চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮

বিন সালমানই খাসোগি হত্যার নির্দেশদাতা: সিআইএ

প্রকাশ: ২০১৮-১১-১৭ ০৯:৩৫:২৬ || আপডেট: ২০১৮-১১-১৭ ১১:৫৯:০৪

ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে দেশটির নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার ঘটনা তদন্ত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এই হত্যাকাণ্ডে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতাকে সবচেয়ে যু্ক্তিসঙ্গত হিসেবে উল্লেখ করেছে। আর এই কাজে সহযোগিতা ছিল মোহাম্মদ বিন সালমানের ছোট ভাই যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এটি তুলে ধরা হয়েছে।

যদিও এই ঘটনায় রাজপরিবারের কোনোরকম সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে সৌদি আরব। সম্প্রতি সৌদি আরব জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশটির শীর্ষ এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

ওয়াশিংটন পোস্টের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআইএ যেসব তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তার মধ্যে অন্যতম যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ছোট ভাই ও আমেরিকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে খাসোগির টেলিফোনালাপ। ওই ফোনালাপে খালিদ খাসোগিকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে গিয়ে সৌদি কনস্যুলেট থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করতে বলেন এবং এই নিশ্চয়তা দেন যে তার কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু খাসোগি সেখানে গিয়ে নিহত হন এবং এর দু’দিন পরই খালিদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে তড়িঘড়ি করে সৌদি আরবে ফিরে যান। তাকে আর ওয়াশিংটনে ফেরত পাঠানো হয়নি।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পরপরই ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট থেকে করা একটি ফোনকলও আমলে নিয়েছে সিআইএ। ওই ফোনকলে খাসোগি হত্যাকাণ্ডের ঘাতক দলের সদস্য মাহের মুতরেব জানান, ‘অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে’। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ট মিত্রকে বাঁচাতে চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সিআইএর এই প্রতিবেদনের পর সৌদির ক্রাউন প্রিন্সকে বাঁচানোর চেষ্টা ট্রাম্পের জন্য আরো জটিল হতে পারে। এই প্রতিবেদনের বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এটি গোয়েন্দাদের বিষয়। তবে এ বিষয়ে সিআইএ বা রাজ্য বিভাগ মন্তব্য করেনি।

গত বৃহস্পতিবার খাসোগিকে টুকরো টুকরো করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানিয়েছে সৌদি সরকারের আইনজীবী। এছাড়া ১৭ জন সৌদি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এছাড়া এখন পর্যন্ত খাসোগির মৃতদেহের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় শুক্রবার পবিত্র মক্কা ও মদিনাসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে খাসোগির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি সরকার এখন পর্যন্ত খাসোগির মরদেহ হস্তান্তর না করায় এ জানাজার আয়োজন করা হয়। মদিনার মসজিদে নববীতে জানাজায় খাশোগির ছেলে সালাহ খাশোগিও অংশ নেন। আজ ফজরের নামাজের পর সেখানে জানাজার আয়োজন করা হয়।

খাসোগিকে বর্বরভাবে হত্যা, মানবাধিকার কর্মীদের আটক ও ইয়েমেনে নির্বিচার বোমা হামলার জন্য সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করার লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে একটি বিল আনা হয়েছে। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন সিনেটর এ বিল আনেন। ‘সৌদি আরাবিয়া অ্যাকাউন্টিবিলিটি অ্যান্ড ইয়েমেন অ্যাক্ট ২০১৮’ নামের এ বিলটি বৃহস্পতিবার সিনেটে তোলেন সিনেটর বব মেনেন্ডেজ ও টোড ইয়ং। তাদের সঙ্গে রয়েছেন জ্যাক রিড, লিন্ডসে গ্রাহাম, জিন শাহীন ও সুসান কলিন্স।

গত দুই অক্টোবর তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজ আনতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশটির নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করা হয়। তুরস্ক প্রথমে সৌদির বিরুদ্ধে খাসোগিকে হত্যার অভিযোগ আনলে তা অস্বীকার করে সৌদি। তবে আন্তর্জাতিক চাপ ও হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন প্রমাণ গণমাধ্যমে প্রকাশ হতে থাকলে একপর্যায়ে তাকে হত্যার কথা স্বীকার করে বার্তা দেয় সৌদি। শুরুতে হাতাহাতিতে তার মৃত্যু হয়েছে এমনটি জানানো হলেও পরে বলা হয় যে তাকে উগ্র কিছু কর্মকর্তা হত্যা করেছে। তবে তাতে সৌদি যুবরাজ বা রাজপরিবারের কেউ জড়িত নয় বলে জানানো হয়। খাসোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করলেও এখনো তার মৃহদেহ কোথায় তা জানায়নি সৌদি।

গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে তাকে টুকরো টুকরো করে হত্যার পর এসিড দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়া খাসাগি হত্যাকাণ্ডের অডিও রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের কাছে হস্তান্তর করেছে তুরস্ক।

এ ঘটনায় তুরস্ক শেষপর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ না নিলেও পরবর্তীতে ন্যাটো সদস্যভুক্ত কোনো দেশে এমন ঘটনা ঘটলে তার কঠিন পরিণতি হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।