চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

নির্বাচন চাইলে সংঘাত বন্ধ করুন: বিএনপিকে কাদের

প্রকাশ: ২০১৮-১১-১৫ ১২:১৯:৫৫ || আপডেট: ২০১৮-১১-১৫ ১৭:২৪:৩৬

বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন চাইলে সংঘাত বন্ধ করুন।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা আজ পল্টনে পুলিশের উপর হামলা করেছে।

তিনি বলেন, দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ওপর হামলা করে বিএনপি আবারও প্রমাণ করেছে তারা সন্ত্রাসী দল। ‘সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা পুলিশের দু’টি গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জন পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হয়েছে। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাহলে তারা কি নির্বাচন পেছানোর জন্য পুলিশের উপর হামলা করে নিজেদের বীরত্ব জাহির করলো?’

বিএনপি’র একজন সিনিয়র নেতার নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘বিএনপি বোমা-সন্ত্রাসের দল। দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তারা শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করতে চায়।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মিথ্যাচারেই আপনাদের রাজনীতি। আপিন আবারও মিথ্যাচার করলেন। পুলিশ কেন সরিয়ে দেবে? সেখানে ভিডিও ফুটেজ আছে। সম্পূর্ণ নীরব দর্শক ছিল পুলিশ, সাংবাদিকরা ছিল। আপনি আবারও মিথ্যাচার করলেন বিএনপির সেই পুরনো নিয়মে। সেই ভাঙা রেকর্ড আজও আপনি বাজাতে গেলেন। এত মিথ্যার বেসাতি কেন করলেন?’

ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতির মাঠ সরগরম করার চক্রান্ত হচ্ছে। যে ষড়যন্ত্র নির্বাচন বানচালের, সেই ষড়যন্ত্রই কি তারা শুরু করে দিলো? আমরা যে আশঙ্কা করেছিলাম, তারা সেটাই করল? তারা কি আজ জাতিকে জানান দিলেন যে ২০০১ সালে, ২০১৪ সালে তারা যেটা করেছে, আবারও তারা সেটাই করবে?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর হামলা হলেও পুলিশ ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে, পাল্টা আক্রমণ করেনি। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য ধরতে বলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত। নির্বাচন কমিশন কি ব্যবস্থা নেয়, সেদিকে আমরা তাকিয়ে আছি। প্রকাশ্য দিবালোকে তারা যা করলো, সে বিষয়ে কমিশন কি করবে, তা আমরা দেখতে চাই, জানতে চাই।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, যতো ষড়যন্ত্রই হোক এই নির্বাচন মানুষের প্রত্যাশার নির্বাচন। মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। নির্বাচন বাঞ্চালের চেষ্টা করলে বাংলাদেশের জনগণই তা প্রতিহত করবে।’

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে যাওয়া নয় নির্বাচন বানচাল করতে চান তারা, তারা জনপ্রিয় শেখ হাসিনা সরকারকে হটাতে চায়। যত ষড়যন্ত্রইহোক নাশকতাহোক এই নির্বাচন জনগণের অনেক প্রত্যাশার নির্বাচন হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে তাঁর বক্তৃতা শেষ হবার পর এই সংবাদ শুনেছেন এবং তিনি বলেছেন, ধৈর্য্য ধরতে। পাল্টা আক্রমণ যে পুলিশ করেনি এ কারণে তিনি পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের বিষয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। সেখানে আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনা স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, একজনকে নৌকার প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় ও নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হবে। দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করলে সঙ্গে সঙ্গেই আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি ও আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।