাপক চালু হলো। বলা হচ্ছে, বিশ্ব প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সংবাদ উপস্থাপক দেখতে পেল।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আরেকটি ঘটনা বলি। ২০১৮ সালের এপ্রিলে ১০ জনের একটি চক্র দুবাইয়ের একজন বিটকয়েন বিক্রেতার কাছ থেকে প্রায় ১৯ লাখ মার্কিন ডলার ডাকাতি করে নিয়ে যায়। দুবাই পুলিশকে এই ডাকাতির বিষয়ে অভিযোগ করা হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি আলাদা জায়গা থেকে পুরো চক্র হাতিয়ে নেওয়া অর্থসহ ধরা পড়ে। এই কেরামতি দেখে অনেকে অবাক। এত কম সময়ে পুরো একটি চক্রকে আটক করা কীভাবে সম্ভব হলো? এরপর বেরিয়ে আসে দুবাই পুলিশের অপরাধী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের কথা। তথ্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণে বেশ কয়েক বছর ধরেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তির ব্যবহার করছে দুবাই পুলিশ। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ইতিমধ্যে শতাধিক লুকিয়ে থাকা অপরাধীকে আটক করা হয়েছে! এ ছাড়া আরও প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন অপরাধীকে শনাক্ত করা হয়েছে! এ প্রযুক্তিতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মুখাবয়ব শনাক্তকরণ সুবিধাও রয়েছে। এছাড়া থানায় গিয়ে মামলা,বিচার আর জরিমানাসহ সাধারণ যা কিছু করা যায়, সবই করা যায় দুবাইয়ের চালকবিহীন ভ্রাম্যমাণ থানায়। দুবাই পুলিশের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের এ আরেক নমুনা। মিনিবাস আকৃতির এই চালকবিহীন ও পুলিশবিহীন থানাটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে চলে। প্রয়োজন পড়লে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এই ভ্রাম্যমাণ থানা। ঘটনার তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, ভুক্তভোগীর অভিযোগ গ্রহণসহ সাধারণ জরিমানাও আদায় করতে সক্ষম এই চালকবিহীন ভ্রাম্যমাণ থানা!

২০১৭ সালে বাংলাদেশ সফরে আসে রোবট সোফিয়া। এ সময় নানা আলাপনে মেতেছিল এই যন্ত্রমানবী। ঠিকঠাক কথা বলেছে, জবাব দিয়েছে। আর এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence বা AI ) এ যুগে এটাই ঘটে যাচ্ছে। ১৯৪৩ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রথম কাজ করেন আমেরিকান গবেষক ম্যাককলস (১৮৯৮-১৯৬৯) ও পিট (১৯২৩-১৯৬৯)। এলান টিউরিংকে বলা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক। ১৯৫০ সালের দিকে এলান টিউরিং একটি মেশিন বুদ্ধিমান কিনা, তা পরীক্ষা করার জন্য একটি টেস্ট এর কথা উল্যেখ করে গিয়েছেন, যা টিউরিং টেস্ট নামে পরিচিত। আর ১৯২০ সালে চেক নাট্যকার কারেল ক্যাপেক (একটি সায়েন্স ফিকশান থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধারণা পাওয়া যায়। ক্যারেল তাঁর আরইউআর নাটকে রোবট কথাটা প্রথম ব্যবহার করেন। সেই নাটকের ‘অধিকারবিহীন শ্রমিক রোবটরা’ বিদ্রোহ করে মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করার কাজে নেমে পড়েছিল! সায়েন্স ফিকশনের মানবাকৃতির ভয়ংকর রোবটের দেখা পেতে এখনো হয়তো অনেক সময় বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে রোবট মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে নানা জায়গায়। আর সবচেয়ে বেশি আশা ও আশংকা চলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় পরিচালিত রোবট নিয়ে। