চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

‘দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়নের’ অঙ্গীকার নিয়ে আসছে ঐক্যফ্রন্ট

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৩ ১০:৪১:২৮ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৩ ১৯:২৫:০৬

আগামী জাতীয় নির্বাচনে জিতলে দেশে দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়নের অঙ্গীকার করতে যাচ্ছে বিএনপিকে নিয়ে গঠন করা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আওয়ামী লীগের উন্নয়নের দাবি মোকাবেলায় তারা নানা প্রকল্প চালু রাখার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন।

ভোটের প্রচারে নামার আগে জাতির উদ্দেশে দেয়া ইশতেহারে এই বিষয়টির উল্লেখ থাকবে।

ঐক্যফ্রন্টের হাত ধরে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে এসেছে বিএনপি। দলের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও চলছে। তবে এখনো জোটের মধ্যে আসন বণ্টন হয়নি।

ভোটে নামার আগে ইশতেহার ঘোষণা করা হবে আর এতে কী কী অঙ্গীকার থাকা উচিত, এ নিয়ে প্রাথমিক প্রস্তাব জমা দিচ্ছেন শরিক দলের নেতারা।

নেতারা জানান, এবারের ইশতেহারে তরুণদের আগ্রহী করে তোলে, এমন ইশতেহার দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আর সরকার যেহেতু এবার উন্নয়নের দাবি নিয়ে ভোটে যাচ্ছে, সে জন্য তারা উন্নয়নের বিষয়টিও রাখবে। আর ঐক্যফ্রন্ট বলবে, দুর্নীতি না হলে আরও উন্নয়ন হতো। আর এ জন্যই দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়নের বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এবারের মূল বিষয়বস্তু হবে দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন। এতে আরও থাকবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা।’

দুর্নীতির বিষয়টি বরাবর রাজনীতিতে গুরুত্ব পায়। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম হয়। আর ওই বছরের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে এই বিষয়টি নিয়ে আক্রমণ করে বিএনপি।

তবে বিএনপির শাসনামলেও একই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর ‘দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব বজায় থাকে। আর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ইস্যু করে বিষয়টিকে।

টিআইএর এই জরিপে অবশ্য এখন বাংলাদেশের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ করা সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৭তম।

ঐক্যফ্রন্ট নেতারা জানান, গত কয়েক বছর ধরে আলোচিত হয়ে ওঠা ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিচার এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুশাসন ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার থাকবে ইশতেহারে।

স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান

ঐক্যফ্রন্ট নেতারা জানান, তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিয়ে যেহেতু ব্যাপক আলোচনা আছে, তাই তারা এই বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে চান। বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের অঙ্গীকার থাকবে।

আর ঐক্যফ্রন্ট নেতা জাফরুল্লাহর প্রস্তাবে কৃষক ও শ্রমিকের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, ওষুধের দাম কমানোর বিষয়টিও রাখা হচ্ছে।

ইশতেহার প্রস্তুত সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সুশাসন, মানবাধিকার, ন্যায়বিচারসহ ১১ দফাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে নির্বাচনী ইশতেহারে। গণমানুষের যে দৃষ্টিভঙ্গি, তা ইশতেহারে তুলে আনা হবে। একটি সুন্দর আগামীর বাংলাদেশকে মানুষ যেভাবে দেখতে চায় তার প্রতিফলন রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে ইশতেহারে।’

‘কথা বলতে দিতে হবে মানুষকে, সংবাদ প্রকাশ করতে দিতে হবে। তারপর আইনের সংস্কার দরকার, কর্মসংস্থান দরকার। শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান দরকার। কৃষক তার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। এগুলো আমাদের এবারের ইশতেহারে থাকবে।’ বলেন ডা. জাফরুল্লাহ।

এরই মধ্যে ছয় সদস্যের ইশতেহার প্রণয়নবিষয়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর গতকাল এক দফা বৈঠকও করেছে এই কমিটি।

কমিটিতে বিএনপি থেকে আছেন সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, গণফোরাম থেকে আ ও ম শফিক উল্লাহ, নাগরিক ঐক্য থেকে জাহেদ উর রহমান, জেএসডি থেকে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ইকবাল সিদ্দিকী এবং ঐক্যফ্রন্ট গঠনের উদ্যোক্তা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার হচ্ছে দুভাবে। একটিতে থাকবে বিস্তারিত তথ্য, অন্যটিতে এক বা দুই পৃষ্ঠার বক্তব্য। সংক্ষিপ্ত ইশতেহারটি পোস্টার, লিফলেট করে ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

ফ্রন্টের একাধিক নেতা জানান, বিএনপির ঘোষিত ‘ভিশন ২০৩০’ ভিত্তি ধরে কাজ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সময় দেয়া ১১ দফা ঘোষণাপত্রকেও গুরুত্ব দিয়ে চলছে কাজ।

ইশতেহার কমিটির সদস্য ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা থাকবে রাষ্ট্রের নাগরিকদের বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখানো এবং তা বাস্তবায়ন করা। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের বড় অংশজুড়ে থাকবে তরুণদের কথা, বেকারত্ব ও তা সমাধানে কর্মসংস্থানের কথা। দুর্নীতিরোধ, সুশাসন নিশ্চিত করাসহ একাধিক বিষয় থাকবে ইশতেহারে।’