চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

‘মিরসরাইয়ে ভোটে আছে মাঠে নেই অনেক নেতা’

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২০ ১০:৩৪:৫৮ || আপডেট: ২০১৮-১১-২০ ১০:৩৪:৫৮

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন চট্টগ্রাম-১, বিএনপির মনোনয়নপত্র নিয়েছেন ২০ জন

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ২০ জন। যা এই আসনে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। তাদের মধ্যে ৫-৬জন নেতা ছাড়া কেউ মাঠে ছিলেন না। এই নিয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝেও চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মনোনয়নপত্র নেয়া নেতাদের মধ্যে ১০ নং মিঠানালা ইউনিয়নের রয়েছে ৪জন! তবে শেষ পর্যন্ত কে পাবে দলীয় টিকেট সে বিষয় নিশ্চিত করতে আরো কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে সবাইকে।

শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এফসিএ, দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নুরুল আমিন, উপজেলার চেয়ারম্যান (সাময়িক বরখাস্তকৃত) নুরুল আমিন, এফবিসিসিআই এর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যবসায়ী নেতা কামাল উদ্দিন আহাম্মেদ।

মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, মেজর (অব.) মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম লতিফী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সভাপতি সরওয়ার উদ্দিন সেলিম, ড. এম এম এমরান চৌধুরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফখরুল ইসলাম, পারভেজ সাজ্জাদ, এডভোকেট খায়রুল ইসলাম বেলাল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক গাজী নিজাম উদ্দিন, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, ঢাকাস্থ মিরসরাই জাতীয়তাবাদী ফোরামের সভাপতি আকম জান্নাতুল করিম খোকন,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম তৌহিদ।

জানা গেছে, মনোনয়পত্র সংগ্রহকারীদের মধ্যে আসলাম চৌধুরী সীতাকুন্ড, সন্দ্বীপ ও মিরসরাই এই তিন আসন থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া মাহবুবের রহমান শামীম, আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, শাহীদুল ইসলাম চৌধুরীও কারাগারে রয়েছেন। প্রবাসে রয়েছে পারভেজ সাজ্জাদ ও রাকিবুল ইসলাম।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক এমডিএম কামাল উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচন করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি সাবেক সাংসদ জিন্নাহ মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কাজ করছেন। তবে অনেক নেতা-কর্মী আশা করেছিলে কামাল উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।

একাধিক বিএনপির নেতা বলেন, বিগত ১০ বছর যাদের দেখা নেই তারাও এখন প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। অনেকে উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন। কেন্দ্র যদি ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে এবং হেভিওয়েট প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেয় তাহলে এই আসন উদ্ধারে অনেক কষ্ট হবে।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দলের দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন। তিনি বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারী। উপজেলা বিএনপি যখন নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে ঠিক তখনই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি। গত ১০ বছরে সকল আন্দোলন সংগ্রাম হামলা, মামলায় অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। নেতা-কর্মীদের সুখে, দুঃখে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। আমরা চাইবো দলের হাইকমান্ড বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে কার অবদান ছিলো সে বিষয়টি বিবেচনা করে নুরুল আমিন চেয়ারম্যানকে মনোনয়ন দেবে।

দলটির আরেক যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আবছার বলেন, আমরা মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নুরুল আমিন ব্যতীত প্রায় গুরুত্বপূর্ণ সব নেতাই সরকারের মিথ্যা মামলায় জেলে আছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি হচ্ছেন আমাদের মূল ভরসা। বিগত নির্বাচন, আন্দোলন-সংগ্রাম সবকিছুতেই তিনি প্রথম কাতারে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এস.এম হারুন বলেন, ‘শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী উপজেলা ছাত্রদল, যুবদল, জাসাস ও বিএনপি সর্বোপরি জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন নিবীড়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। দলের দুঃসময়ে মাঠের কর্মীদের বুকে আগলে ধরে রেখেছি। তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে আজ এই পর্যায়ে এসেছেন। দলের জন্য অর্থনৈতিক অবদান রাখার পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের মামলা, হামলায় পাশে রয়েছেন। আমার বিশ্বাস দল তাকেই মনোনয়ন দেবে।’