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে ইংরেজ গণিতবিদ এ্যালেন টিউরিং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উদ্ভব হয়। তারপর থেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণা শুরু। কম্পিউটার অবিষ্কারের পরবর্তীতে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে কম্পিউটার সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট, রোবটসহ বিভিন্ন মেশিনে। গুগল, অ্যাপল, মাইক্রোসফট সহ বিশ্বের ছোট-বড় অনেক কোম্পানি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে মেতে উঠেছে। এর একমাত্র কারণ হলো মেশিনকে বুদ্ধি দিয়ে নিজে নিজে কাজ করা শেখানো। এতে আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা যায়। কাজে গতি আনা যায়। সময় ও শ্রম সাশ্রয়সহ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে অনেক কোম্পানি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করে চলেছে। কেবলু কম্পিউটার টেকনোলজিতে নয়- মার্কেটিং, ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, রিসার্চ, আটোমোটিভ, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্য, টেলিকমিউনিকেশন সহ আরও অনেক ক্ষেত্রে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক শুরু হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা:
জ্ঞান আহরণ ও তা প্রয়োগ করার ক্ষমতার নামই বুদ্ধি। মেশিন বা প্রোগ্রামগুলো নিজ থেকেই জ্ঞান অর্জন করতে পারে না। কিন্তু যেসব মেশিন বা প্রোগ্রাম এমন ভাবে তৈরি করা হয়, যেন নিজে নিজে কিছু শিখে নিতে পারে, সেগুলোকে আমরা বলি বুদ্ধিমান প্রোগ্রাম বা বুদ্ধিমান মেশিন। মানুষ এমনিতে খুব বুদ্ধিমান। আছে সৃষ্টিশীলতা। বিবেচনাবোধেও অনন্য। সমস্যা-সমাধানেও অতুলনীয়। এখন এই মানুষের হাতেই তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মেকানিজম। মানুষের সাধারণ আচরণ, কথাবার্তা বুঝতে পারবে কিংবা কোনো নির্ধারিত কাজ নির্দেশনা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারবে-এমন বিশেষ প্রগ্রামই হলো ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু রোবটেই নয়, আরো অনেক যন্ত্র, এমনকি কম্পিউটার প্রগ্রামেও প্রয়োগ করা হয়। মেশিনকে মানুষের মতো বুদ্ধিমান করার লক্ষ্য ও সায়েন্সই হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার/যন্ত্র দ্বারা অনুকৃত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর লক্ষ্য হচ্ছে কম্পিউটার বা মেশিনকে মানুষের মত জ্ঞান দান করা। মানুষের মত চিন্তা করার ক্ষমতা দান করা এই মেশিনকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়, সে অনুযায়ীই কাজ করবে। এর বাহিরে নিজ থেকে কিছু করতে পারবে না। একটা রোবটের কথা ধরা যাক, রোবটের বুদ্ধিই হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মূলত মেশিন দ্বারা প্রদর্শিত বুদ্ধি। আমরা বর্তমানে নানাভাবেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্মুখীন হচ্ছি। বর্তমানে ডিভাইস, আ্যাপস, প্রোগ্রাম সবখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরশে আমরা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার
