চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

ইশতেহারে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অঙ্গীকার থেকে ‘সরে আসছে’ ঐক্যফ্রন্ট

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৪ ২১:৫৩:১৭ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৪ ২১:৫৩:১৭

ডিসেম্বরে প্রথম সপ্তাহে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারের চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ করা হবে

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও আসন্ন নির্বাচনী ইশতেহারে এ অঙ্গীকার থেকে ‘সরে আসছে’ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

জোটের নির্বাচনী ইশতেহারের খসড়া প্রস্তুত করছেন এমন কয়েকজন সিনিয়র নেতা বলেন, তারা নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে এবং একটি শক্তিশালী নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবেন, যাতে জনগণ যেকোনো নির্বাচনে অবাধে তাদের ভোট দিতে পারে এবং জনগণের ভোটের অধিকার ‘পুনরুদ্ধার’ করা যায়। খবর ইউএনবি’র।

তারা জানান, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ‘ভিশন-২০৩০’ এবং ঐক্যফ্রন্টের ১১ দফা লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং জোটের অংশীদারদের পরিকল্পনা ও প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে তারা ইশতেহার প্রস্তুত করছেন, যেখানে নির্বাচনে জয়ী হলে সরকারের প্রতিশ্রুতিসমূহের বর্ণনা থাকবে।

ডিসেম্বরে প্রথম সপ্তাহে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারের চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ করা হবে।

ইতোমধ্যে গত বৃহস্পতিবার ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার খসড়া কমিটির সদস্যরা প্রথম বৈঠক করেছেন এবং তারা জোটের অংশীদারদের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, এখন বাংলাদেশে কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই। সে জন্য, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের ইশতেহারে কোনো অঙ্গীকার করার বিষয়ে আলোচনা করিনি।

ইশতেহার সম্পর্কে তিনি বলেন, সুশাসন, সরকারের দায়বদ্ধতা এবং কার্যকর সংসদ নিশ্চিত করার ওপর তারা প্রথমে গুরুত্ব দেবেন।

“আমরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দেশে সুস্থ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা নিশ্চিত করার বিষয়ে অঙ্গীকার করব। এছাড়া বিরোধী দলগুলো যাতে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যবহার করতে পারে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার করব।”

বিএনপির এ নেতা বলেন, ২০১৭ সালের মে মাসে তাদের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ২০ দলের ‘ভিশন ২০৩০’ উপস্থাপন করেছিলেন, যাতে তারা বাংলাদেশকে কী অবস্থায় দেখতে চান সে বিষয়ে বর্ণনা ছিল। ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ভিশন ২০৩০’এর প্রতিফলন থাকবে।

গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম শফিক উল্লাহ বলেন, তারা এখন জোটের বিভিন্ন দলের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছেন এবং এ মাসের মধ্যে খসড়া ইশতেহার তৈরির কাজ সম্পন্ন করবেন।

“পরে আমরা এটি নিয়ে জোটের অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করব। এরপর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশ করার আগে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি এটি চূড়ান্ত করবে,” বলেন তিনি।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ২০ দলের ‘ভিশন ২০৩০’তে অনেক ভালো ধারণা ও প্রস্তাব রয়েছে। তারা ‘ভিশন ২০৩০’ এবং ঐক্যফ্রন্টের ১১ দফা লক্ষ্যের ভিত্তিতে ইশতেহার তৈরি করবেন।