চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অরাজকতা চলছেই

প্রকাশ: ২০১৮-১১-১৭ ১১:৫২:৩১ || আপডেট: ২০১৮-১১-১৭ ১১:৫২:৩১

রোহিঙ্গাদের এই অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় জনগণ। তবে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বহিনীর নজরধারী বৃদ্ধির পাশাপাশি রাতের বেলায় যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অভ্যান্তরিণ কোন্দলে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি অংশ একের পর এক হত্যা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, চাঁদাবাজি, গুম, ধর্ষণ, ডাকাতি, অস্ত্রবাজি, মাদক বিক্রি ও পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

গত ১৪ মাসে রোহিঙ্গাদের হাতে ২২ জন রোহিঙ্গা খুন হয়েছে। ক্যাম্পে নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে আহত হয়েছে কয়েক শতাধিক। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থল উখিয়া ও টেকনাফ থানায় তাদের বিরুদ্ধে হয়েছে আড়াই শতাধিক মামলা।

রোহিঙ্গাদের এই অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় জনগণ। তবে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বহিনীর নজরধারী বৃদ্ধির পাশাপাশি রাতের বেলায় যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এই অভ্যান্তরিণ কোন্দলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের আধিপত্য, গোষ্টিগত, পারিবারিক, নিজ দেশে বিরোধের জেরসহ নানা কারণে খুনখারাবি ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে ক্যাম্পের মধ্যে যারা মাঝি ও হেড মাঝি রয়েছে তাদের মধ্যে অভ্যান্তরীণ কোন্দল একটু বেশি। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত ছয়টি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

জানতে চাইলে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২ রোহিঙ্গা নেতা লালু মাঝি জানান, ‘ভিন্ন দেশে এসে আমাদের এই হানাহানি ও অরাজকতা দুঃখজনক। আমরা কবে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারব সেই চিন্তা না করে এক শ্রেণির রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনায় মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করছে না। আমরা ক্যাম্পে নিয়োজিত আইন শৃংখলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। যাতে অপরাধিরা মাথাছাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।’

উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মোক্তার আহমদ জানান, ‘ কিছু রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা নতুন আসা আনরেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গাদের সহ্য করতে পারে না। তারা কথায় কথায় নতুন আসা রোহিঙ্গাদের উপর হাত তুলছে। এতে করে ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে এবং খুন খারাবির দিকে পুরো ক্যাম্প এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরিন কোন্দলের কারণে ২২টি হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডের বিষয়টি স্বীকার করে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গারা মাদক বিক্রি ও পাচারে জড়িয়ে পড়েছে। ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবিাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশের যৌথভাবে দিন-রাত প্যাট্রোল টিম দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে’।

মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংস নির্যাতন থেকে জীবন বাঁচাতে গত বছর ২৫ আগস্ট থেকে পালিয়ে আসাসহ কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখের অধিক। এসব রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে উখিয়া-টেকনাফের সাড়ে ছয় হাজার একর জায়গায় অবস্থিত ৩০টি ক্যাম্পে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয়ের পাশাপাশি সার্বিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। আশ্রিত এসব রোহিঙ্গাদের দেশি-বিদেশি এনজিওর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার তাদের খাদ্য, অস্থায়ী বাসস্থান, চিকিৎসা, বস্ত্র, লেখাপড়া, বিনোদনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও স্বসম্মানে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে কুটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। কিন্তু এসব সুযোগ সুবিধাকে পুঁজি করে তারা ঘটাচ্ছে একের পর এক অপরাধ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র ও মরণ নেশা ইয়াবাও।