চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

পুলিশ ভেরিফিকেশনে ফাঁদে আমিরাতের ৭৮৫ প্রবাসীর ভাগ্য!

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৪ ২১:৪৮:১১ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৫ ১২:২২:৪১

তিন মাস আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৭৮৫ প্রবাসী এমআরপি পাসপোর্টের জন্যে আবেদন করে। সাধারণ ক্ষমার আওতায় বৈধ হতে এমআর পি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে তারা। কিন্তু এখনো মিলেনি কাঙ্খিত সেই পাসপোর্ট। পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন না পাওয়ায় দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আটকা পড়ে আছে এসব পাসপোর্ট। দুবাই ও উত্তর আমিরাতের বিভিন্ন জায়গায় এই প্রবাসীরা কর্মরত রয়েছেন। ভুক্তভোগী অবৈধ প্রবাসীরা কোনো উপায় না পেয়ে দুবাই কন্স্যুলেটে আসছে প্রতিদিন।

প্রবাসীরা জানিয়েছেন, কারো কারো ক্ষেত্রে পুলিশ রিপোর্ট আগারগাঁওয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু অনলাইন সিস্টেমে পুলিশ এপ্রুভেল দেখানো হলেও পাসপোর্টের হদিস মিলছে না। আগামী ২৮ নভেম্বরের মধ্যে এ পাসপোর্ট পাওয়া না গেলে দেশে ফেরা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না প্রবাসীদের।

এই বিষয়ে আবুধাবী বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনসুলেট কর্মকর্তারা কোন সমাধান খুঁজে পাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে বিষয়টি সুরাহার জন্য পাসপোর্ট অধিদপ্তরে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ে একাধিক চিঠি চালাচালি করা হয়েছে।কিন্তু এখনো মিলেনি কোন সমাধান। এদিকে এ ব্যাপারে দুবাইতে নিয়োজিত বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের কন্স্যাল জেনারেল মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন খান বলেন, আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদফতরের কাছে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে যাচ্ছি যাতে করে আটকে থাকা পাসপোর্টগুলো দ্রুত পাওয়া যায়।

অপরদিকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান পরিস্থিতি সামাল দিতে আরো এক মাস সময় চেয়ে আমিরাত সরকারের নিকট চিঠি দিয়ে রেখেছেন। তবে এ আবেদন আসলে আমিরাত সরকার গ্রহন করবে কিনা তা দেখার অপেক্ষায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

পুলিশ ভেরিফিকেশন বিপাকে পড়া প্রবাসীদের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের বিশেষ শাখার এক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কর্মকর্তা জানান, তাদের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। তবে এ বিষয়ে মূল জটিলতা কোথায় তা আমরা খতিয়ে দেখছি।

এদিকে দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনসুলেট বাংলাদেশ পুলিশ ভেরিফিকেশনে আটকে থাকা ৭৮৫ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশী আটকে থাকা পাসপোর্টের সংখ্যা চট্টগ্রামের প্রবাসীদের। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১৭৩, কুমিল্লার ১৪৭, কক্সবাজারের ৬৪, হবিগঞ্জের ৪১, সিলেটের ৪০, লক্ষীপুরের ২৭, মৌলভীবাজারের ২৪, ঢাকার ২৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২২, ময়মনসিংহের ১৬, নোয়াখালীর ১৫, গাজীপুরের ১৫, মানিকগঞ্জের ১৪, নারায়ণগঞ্জের ১৩, ফেনীর ১২, সুনামগঞ্জের ৮, টাঙ্গাইলের ৯, শ্রীপুরের ২, শরিয়তপুরের ৬, রাজশাহীর ২, পটুয়াখালীর ৫, পাবনার ২, নাটোরের ২, নওগাঁর ১, মেহেরপুরের ১, মাগুরার ১, মাদারীপুরের ১, কুষ্টিয়ার ৩, কিশোরগঞ্জের ৬, খুলনার ২, জয়পুরহাটের ১, ঝিনাইদহের ৩, ঝালকাঠি ২, যশোর ৬, গোপালগঞ্জের ৩, গাইবান্ধার ১, ফরিদপুরের ৬, দিনাজপুরের ১, চুয়াডাঙ্গার ৮, চাপাইনবাগঞ্জের ৭, চাঁদপুরের ৯, বগুড়ার ১, ভোলার ১, বরিশালের ৯, বরগুনার ৩, বান্দরবনের ১, বাগেরহাটের ২ ।