চলমান অগ্রসরতা দেখে অনেকেই ধারণা করছেন, ভবিষ্যতে দুনিয়ার প্রায় সব কাজই হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ইতিমধ্যে মানুষের মৃতদেহকে প্রথা মেনে বিদায় জানাতেও প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে জাপানিরা। তারা এমনই এক রোবট তৈরি করেছেন যা মানুষের শেষকৃত্য সম্পন্ন করবে। হিউম্যান সাইবারনেটিক এইচআরপি রোবটটি অবিকল মানুষের মতো দেখতে। এর মুখায়ববে জাপানি মেয়ের চেহারা নিখঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যাকে দেখে আপনার মনে হতে পারে ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী কোনো মেয়ে। এটি সুন্দর মুখায়বব এবং কাঁধ পর্যন্ত চুলের অধিকারী এক অপরূপ সুন্দরী নারী রোবট। এই রোবটটির বিশেষত্ব হচ্ছে এটি একটি মডেল কন্যা। এই মডেল রোবট নানা রকম ড্রেস পরে মোট ৪২ রকমের স্টাইলে ক্যাটওয়াক করতে পারে। এর ব্যবহার অনেকটা স্বাভাবিক মানুষের মতো! এ ধরনের রোবটের মতো আরও কিছু রোবট রয়েছে যারা দেখতে শুধু সুন্দরীই নয় বরং কেউ ওদের বিরক্ত করলে বা বাজে ব্যবহার করলে সঙ্গে সঙ্গে ইলেকট্রিক শক দেয় এবং প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ পর্যন্ত জানাতে পারে।

লন্ডনের বিজ্ঞান মিউজিয়ামে শুধু ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ‘রোবট’ নামের শতাধিক রোবট নিয়ে একটা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। প্রদর্শনীর কিউরেটর অ্যানা ড্যারন বলেন, ‘বিশেষ করে বিনোদনের জন্য হিউম্যানয়েড রোবট কাজে লাগানোর তাগিদ দেখা যায়। রোবট এখন কথা বলতে পারে, কথোপকথন করতে পারে মানুষের সঙ্গে। এমনকি মানুষের সঙ্গে যৌনমিলনও করতে পারে সেক্স রোবট! লন্ডনের বিজ্ঞান মিউজিয়ামে ‘রোবোথেসপিয়ান’ নামের অভিনেতা রোবট আছে। স্বয়ংক্রিয় অভিনেতা রোবোথেসপিয়ান অবিকল মানুষের মতো দেখতে একটি ‘হিউম্যানয়েড’ রোবট। সে সবাইকে বলে, ‘যন্ত্র মানবের মুখোমুখি হতে চিরকালই একটু ভয় করে। কয়েক শতক ধরে প্রত্যেক প্রজন্মের নিজস্ব অভিজ্ঞতা হয়েছে। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধরনের রোবট তৈরি হয়েছে। রোবটদের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা না থাকার একটা অস্বস্তি আমাদের, মানে আপনাদের মধ্যে কাজ করে।’ তৈরি হচ্ছে সেক্স রোবটও।’ রোবটিক্স বিশেষজ্ঞ ড. রিচার্ডসন বলেন, ‘রোবট শিল্পে এখন ক্রমবর্ধমান হারে নজর দেওয়া হচ্ছে সেক্স রোবটের দিকে। এগুলো দেখতে কেমন হবে, কী কাজ সেগুলোকে দিয়ে করানো হবে তার নকশা তৈরি করা হচ্ছে, যা খুবই পীড়াদায়ক’। অ্যাবিস ক্রিয়েশনস নামে একটি প্রতিষ্ঠান পুরুষ ও নারীদের ‘সেক্স টয়’ বিক্রি করে তারা তাদের পণ্যকে যান্ত্রিক করে তুলতে শুরু করেছে। ড. রিচার্ডসন বলছেন, ‘এর ফলে নারীদের সম্পর্কে প্রাচীন সেই ধারণাটিই পোক্ত হবে যেখানে নারীদেরকে যৌন-সঙ্গী বলে আর কিছুই মনে করা হয় না।’

