চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

আনোয়ারায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আমন ধানের ফলন বেশি, কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৮ ০০:১০:১১ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৮ ০০:১০:১১

এস,এম,সালাহ্ উদ্দীন

আনোয়ারায় ১১টি ইউনিয়নে আমন ধানের এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ফলন বেশি হয়েছে। উপজেলার কৃষকরা আগের সব লোকসান কাটিয়ে লাভের আশা করছেন। তাইতো কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক।উপজেলা বারশত ইউনিয়নের কৃষক মোঃ আলী ১০ একর জমিতে আমন চাষ করেছেন। ফসলও বেশ ভালো হয়েছে। তাইতো হাসি মুখেই বলেন, কয়েক বছর ধরে ধান আবাদ করে চরম লোকসান হচ্ছিল। এবার আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে।ফলন ও ভালো হয়েছে। ভালো হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনা, কৃষি অফিসারদের আন্তরিকতা, এবার রাসায়নিক সারের তুলনায় জৈবসার প্রাধান্য দিয়েছি আমরা যার কারণে ফলন ভালো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আরও কয়েকদিন সময় লাগবে ধান কাটতে। এরপর শুরু হবে ধান মাড়াইয়ের কাজ।মোঃ আলীর মতো উপজেলায় অনেক কৃষক এবার চলতি মৌসুমে লাভের আশা করছেন।

উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর নুুর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বীজ তলা থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। এবার আশা করছি ধানের ফলন পাওয়া যাবে বিঘা প্রতি প্রায় ১২ মণ পর্যন্ত। নতুন ধানের গন্ধে ভরে উঠবে মন। ধান বিক্রি করে ছেলে মেয়ের নতুন জা”মা,জুতা, বই,খাতা, কলমসহ নবান্যের উৎসবে মেতে উঠবে আমাদের গ্রামেরঋ কৃষক।

উপজেলার বারশত,হাইলধর,বরুমচড়া,চাতরী,আনোয়ারা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে ধান কাটার এমন চিত্র। শ্রমিকরা ধানের বোঝা নিয়ে ফিরছেন জমির মালিকের বাড়ির বাড়িতে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণে অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ধানের লক্ষ্যমাএার চেয়ে বেশি ফলন হয়েছে উপজেলায়। কৃষকরা এবার লাভেরও মুখ দেখবেন এমনটাই আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, গত দুই-তিন বছরের তুলনায় এবারে ধানের লক্ষ্যমাএার চেয়ে বেশি হয়েছে।আনোয়ারায় ৬৭৫০হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে,প্রতি হেক্টরে ৫.৪৫মেক্টিক্টন ধান উৎপাদন হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প বিশেষ করে,চাষী পর্যায়ে উন্নতমানের ধান বীজ উৎপাদন, সংরক্ষন ও বিতরণ প্রকল্প বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে নতুন নতুন ধানের জাত এই মৌসুমে অত্র উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ব্রি ধান-৭২ ও বিএডিসির নতুন হাইব্রিড win-207 খুব ভাল ফলন দিয়েছে।

তাছাড়া এইসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১০০০ কৃষক ও কৃষানীকে ধানের উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের ধানের বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে সরকারের সঠিক পরিকল্পনা প্রনয়ন এবং এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কারণে কৃষি ক্ষেত্রে আজ এই সফলতা। আগামী বোরো মৌসুমে পানির উৎসের প্রতি খেয়াল রেখে বোরো ধান চাষের পরামর্শ প্রদান করা হলো। কারণ পর্যাপ্ত পানি না থাকলে বোরো ধান চাষ করা ঠিক হবে না