চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

একমাসেও একটি গুজব চিহ্নিত করতে পারেনি তথ্য মন্ত্রণালয়!

প্রকাশ: ২০১৮-১১-১৮ ০৮:৫৪:৩৩ || আপডেট: ২০১৮-১১-১৮ ১৫:২৫:৩৩

আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজব চিহ্নিত করতে একটি কেন্দ্র গঠন করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু গত এক মাসেও কোনো গুজব চিহ্নিত করতে পারেনি কেন্দ্রটি। কেন্দ্রটি ২৪ ঘণ্টাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং করছে।

কিন্তু কিছু চিহ্নিত করতে না পারায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পিআইডির ওই কেন্দ্রটির ভবিষ্যত নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কোনো ধরণের ইকুইপমেন্ট ব্যবহার না করে কিভাবে দুই কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ওপর নজর রাখা সম্ভব?

গত এপিলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উই আর সোশ্যাল’এবং কানাডাভিত্তিক ডিজিটাল সেবা প্রতিষ্ঠান ‘হুটস্যুইট’ জানিয়েছিল, বিশ্বে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক দিয়ে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। সংস্থা দুটির মতে, সবচেয়ে বেশি ফেসবুক ব্যবহার করা হয় ব্যাংককে। সেখানে ৩ কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে। এর পরেই ঢাকার অবস্থান। ঢাকায় সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ওই গুজব শনাক্তকারী কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক গুজবই রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার হতে পারে। আবার গুজবের কারণে জনগণ প্রতারিত হতে পারে। তাই এসব গুজবের উৎস বন্ধ করতে হবে।

গুজব বন্ধের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

গত সেপ্টেম্বরে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একটা গুজবের জেরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পিআইডিতে গুজব চিহ্নিতকরণ কেন্দ্র চালু করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। যদিও কেন্দ্রটি কাজ শুরু করে গত ১৫ অক্টোবর থেকে। এই কেন্দ্রর কাজ হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর ৩ ঘণ্টার মধ্যে সেটা গণমাধ্যমকে জানানো। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তাদের (পিআরও) নিয়ে ৭ জনের এক একটি দল তিন শিফটে কাজ করছেন।

প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম গুজব বন্ধ কেন্দ্রের উদ্বোধন করে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো এক একটা গুজবের কারখানা হয়ে যায়। এই মাধ্যমের প্রতি আসক্তের কারণে একটি প্রজন্ম যাই আসুক সত্য বলে ধরে নেয়। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তথ্য মন্ত্রণালয়ের পিআইডিতে, প্রয়োজন হলে নিমকোতে বেশ কিছু তরুণ লোকবল আছে, তাদেরকে ইনক্লুড করে একটি টিম করবো, যারা ২৪ ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি করবে। ওই টিমের কাজ হবে সোশ্যাল মিডিয়াতে যেসব গুজব ছড়ানো হবে সেগুলো চিহ্নিত করা এবং তিন ঘণ্টার মধ্যে সব গণমাধ্যমে স্বপ্রণোদিত হয়ে পিআইডি থেকে প্রেসনোট দেওয়া।

তিনি আরো জানিয়েছিলেন, বিএনপি-জামায়াতের লন্ডনভিত্তিক একটি সেল আছে এবং তাদের তিনশরও বেশি ফেসবুক পেজ আছে। তারা ফেসবুকে খুব অ্যাক্টিভ এবং প্রবলভাবে স্পন্সরড। নির্বাচনের আগেও কিন্তু এই প্রবণতাটা বেড়ে যাবে। কাজেই বাকরোধ বা কণ্ঠরোধ করা নয়, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে কোনটি অসত্য সেটি তুলে ধরা। সে কাজ করার জন্য কেন্দ্রটি গঠন করা হয়েছে।- বার্তা২৪