২০১৮ সালে শীতকালীন অলিম্পিক গেমসে ১১ ধরনের ৮৫টি রোবট ব্যবহার করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ১১ ধরনের রোবটের মধ্যে একটি ছিল হিউম্যানয়েড। হাঁটার পাশাপাশি অলিম্পিক মশাল বহন করে এই রোবট। খেলা চলাকালীন মাঠের দেয়ালে চিত্র এঁকেছে কিছু রোবট। আর কিছু মাঠে সরবরাহকারী এবং ফিশিং রোবট দেখা গেছে। এ ছাড়া কথা বলতে পারে এমন রোবটও ছিল উইন্টার অলিম্পিকসে। সময়সূচি, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং দর্শনীয় স্থান বা বস্তু নিয়ে তথ্য দেবে এই রোবটগুলো। কোরিয়ান, চাইনিজ, জাপানিজ এবং ইংরেজি ভাষায় কথা বলেছে এগুলো। পরবর্তী সামার অলিম্পিকসের আগে পুরো একটি ‘রোবট ভিলেজ’ বানানোর আশা করছে জাপান।

চীনের একটি ব্যাংকে নিরলস কাজ করে যায় একদল রোবট কর্মকর্তা। চীনের ‘চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক (সিসিবি)’ তাদের সাংহাই শাখাটি সম্পূর্ণভাবে পরিচালনা করছে কিছু অত্যাধুনিক যন্ত্রমানব বা হিউম্যানয়েড রোবট দ্বারা। এই শাখাটি পরিপূর্ণভাবেই প্রযুক্তিনির্ভর। এটি পরিচালিত হয় ভার্চুয়াল রিয়ালিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মুখমন্ডল শনাক্তকরণ পদ্ধতিসহ ইত্যাদি অভিনব প্রযুক্তির সহায়তায়। এই ব্যাংকে প্রবেশ করলেই দেখা মেলবে কিছু বন্ধুসুলভ রোবটের। যাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যাবে, প্রয়োজনের কথা বলা যাবে। তারা কথা শোনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। সাহায্য করার জন্য সর্বদাই প্রস্তুত রয়েছে। ব্যাংক হিসাব খোলা, অর্থ স্থানান্তর, বৈদেশিক লেনদেনসহ ব্যাংকিং সেক্টরের নানা কাজ করে দিতে পারে এই রোবটরা। অন্যান্য ব্যাংকগুলোর মতো এখানে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় না। এই রোবট ব্যাংক কর্মকর্তারা তুলনামূলক দ্রুত সেবা দিতে সক্ষম।

ঘরের কাজেও সাহায্য করার জন্য রয়েছে নানা রকম হিওম্যানয়েড রোবট। এরা ঘরের কাজে সাহায্য করবে, চা বানিয়ে দিবে, এমনকি রান্নাবান্নার কাজেও এ ধরনের রোবটগুলো বিশেষভাবে উপযোগী। এরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজেও ব্যবহৃত হয়। কিসমত নামের একটি বিশেষ ধরনের রোবট মানুষের মুখের অনুভূতিকে নিজের মাঝেও ফুটিয়ে তুলতে পারে। হামবুর্গের মার্টিনি ক্লিনিকে সারা দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রস্টেট অপারেশন করা হয়। এই অপারেশন করেন নামকরা শল্য চিকিৎসকরা। এমনিই একজন প্রফেসর আলেক্সান্ডার হ্যেজে প্রস্টেট অপারেশনের স্পেশালিস্ট। তার সহকারী কিন্তু একটি রোবট। এই রোবটই প্রফেসর হ্যেজেকে শরীরের একটি ক্যান্সারগ্রস্ত অংশ পুরোপুরি কেটে বাদ দিতে সাহায্য করে। এই রোবট আর সার্জন মিলে এ যাবৎ মোট ৭৫০টি অপারেশন করেছেন! নায়ক রোমান্স করবে ঠিকই কিন্তু যার সঙ্গে করবে সেই নায়িকা নাকি রক্ত-মাংসের মানুষ নন। ঘটনাটি দেখা যাবে একটি জাপানি ছবিতে। ছবির নায়িকা এখানে অ্যান্ড্রয়েড রোবট। দুবাই বিমানবন্দরে ম্যাকডোনাল্ডসের দোকানে অর্ডার নেওয়ার কোনো মানুষ থাকে না। গ্রাহক নিজেই অর্ডার আর টাকা দিয়ে দিতে পারে। দুবাইয়ের ম্যাকডোনাল্ডস কিংবা চীনের একাধিক হোটেলের ক্লিনারের চাকরি খেয়ে ফেলেছে তারা এরই মধ্যে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিভাবে হুমকি?
কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে জড়িয়ে আছে। কোনকিছু আমাদের যেন সব সময় অনুসরণ করছে। অশরীরী আত্নার মতো অদৃশ্য হয়েও আছে কখনো তা। এরফলে ‘আমার আমি’ বলতে তেমন কিছু আর থাকছে না। স্মার্টফোন, আইফোন, ঘড়সিহ নানা ডিভাইস থেকে তথ্য নিজের অজান্তেই চলে যাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাশিযার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার শত্রু হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্ত¡াকে অভিহিত করেছেন। আরেক প্রতিভাবান বিজ্ঞানী ইলন মাস্ক সতর্ক করে দিয়েছেন যে এই আবিস্কার মানব সভ্যতাকে ঝুঁকির মাঝে ফেলবে। তিনিসহ ১১৬ জন শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী জাতিসংঘের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন যেন AI-কে নিয়ন্ত্রণের মাঝে আনা হয়। অনেক বিজ্ঞানী আশংকা করছেন, ভবিষ্যতে রোবট মানুষের জায়গা দখল করে নেবে। মানুষকে খুন করার মতো কাজও নাকি করতে পারবে রোবটরা! ইতিমধ্যেই প্রায় ২ হাজার বিজ্ঞানী, তথ্য প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গবেষক রোবটের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করে প্রচারণা শুরু করেছেন। এর সঙ্গে একমত পোষণ করতে সম্পৃক্ত হয়েছেন রোবট নিয়ে উদ্বিগ্ন আরও প্রায় ১০ হাজার মানুষ। প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘ফিউচার অফ দ্য লাইফ ইনস্টিটিউট’ থেকে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট এখন মৌলিক রচনাও কিছু কিছু লিখছে, মিউজিক সৃষ্টি করছে, রিপোর্ট তৈরি ও উপস্থাপনা করছে। উদ্ভাবনের গবেষণায় একে প্রচুর ব্যবহার করা হচ্ছে, অন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণায়ও হচ্ছে। বহুদিন ধরেই শিল্পকারখানার কাজ রোবট শ্রমিকের দ্বারা করানো হচ্ছে।

১৯৯৭ সালে ‘ডীপ বøু’ নামের একটি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রোগ্রাম হারিয়ে দেয় বিশ্বখ্যাত দাবার গ্রান্ডমাস্টার চ্যাম্পিয়ন গ্যারি কাসপারভকে। এভাবে মানুষ হারার সম্ভাবনা ক্রমেই প্রবলতর হচ্ছে। বুদ্ধিমান মেশিনের উত্থানের ফলে ভবিষ্যতে মানব জাতির অস্তিত্ব বিলোপের আশঙ্কাও করা হচ্ছে। মেশিনের হাতে মানব জাতির বিলুপ্তির আশঙ্কাটি খুবই স্বাভাবিক; বিশেষ করে আমাদের টেক্কা দেওয়া মারণাস্ত্র সৃষ্টির মাধ্যমে। সদ্য প্রয়াত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসের মতো গুণী ভবিষ্যৎ-বিশ্লেষক এ ব্যাপারে কড়া সতর্কবাণী একাধিকবার দিয়েছেন। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া অ্যালেক্স গারল্যান্ডের এক্স–মেশিনা চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দেখানো হয়েছে মানবজীবনের প্রতি হুমকি হিসেবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) রয়েছে এমন রোবট কিংবা সেবা মানবজীবনের জন্য হুমকি হতে পারে। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এ পদ্ধতি দারুণ কিছু উদ্ভাবন কিংবা নানা ক্ষেত্রে উন্নয়নে সহায়তা রাখছে এটি যেমন সত্য, তেমনি মানবজীবনের জন্যও এআই হুমকিস্বরূপ’। মাইক্রোসফট রিসার্চের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের প্রধান এরিক হরভিটজ বলেন, ‘আমরা নানা ধরনের গবেষণা করে যাচ্ছি এবং দেখা যাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতিতে এ ধরনের বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বিষয়গুলোর নিয়ন্ত্রণও একসময় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিষয়টি যে নাও ঘটতে পারে সেটিও উল্লেখ করে এরিক জানান, এমনই যে হবে এমনটাও নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি এআই পদ্ধতি গবেষণার ক্ষেত্রে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে’। প্রযুক্তির সুবিধাগুলোকে ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিও নিজেদেরই নির্ধারণ করার পক্ষে মত দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

