চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮

পৌষের শেষার্ধে আসছে শৈত্যপ্রবাহ

প্রকাশ: ২০১৮-১১-১৭ ১৪:২০:৩৬ || আপডেট: ২০১৮-১১-১৭ ১৭:১৫:১৭

আসন্ন পৌষ মাসের শেষার্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিতে পারে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। এই সময়ে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। পৌষ মাসের শেষার্ধ ও মাঘ মাসের প্রথমার্ধ মিলে হবে জানুয়ারি মাস। নতুন বছরের শুরুতেই দেশের মানুষকে কিছুটা বেকায়দায় রাখতে পারে এ শৈত্যপ্রবাহ।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উপরের বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা গরম থাকলেও মেঘ-বৃষ্টির কারণে নিচের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় হঠাৎ কুয়াশার নামার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মাঝে মাঝে এমনটা আরো হতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রাতের ও দিনের তাপমাত্রা এখন ক্রমান্বয়ে কমছে। জানুয়ারি মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে একটি মাঝারি বা তীব্র ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। অন্যান্য স্থানে এক থেকে দুটি মৃদু বা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসের শেষার্ধে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে একটি মৃদু বা মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।’ ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি তাপমাত্রাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রাকে মাঝারি এবং ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয় বলেও জানান তিনি।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরো জানা গেছে, জানুয়ারি মাসে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এবং নদ-নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি আকারে কুয়াশা পড়তে পারে। ঘন কুয়াশা পরিস্থিতি কখনও কখনো দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধেয়ে আসছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘গাজা’। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় গাজা আরো পশ্চিম-দক্ষিণ দিকে সরে গেছে। এটি গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫১৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১৪৬০, মংলা থেকে ১৩৯০ এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা ঝড়ো হাওয়া আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১০ অক্টোবর শনিবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। পরদিন সকালে এটি ঘনীভ‚ত হয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। পরে তা আরো শক্তিশালী হয়ে দক্ষিণ ভারতের দিকে এগোতে শুরু করে। বিজ্ঞপ্তিতে সমুদ্রবন্দরসমূহকে ২ নন্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আজ শুক্রবার সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে।