চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

আসন বণ্টন নিয়ে ঐক্যফ্রন্টে ‘দূরত্বের খবর’

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৭ ১১:৫৭:৪৭ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৭ ১৬:৪৯:০৮

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আর দুই দিন সময় থাকতেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির শরিকরা জানতে পারছে না কোথায় কোথায় তাদের নেতারা ভোটে দাঁড়াবেন।

বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের ২০টির মতো আসন ছাড়তে চায় বলেই নেতাদের সূত্রে জানা গেছে। আর এ ক্ষেত্রে নেতাদের পছন্দের আসনে ছাড় দেওয়া হবে, এমনও নয়। তবে ঐক্যফ্রন্টের তিন শরিক গণফোরাম, জেএসডি এবং নাগরিক ঐক্যের চাওয়া আকাশচুম্বী। তারা তিনজন মিলে চেয়েছে ২১৫টি, যদিও গণফোরাম একাই আশা করছে ১১৩টি আসন পাওয়ার।

তবে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের দাবি নিয়ে বিরক্ত বলেই জানা যাচ্ছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজ উদ্দিনের মধ্যে কথোপকথনের একটি অডিও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে মোশাররফের কথায় উঠে আসে তাদের বিরক্তি।

দুটি জোটের সঙ্গে গত কয়েক দিন ধরেই বিএনপির আসন বণ্টন নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। জোটের প্রার্থী ঠিক করার শেষ মুহূর্তে এসে চূড়ান্ত দর-কষাকষি চলছে জোটের শরিকদের মধ্যে।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, বিএনপি ২৪০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শরিকদের সর্বোচ্চ ৬০ আসন দেবে। এর মধ্যে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো পাচ্ছে ৪০-৪২ আসন। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দলগুলো পাচ্ছে ১৮-২০ আসন।

আসন বণ্টনের বিষয়টি কোন পর্যায়ে জানতে চাইলে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘জোট ও বিএনপির মধ্যে সংকট হয়নি। জোট হলে তো আসন ভাগ করতেই হয়। আলোচনা কিছুটা শুরু হয়েছে।’

‘এই কাজটি অনেক কঠিন। পিঠা ভাগ করতে গেলেও টানাটানি হতে পারে। কেউ পাবে, কেউ পাবে না। তবে যে পাবে না, সে তার পাওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবে।’

ফাঁস হওয়া বিএনপির দুই নেতার ফোনালাপে বিএনপিকে ‘ব্লাকমেইল’ করার বিষয়ে জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, ‘আশা করছি, এ ধরনের ভাষা ব্যবহার হবে না। ভাষার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।’

আগামী বুধবারের মধ্যে আসনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে  জানিয়েছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। মন্টু বলেন, ‘আমরা মনোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাই করে প্রথমে ১৭০টির মতো রেখেছি, এরপর ১৪০ জন করা হয়েছিল। সর্বশেষ ১১৩টি মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি নিয়ে আমরা আলোচনায় বসব।’

মন্টু বলেন, ‘আমরা কয়টা পাব সেভাবে আমরা বার্গেনিং করি নাই। আমরা চাই সৎ এবং যোগ্য লোককে মনোনয়ন দেওয়া হোক। যে দলেরই হোক, যোগ্য লোককে আমরা মনোনয়ন দেব।’

যেসব আসনে ছাড় পেতে পারে ঐক্যফ্রন্ট

আসন ভাগাভাগির বিষয়টি সুরাহা করতে গত রবিবার রাজধানীর মতিঝিলে কামাল হোসেনের চেম্বারে বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। একই রাতে আরেক দফা বৈঠক হয় বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে।

এই দুই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ড. কামাল হোসেনের মেয়ে সারা হোসেন ঢাকা-১২, মোস্তফা মহসিন মন্টু ঢাকা-৭, সুব্রত চৌধুরী ঢাকা-৬, ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ মৌলভীবাজার-২, গণফোরামে যোগদানকারী আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে শাহ রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচন করবেন।

এ ছাড়া মফিজুল ইসলাম খান কামাল মানিকগঞ্জ-৩, জানে আলম চট্টগ্রাম-১০ ও আবু সাইয়িদ পাবনা-১ আসনের মনোনয়ন চাইছেন গণফোরাম থেকে।
আবার সম্প্রতি দলে যোগ দিয়েছেন ১০ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তারা নির্বাচন করবেন বলে সেদিনই জানিয়েছিল গণফোরাম। তাদের জন্যও বিএনপির কাছে ছাড় দাবি করবে গণফোরাম।

জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব (লক্ষ্মীপুর-৪), তানিয়া রব (ঢাকা-১৮), আবদুল মালেক রতন (কুমিল্লা-৪) নির্বাচন করতে চান।

অবশ্য এরই মধ্যে বিএনপি লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে ২০০৮ সালে জয়ী আশরাফ উদ্দিন নিজানকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ওই নির্বাচনে রব চতুর্থ হয়েছিলেন। জেএসডি আরও যেসব আসন চায়, সেগুলো হলো চুয়াডাঙ্গা-১ (তৌহিদ হোসেন), ফেনী-৩ (শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন), লক্ষ্মীপুর-২ (বেলায়েত হোসেন)।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকীর জন্য টাঙ্গাইল-৪ ও টাঙ্গাইল-৮-এর একটি রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-১৩ আসনেও তার নাম রয়েছে। এর বাইরে ইকবাল সিদ্দিকী গাজীপুর-৩ আসনে নির্বাচন করতে চান। অবশ্য কাদের সিদ্দিকী খেলাপি ঋণের কারণে নির্বাচন করতে পারেন কি না এ নিয়ে সংশয় আছে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ আসনে এরই মধ্যে নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। তিনি আরও দু-তিনটি আসনের দাবি করছেন। এস এম আকরাম হোসেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচন করতে চান।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের মধ্যে আসন নিয়ে বোঝাপড়া হচ্ছে। আসন বিন্যাস করা হচ্ছে। এই কারণে একটু সময় বেশি নেওয়া হচ্ছে।’