বেকারত্ব বিষয়ে:
বিশ্বের ৪৬টি দেশের ৮০০ পেশা বিশ্লেষণ করে গ্লোবাল বিশ্লেষক ম্যাককিনসে জানাচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৮০ কোটি কাজ চলে যাবে রোবটের হাতে। মেশিন অপারেটর, ক্লিনার, গাড়িচালক, ক্যাশিয়ার এবং ম্যাকডোনাল্ডসের মতো খাবার দোকানের কর্মীরা সবচেয়ে বেশি চাকরি হারাবেন। মাত্র ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ইতিমধ্যে চালু হয়ে যাওয়া অধিকাংশ কাজ মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান মেশিন ভালো করবে এবং ৫০ বছরের মধ্যে আজকের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব কাজ তারা নিয়ে নেবে। ২০২৬ সালের মধ্যে প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে যে রচনা লিখতে হয় সে পর্যায়ের মৌলিক রচনা নিখুঁতভাবে লিখবে। জাপানে ইতিমধ্যে বুদ্ধিমান মেশিনের রচিত ছোট উপন্যাস সাহিত্য পুরস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে বিবেচিত হতে পেরেছে। টেলিফোনে যারা গ্রাহকসেবা দেন তাদের সব কাজের দায়িত্ব ২০২৪-এর মধ্যে মেশিন নিতে পারবে। বেশ কয়েকটি বড় খাতে আগামী ১০ বছরের মধ্যে মেশিনের একচেটিয়া ভালোভাবে চালু হয়ে যাবে, যেমন ভোক্তা পর্যায়ে বিপণন। প্রযুক্তির উন্নয়নে জৈবিক মানুষের চাকরি ও কাজ আজ হুমকির মুখে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন ভবিষ্যতের পৃথিবীতে মানুষের প্রায় সব কাজই করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট। সুতরাং বিশ্বেজুড়ে বুদ্ধিমান মেশিনের বিরূপ প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না মানুষ। এর প্রভাব পড়বে বিশ্ববাজারগুলোতে। ব্যাপক কাজ হারানোর ফলে নানা বিপর্যয় আসতে পারে। সে অবস্থা নিয়ে তাই এখনই ভাবনা-চিন্তা দরকার।

কার দৌড় কতদূর:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) পৌঁছাবে মানুষের বুদ্ধিমত্তার সমপর্যায়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। অস্ট্রেলিয়ার নিউসাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক টবি ওয়ালশের মতে, ‘২০৬২ সালের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টেক্কা দেবে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া, সৃজনশীলতা এবং আবেগের বহিঃপ্রকাশও ঘটাতে পারবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এ ধরনের প্রযুক্তি পৃথিবীতে এরই মধ্যে গুণগত পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলেছে। কোনো ধরনের যন্ত্র ছাড়াই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক স্মার্ট পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এটি কোন দিকে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে আমাদের কী ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছুটা ঘাবড়াতে শুরু করেছেন। গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। বিষয়টি ধীরে ধীরে সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমরা অনেকেই স্মার্টঘড়ি ব্যবহার করি, যা আমাদের রক্তচাপ বা হৃদস্পন্দনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর নজরদারি করে। এসব যন্ত্রের নির্মাতা বা সেবাদাতাদের নীতিমালা থেকে বোঝা যায়, তথ্যের মালিকানা আর ব্যবহারকারীর হাতে থাকছে না। তাই যন্ত্রের কার্যক্রমের জবাবদিহিতার নীতিমালা ঠিক করা হবে দ্বিতীয় মৌলিক পরিবর্তন। স্বতন্ত্র এ যন্ত্রগুলো ভবিষ্যতে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিই বদলে দেবে।’

