চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

আড়াই দিনেই উইন্ডিজকে হারাল বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৪ ১৬:০৬:৩৯ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৪ ১৬:০৬:৩৯

দুই ম্যাচ টেস্টের প্রথমটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আড়াই দিনের জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। ২০৪ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের স্পিনারদের দাপটে ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে গেছে ১৩৯ রানেই। এই জয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩২৪ রান করেছিল বাংলাদেশ। বিপরীতে ২৪৬ রানে থামে ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংস। ৭৮ রানের লিড পাওয়া টাইগারদের দ্বিতীয় ইনিংসটা বেশদূর এগোয়নি ক্যারিবীয় স্পিনে। ১২৫ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে ২০৪ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় উইন্ডিজের সামনে।

প্রথম ইনিংসে মাত্র ১ উইকেট পেলেও তাইজুল ইসলাম ৬ উইকেট তুলে নিয়ে গুটিয়ে দিয়েছেন ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় ইনিংস। সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসে অভিষেকে সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেটে নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়া নাঈম হাসান দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য উইকেটের দেখা পাননি।

আগের দিন টেস্টে সর্বকনিষ্ট বোলার হিসেবে অভিষেকে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়া নাঈম হাসান বলেছিলেন, ১৫০ রানের লিড হলেও লড়াই করা সম্ভব। বাংলাদেশ ২০৪ রানের লিড পাওয়ায় ভরসা ছিল দর্শকদের। সাকিব, মিরাজ, তাইজুল, নাঈমদের সামনে এই রান যে বড্ড কঠিন তা জানত ক্যারিবীয়রাও।

কিন্তু শুরুর আগেই তাদের মেরুদন্ড ভেঙে দেন সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলাম। দুইজনেই জোড়া উইকেট শিকার করেন লাঞ্চের আগে। তাতে ১১ রানে ৪ উইকেটে হারিয়ে ফেলে উইন্ডিজ।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই বল হাতে তুলে নিয়েছিলেন সাকিব। দ্বিতীয় ওভারেই পেয়ে যান উইকেটের দেখা। কিয়েরন পাওয়েলকে ফিরিয়ে দেন শূন্য রানেই। মুশফিকুর রহীমের হাতে স্টাম্পিংয়ে পরিণত করেন তাকে।

এই উইকেট নিয়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব। সবচেয়ে কমে টেস্ট খেলে একই সঙ্গে তিন হাজার রান ও ২০০ উইকেটের কীর্তি এখন সাকিবের। যেখানে ইয়ান বোথামকে পেছনে ফেলেছেন সাকিব। নিজের ৫৪তম টেস্টেই এই রেকর্ড গড়েছেন সাকিব।

পরের ওভারে ফিরেই সাই হোপকে (৩) তুলে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এবার মুশফিকের হাতে ক্যাচ বানান তাকে।

ষষ্ঠ ওভারে তাইজুল ইসলাম প্রথমবারের মতো বল হাতে পান। নাঈম হাসানের জায়গা বল হাতে নিয়ে প্রথম বলেই তুলে নেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের উইকেট। চার বলের ব্যবধানে ফিরিয়ে দেন রোস্টন চেজকেও (০)। ১১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে লাঞ্চে যায় উইন্ডিজ।

লাঞ্চের পর প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিলেন সুনিল আমব্রিস ও শিমরন হেটমায়ার। তবে হেটমায়ারকে ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২৭ রান করে ফিরেন হেটমায়ার। ৪৪ রানে ৫ উইকেটে হারায় উইন্ডিজ।

৭ রানের ব্যবধানে ডারউইচকে এলবিডব্লিউয়ে পরিণত করেন তাইজুল। সপ্তম উইকেটে দেবেন্দ্র বিশুকে নিয়ে ১৮ রান যোগ করেন আমব্রিস। কিন্তু দেবেন্দ্র বিশুকে বোল্ড করে তাইজুল নিজের চতুর্থ উইকেট শিকার করলে সেই জুটিরও পতন ঘটে দ্রুত।

এরপর আসলে বাংলাদেশের জয়ের অপেক্ষা শুরু। কেমার রোচকে এলবিডব্লিউ করে ম্যাচে নিজের পঞ্চম উইকেট শিকার করেন তাইজুল। ৭৫ রানে ৮ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা।

তবে নবম উইকেটে জোমেল ওয়ারিকনকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন সুনিল আমব্রিস। ৬৩ রান যোগ করেন এই দুজন। এই জুটি বাংলাদেশের দর্শকদের মনে একটু হলেও ভয় ধরালো কি?

ভয় ধরানোর মুহূর্তেই ওয়ারিকনকে ফিরিয়ে দেন মিরাজ। ৪১ রান করে ফিরেন ওয়ারিকন। এরপর ১ রানের ব্যবধানে তাইজুল ফিরিয়ে দেন আমব্রিসকে। ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা।

এরআগে ৫ উইকেটে ৫৫ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় স্পিনাররাও দাপট দেখিয়েছেন সেখানে। বাংলাদেশের স্কোর ১২৫ হওয়ার প্রধান কৃতিত্ব দিতে হবে মাহমুদউল্লাহকে। অন্যদের আসার যাওয়ার মিছিলে তার ৩১ রান ছিল মহামূল্যবান।

তবে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেয়েছেন মুমিনুল হক। প্রথম ইনিংসে ১২০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।