চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯

মিরসরাইয়ে শ্বাসরোধ করে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, পলাতক স্বামীসহ অন্যরা

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২০ ২২:০২:১১ || আপডেট: ২০১৮-১১-২০ ২২:১৩:২৫

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে যৌতুকের দাবীতে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৯ নভেম্বর) রাতে উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত গৃহবধূ রুমানা আক্তার (১৯) ওই গ্রামের মো. টিপুর স্ত্রী। মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৮ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তাননগর হাসপাতাল থেকে লাশটি উদ্ধার করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। শ্বশুরবাড়ির লোকজন রুমানাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তার গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এতে চিকিৎসক শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করে পুলিশকে খবর দেন।

জানা গেছে, এক বছর পূর্বে উপজেলার ৮ নং দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গনি কোম্পানীর বাড়ি জসিম উদ্দিন ছেলে মো. টিপুর সাথে মিরসরাই পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বটতল এলাকার সাব মিয়া কোম্পানী বাড়ির মৃত জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে রুমানা আক্তার কচির বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ে পরিবার থেকে নগদ যৌতুক আদায় করে বর টিপুর পরিবার। কিন্তু তাতেও মন বরেনি তাদের। তাই বিয়ের পর থেকেই স্বামী পরিবার যৌতুক দাবি আদায়ের জন্য গৃহবধুর উপর শাররিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। প্রতিবেশীদের দাবি ওই গৃহবধুর স্বামী সহ স্বশুরালয়ের সদস্যরা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।

নিহত গৃহবধু মা ফাতেমা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার মেয়েকে গত এক বছর পূর্বে মো. টিপুর সাথে বিয়ে দিয়েছিলাম। বিয়েতে এক লক্ষ দশ হাজার টাকা ক্যাশ ও ২ ভরি স্বর্ণ যৌতুক দেয়া হয়েছিলো। বিয়ের একমাস পর থেকেই টিপু আমার মেয়েকে কারনে অকারনে মারতো। এছাড়া মা ফাতেমা বেগম, টিপুর বাবা জসিম উদ্দিন ও তার ননদও আমার মেয়ের উপর নির্যাতন করতো। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জোরারগঞ্জ থানার থানার উপ পরিদর্শক আলাউদ্দিন জানান, নিহত ওই গৃহবধুর লাশের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তাৎক্ষনিকভাবে এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারন জানা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করলেও রুমানার স্বামীসহ স্বজনদের কাউকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। পরে তাদের বাড়িতে গিয়েও ঘরে কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

মস্তাননগর হাসপাতালের ডিউটিরত ডাক্তার উর্মি রায় জানান, গতকাল দিবাগত রাত প্রায় ১০টার দিকে ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বামী টিপু। কিন্তু হাসপাতালে আনার আগেই ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com