ম্যাককিনসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব কাজ ‘মানবিক’ সেগুলো টিকে যাবে। যেমন স্বাস্থ্যকর্মী, উকিল, শিক্ষক, এমনকি বারটেন্ডারসহ বাগানের মালি, কেয়ারটেকার। তা ছাড়া সম্পূর্ণ নতুন অনেক ক্ষেত্র তৈরি হবে, যাতে প্রয়োজন হবে ‘মানবিক মিথস্ক্রিয়ার’। এসবের জন্য তিনটি প্রধান অস্ত্র হবে-চতুরীয় চিন্তার (ক্রিটিক্যাল থিংকিং) অধিকারী হওয়া, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা। অনেক বিশ্লেষক ধারণা করছেন, বুদ্ধিমান মেশিনের কারণে এই নতুন শিল্পবিপ্লব মানুষের কাজের দীর্ঘ সময়কে কমিয়ে দিয়ে জীবনকে অনেক বেশি উপভোগ্য করবে, পছন্দসই গতি আনবে। দুনিয়ার অনেক চিন্তাবিদ সম্প্রতি এই একই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন অগ্রণী প্রযুক্তি ব্যবসায়ী এলোন মাস্ক, ব্রিটিশ জ্যোতিঃপদার্থবিদ মার্টিন রিজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিজ্ঞানী অধ্যাপক নিক বোস্ট্রম, এমআইটির মহাবিশ্ব-বিজ্ঞানী ম্যাক্স ট্যাগমার্ক প্রমুখ। তাদের সবার কথা এই ভয়ঙ্কর সম্ভাবনাকে অবহেলা করার সুযোগ নেই; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করার জন্য এখনই বিশ্ব-ঐকমত্যের ভিত্তিতে নিয়ম-নীতি প্রতিষ্ঠিত করা জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন।

যে কোন আবিষ্কার বা উদ্ভাবনে আশা ও আংশকা দুটি দিক নিয়ে আলোচনা হয়ে আসছে। সেটা দেখা গেছে গ্যালেলিও থেকে গেটস অবধি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রবাহকে বাধা দেয়া যাবে না। দেয়াটা সফলও হয় না। তবে এটা যেন লাগামহীন হয়ে মানুষ তথা বিশ্বজগতে বিপর্যয় ডেকে না আনে সে ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে। এজন্য গাইড লাইন অনুসরণও করা যেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গত কয়েক বছরে প্রায় সবখানে সদর্পে বিচরণ করছে। ওরা মানুষকে বদলে দিতে প্রস্তুত। মানুষের জীবনের গতিধারা পরিবর্তনেও কাজে আসতে প্রস্তুত। মাুনষের মতোই লক্ষ্য স্থির করে এই বুদ্ধিমত্তা করণীয় বুঝতে পারে, চিনতে পারে, এমনকি বিশ্লেষণও করতে পারে। আমরা আপাতত, এর ইতিবাচক দিকটা নিয়ে আরো অগ্রসর হতে পারি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে জীবনকে আরো সহজ করতে পারি। বিশ্বজগতের বৃহত্তর কল্যাণে প্রয়োগ করতে পারি। কারণ এই বুদ্ধিমত্তার জন্মও যেমন মানুষের হাতে, ধ্বংসও তেমন মানুষের হাতে। নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠির উত্তম ব্যবহারেই তাই সমাধান দেখছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকগণ।

লেখক: সহকারী রেজিস্ট্রার (সমন্বয়), ভাইস চ্যান্সেলর অফিস, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। সিটিজি টাইমস -এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই সময়ের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখার জন্য সিটিজি টাইমস কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।