চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামে জশনে জুলুসে বুধবার, আসছে না তাহের শাহ্ (ম.জি.আ.)

প্রকাশ: ২০১৮-১১-১৯ ২২:০৫:৫১ || আপডেট: ২০১৮-১১-১৯ ২২:২৭:২৫

চট্টগ্রামে ৪৭তম জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)-এ এবার ৬০ লাখ মানুষ সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জুলস আয়োজনের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

আগামী বুধবার (২১ নভেম্বর) জুলুসটি অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্জুমানে রহমানিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের আয়োজনে এবং গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় বৃহত্তম এ জুলুসটির আয়োজন হয়ে থাকে।

জানা যায়, আওলাদে রসুল (দ.) আল্লামা তৈয়ব শাহ্ (রহ.) ১৯৭৪ সালে জুলুসটির প্রবর্তন করেন। তাঁর নেতৃত্বেই এটি বর্ণ্যাঢ্য অবয়ব পায়। নেতৃত্ব দেন ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত। পরে তাঁরই সুযোগ্য পুত্র দরবারে আলীয়া ছিরিকোট শরীফের সাজ্জাদানশীন আওলাদে রসুল (দ.) সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (ম.জি.আ.) এই জুলুসের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তবে এবার তাহের শাহ্ (ম.জি.আ.) আসছে না । বুধবার (২১ নভেম্বর)  নগরের মুরাদপুর-ষোলশহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে সকাল ৮টায় ৪৭তম জুলুস বের হবে। জুলুসে নেতৃত্ব দেবেন আওলাদে রাসুল, শাহজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ হামিদ শাহ (ম জি আ)। মুরাদপুর, পাঁচলাইশ, চকবাজার, সিরাজদ্দৌলা রোড, আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড, চেরাগি পাহাড়, জামালখান, চট্টগ্রাম কলেজ হয়ে জুলুস পুনরায় মাদ্রাসায় ফিরে যাবে।

সোমবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে ট্রাস্টের সংবাদ সম্মেলনে জুলুসের মিডিয়া ডেস্কের আহ্বায়ক, পিএইচপি ফ্যামিলির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির হোসেন সোহেল এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার অধ্যক্ষ মুফতি মুহাম্মদ অছিয়র রহমান, উপাধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ লিয়াকত আলী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সরওয়ার উদ্দিন, মাদ্রাসা-এ-তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়ার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভী, আনজুমানের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মাদ্রাসা-এ তৈয়্যবিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়ার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবু তৈয়ব চৌধুরী, গাউসিয়া কমিটির চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন আনুজমানের এডিশনাল সেক্রেটারি জেনারেল ও জুলুস সাব কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ সামশুদ্দিন, অ্যাসিস্টেন্ট জেনারেল সেক্রেটারি এসএম গিয়াস উদ্দিন শাকের, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, গাউসিয়া কমিটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, মহাসচিব মুহাম্মদ সাহজাদ ইবনে দিদার, জুলুস মিডিয়া সাব-কমিটির আহ্বায়ক ছাবের আহমেদ, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের এমএ হামিদ, নগর সম্পাদক মুহাম্মদ মাহাবুবুল আলম, উত্তর জেলা সম্পাদক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার মুহাম্মদ সাইফুল আলম সিদ্দিকী, আবু নাছের মুহাম্মদ তৈয়ব আলী প্রমুখ। সঞ্চালনায় ছিলেন আনজুমান ট্রাস্টের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি প্রফেসর কাজী শামসুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় , আগামী বুধবার (২১ নভেম্বর) চট্টগ্রামে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রামে এবার জুলুসের প্রায় ৬০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। গত এক মাস ধরেই চলছে প্রস্তুতির নানা কাজ। ইতোমধ্যে জুলুশের মিলনস্থান জামেয়ার মাঠে চলছে বিশাল আয়তনের প্যান্ডেল তৈরির কাজ, নগরীর সড়ক সমুহে শোভা পাচ্ছে মনোরম ব্যানার, ডিজিটাল ফ্লাগ, ফেস্টুন ও তোরণ।

আঞ্জুমান ট্রাস্ট সূত্রে জানা যায়, এবারো জুলুস নগরীর পশ্চিম ষোলশহরস্থ আলমগীর খানকাহ-এ কাদেরীয়া সৈয়দিয়া তৈয়বিয়া হতে সকাল ৮টায় জুলুস আরম্ভ হবে। এরপর এই জুলুস নগরের বিবিরহাট, মুরাদপুর, পাঁচলাইশ, চকবাজার, সিরাজদ্দৌলা রোড হয়ে আন্দরকিল্লা, চেরাগী পাহাড় মোড়, জামালখান, প্রেসক্লাব, গণিবেকারী, চট্টগ্রাম কলেজ হয়ে পূনঃরায়  চকবাজার,পাঁচলাইশ, মুরাদপুর বিবির হাট হয়ে জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসায় বৃহত্তম মাহফিলে মিলিত হবে।