চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮

হালিশহরে ভবন থেকে ‘লাফ দিয়ে’ কিশোরীর আত্মহত্যা !

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৬ ২৩:৩৭:০০ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৭ ১২:৪৮:৪২

নগরের হালিশহরে ৪ তলা একটি ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মারিয়া আক্তার (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহত মারিয়া হালিশহর পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। সে নগরের হালিশহর আবাসিকের ১ লেইনের ৪ নম্বর রোডের ৩২ নম্বর বাসার জামাল উদ্দিনের মেয়ে।নিজের বাসার অদূরে আরেকটি ভবনের ছাদ থেকে মেয়েটি লাফ দিয়েছে, ওই বাসার নম্বর ৩৬।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে মারিয়াকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হালিশহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বদরুল কবির বলেন, ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মারিয়া নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে খবর পেয়েছি। ঘঠনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

মারিয়া ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে কেউ ফেলে দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিহত মারিয়ার বাবা জামাল উদ্দিন হালিশহরে স্থানীয় একটি দোকানে চাকরি করেন। ৮-৯ বছর আগে মারিয়ার মাকে তালাক দেন জামাল। গত ৬ মাস আগে শাহীন আক্তার নামে এক নারীকে বিয়ে করেন জামাল।

নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, আমি সেনাবাহিনীতে চাকরি করতাম। চাকরি ছেড়ে আমার ভাই নৌ বাহিনীর সাবেক অফিসারকে নিয়ে দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করি। সে মারা যাওয়ার পরে আমার ভাবী দোকানটি দখল করায় আমি এখন চাকরি করি। সকাল ৭টায় গিয়ে রাত ১১টায় ফিরি। বাসায় কি হয় না হয় আমি জানি না।

তিনি জানান, সৎ মায়ের সাথে তার মেয়ের সম্পর্ক ভালোই ছিল। তার নতুন স্ত্রীকে তিনি ভালো হিসেবে জানেন। কেন এই ঘটনা তিনি বুঝতে পারছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সৎ মায়ের নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল মারিয়া আক্তার। সোমবার দুপুরেও তাকে মারধর করেন শাহীন আক্তার। নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে মেয়েটি একবার নিজের কাপড় পুড়েও ফেলেছিল। এর জের ধরে সোমবার রাত ৮টার দিকে মেয়েটি ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে।

মারিয়ার মৃত্যুর পর শাহীন আক্তারকে শোকাহত হতে দেখা যায়নি বলেও তারা জানান।