চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮

রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইসির কঠোর নির্দেশনা

প্রকাশ: ২০১৮-১১-১৯ ১০:১২:২৮ || আপডেট: ২০১৮-১১-১৯ ১৬:২৮:২৫

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে কক্সবাজারের টেকনাফ এবং উখিয়ায় অবস্থানরত বিপুল এ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নির্বাচনে ব্যবহার হতে পারে এমন আশংকায় এ নির্দেশনা। এখন থেকে শুধু চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোনো কারণে আশ্রয় শিবির থেকে রোহিঙ্গাদের বের হওয়া নিয়েও কঠোর অবস্থানে প্রশাসন।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর পরই বাংলাদেশে শুরু হয়ে গেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোল। সে সঙ্গে নির্বাচন পূর্ববর্তী অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলো মাঠে নেমেছে। কিন্তু মিয়ানমার থেকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কারণে কক্সবাজার জেলার চারটি আসনের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানে নির্বাচনের নানা কাজে রোহিঙ্গারা ব্যবহৃত হতে পারে বলে শঙ্কা স্থানীদের।

কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আদিল চৌধুরী বলেন, কর্মী হিসেবে এরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে আসা-যাওয়া করতে পারে। এবং প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা কাজ অংশ নিতে পারে।

অনুপ্রবেশের শুরু থেকেই ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে রোহিঙ্গাদের মধ্যে। গত বছরের আগস্ট থেকে প্রথম আট মাসে অন্তত ৬০ হাজার রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমান নির্বাচনকালীন সময়ে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার হার বাড়ার আশংকায় তাদের চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, ক্যাম্প ইনচার্জের লিখিত পারমিশন ছাড়া তারা উখিয়ার বাইরে যেতে পারে না। যারা গুরুতর অসুস্থ তাদেরকে আমরা পারমিশন দিই।

কক্সবাজার-৪ আসন হিসাবে পরিচিত উখিয়া এবং টেকনাফ আসনে মোট ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৮৩ জন। কিন্তু এ দু’উপজেলায় রোহিঙ্গা রয়েছে অন্তত চারগুণ বেশি। সে সাথে ভোট কেন্দ্রগুলো’ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশপাশে। এছাড়া বাকি তিনটি আসন এলাকাতেও অবৈধভাবে বসবাস করছে রোহিঙ্গারা। তাই নির্বাচনের আগেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে বলেছে নির্বাচন কমিশন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-তিন পার্বত্য জেলার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারো মাধ্যমে ব্যবহার না হতে পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এবং এ বিষয়ে আমরা সর্তক অবস্থানে।

কক্সবাজারের চারটি আসনে মোট ভোটার ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ২শ ৪ জন। আর ৫শ ১৩টি ভোট কেন্দ্রে ২ হাজার ৭শ ৩৮টি বুথ থাকবে।