চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

গ্রেফতারকালে পুলিশকে যে অনুরোধ করেছেন মিলন, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৩ ১৮:৫৫:৩৩ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৪ ০০:১৩:১৯

সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ড. এহছানুল হক মিলনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চাঁদপুর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিলনের গ্রেফতারের আগমূহুর্তের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- ডিবির কয়েকজন সদস্য আটক করতে গেলে বাহিনীটির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে অনুরোধ করছেন এহছানুল হক মিলন। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

‘আমি আসবো, আপনি যেহেতু ফোর্স পাঠিয়েছেন আমাকে আসতে হবে, আমি আসবো আই নো দ্যাট (আমি জানি)। কিন্তু আগামীকাল (শুক্রবার) আসবো। আজ রাতের বেলা এটা কেন করবেন? আপনি আমার পরিচিত, আপনি দায়িত্ব পালন করছেন, আর আপনি কেন রাত্রী বেলায় নিতে পাঠিয়েছেন? আমি কী হত্যাকারী? আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমি আপনার বড় ভাই। আপনি কোন ইউনিভার্সিটি, খুলনা ইউনিভার্সিটি? ওকে, আমি আপনার বড় ভাই, আপনি আমাকে রাত্রিবেলায় কষ্ট দেবেন, আমি তো চোর না। আমি আপনার সাথে সসম্মানে যাবো। সকালে যাবো। আমি ডায়াবেটিসের রোগী, ওষুধ খেয়েছি। কারো আসার দরকার নাই, আমি ঘুমের ওষুধ খেয়েছি। আপনি আমার সাথে এই ব্যবহার করতে পারেন না যে- ‘মিলন ভাই আপনাকে এখনই আসতে হবে’। ৫টার সময় আমি নামাজটা পড়ে বের হবো। আমি ডায়াবেটিসের রোগী, টেবিল ভর্তি ওষুধ আমার। অামাকে এভাবে কষ্ট দেওয়া ঠিক হবে না। আমি আপনার কাছে এটা আশা করতে পারি না। আপনি যেহেতু ফোর্স পাঠিয়েছেন আমাকে আসতে হবে। আপনি ভালো করে জানেন যে আমি আপনার সাথে যোগাযোগ করছি আমি আসবো, আমি আসবো, আমি আদালতে স্যালেন্ডার (আত্মসমর্পন) করবো। আমি আপনার সাথে সকালেই কথা বলবো, এখন জোর করে ধরে নিয়ে যাবেন না। আমি স্যালেন্ডার করার জন্য হাইকোর্টে ডিভিশন করে এসেছি।

আমি তো যেতে চাচ্ছি, আপনি তো পুরো কম্পাউন্ড ঘিরে রেখেছেন তাই না? কিন্তু আপনি কেন এটা করছেন? আমি কোর্টে যেতে চাচ্ছি, কিন্তু আপনি রাতের বেলা ফোর্স পাঠিয়েছেন। এতে যেকোনো কিছু হতে পারে। আপনি রাতে আমাকে এখানে থাকতে দিন। আমি তো আপনার কাছে কোনো সুবিধা চাইনি। এটা আপনার চাকরি, এটা আমি বুঝি। সবাই আসছে চা-টা খাবে, আমি নামাজটা পড়ে বের হবো। আপনি আমার বয়স জানেন? দেখে তো মনে করেন আমি ইয়াং তাই না? আমার বয়স অনেক এবং আমি একজন রোগী। আমি যদি মারা যাই এটার জন্য আপনাদের দায়ী থাকতে হবে। আপনি বুঝতে পেরেছেন? ওকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আমি নামাজ পড়ে বের হবো। আমাকে ১ ঘণ্টা সময় দিন। আমি আসবো, আপনি জানেন আমি একজন রাজনীতিবীদ, আমি কোনো অপরাধের সাথে জড়িত নই। আপনি ডাকবেন আমি আপনার মেহমান আমি যাবো। আমাকে যেতেই হবে। রবিবার দিন আমি আপনার অফিসে যাবো। যেহেতু আমার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হচ্ছে। তাই আমাকে সেটা জমা দিতে হবে। আমি বুঝলাম না। আমার সাথে আপনার এই ব্যবহারটা করা দরকার হয় না। ওকে খোদা হাফেজ।

আমি ঘুমের ওষুধ খেয়েছি। আমাকে ঘুমাতে হবে। বুঝলাম না, এগুলো কি শুরু হলো? আমাকে ঘুমাতে হবে। তাছাড়া আমি স্ট্রোক করতে পারি। আমি বুঝলাম না। আমি রেস্ট (বিশ্রাম) নিতে চাচ্ছি। আপনারা এমন করছেন কেন আমার সাথে।’