চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

রাজস্ব বাড়াতে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৭ ১১:০৭:৪১ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৭ ১৬:৪০:৩২

রাজস্ব বাড়াতে এবার নিজেদের সীমানা ৩১ বর্গ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৩শ ১৫ বর্গ কিলোমিটার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের সীমানা সীতাকুণ্ড এবং মীরসরাই উপকূল পেরিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া হয়ে মহেশখালীর মাতারবাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। এর ফলে বর্হিনোঙ্গরে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে যেমন বন্দর চার্জ দিতে হবে, তেমনি মনিটরিংয়ের আওতায় আসবে পুরো জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা।

চারশো বছরের পুরনো চট্টগ্রাম আধুনিক বন্দর হিসাবে স্বীকৃতি পায় স্বাধীনতার পর। প্রথম পর্যায়ে মাত্র ৫ নটিক্যাল মাইল ছিলো এর কর্ম পরিধি। পরবর্তীতে আলফা, ব্রেভো এবং চার্লি নামে তিন ভাগে বিভক্ত করে পরিধি বাড়ানো হয় ৩১ বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত। এ অবস্থায় বন্দরের সীমানা মহেশখালীর মাতারবাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত করার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

চট্টগ্রাম বন্দরের সীমানায় অবস্থানকারী জাহাজগুলোকে প্রতি জিএসটি দশমিক ২৪ ডলার হারে বন্দর চার্জ পরিশোধ করে। আর এক একটি জাহাজকে ৮০০ থেকে ১ হাজার জিএসটি পরিমাপ ধরা হয়।

কিন্তু বর্তমানে কুতুবদিয়া হয়ে মহেশখালী পর্যন্ত সাগরে শত শত জাহাজের অবস্থান থাকলেও তারা কোনো চার্জ দেয় না। তবে পুরো এলাকা বন্দরের সীমানায় চলে আসলে বন্দরের রাজস্ব বাড়বে শত কোটি টাকা বলেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অফ মেরিন সাইন্সেস অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী।

চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে বছরে সাড়ে তিন হাজারের বেশি জাহাজ অবস্থান করে। তবে প্রধান ১৬টি জেটিতে আসে সীমিত সংখ্যক জাহাজ। বিশাল একটি অংশের অবস্থান থাকে বর্হিনোঙ্গর এলাকায়। এ অবস্থায় রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি জাহাজগুলোতে মনিটরিংয়ের বাড়ানোর তাগিদ বাংলাদেশে শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট আহসানুল হক চৌধুরী’র।

বন্দরের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সীমান্তের শেষ প্রান্তে বর্তমানে মহেশখালীর মাতারবাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে এলএনজি স্টেশন। সে সাথে সেখানে চলছে বন্দর নির্মাণের কাজ’ও।