চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রাম নগর আ’লীগের সভায় এমপি লতিফের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

প্রকাশ: ২০১৮-১১-১২ ২৩:২৯:৪৫ || আপডেট: ২০১৮-১১-১৩ ১৪:৪৪:৩৩

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শেষ কার্যনিবাহী কমিটির সভায় চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এম এ লতিফের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের মহানগর শাখার একাধিক নেতা। এছাড়া শেষ সভায় লতিফসহ কমিটির সাবেক এবং বর্তমান তিন নেতা অনুপস্থিত থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান নেতারা।

সোমবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর দারুল ফজল মার্কেটের দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী। বরাবরের মতো সভায় ছিলেন না সহ-সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমিন এবং এম এ লতিফ।

সভায় উপস্থিত নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও আলতাফ হোসেন বাচ্চু এবং সদস্য মো. ইলিয়াছ সভায় লতিফের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।

নেতারা বলেন, এম এ লতিফ নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও তিনি কখনোই দলের নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করেননি। গত সংসদ নির্বাচনেও তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিজের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করেছিলেন। তবে গতবারের নির্বাচন আর এবারের পরিস্থিতি এক নয়। উনি (লতিফ) সব সময় আওয়ামী লীগ পরিবারে দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদের সৃষ্টি করেছেন।

সূত্র মতে, সভায় আলতাফ হোসেন বাচ্চু সাম্প্রতিক সময়ে এম এ লতিফের আসনের অধীন একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদলির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সরকারের নির্দেশ আছে সন্ত্রাসী-নাশকতাকারীদের যেন গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে গেলে আমাদের দলীয় সংসদ সদস্য জুলুম করে, জোর-জবরদস্তি করে ওসিকে বদলি করতে বাধ্য করেন। এতে পুলিশের কাছে আমাদের সরকার এবং দল সম্পর্কে ভুল বার্তা যাচ্ছে।

মন্ত্রী-এমপিরা সভায় অনুপস্থিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ এই সভায়ও তারা (নেতা) আসেননি। তাহলে তারা আর কোন সভায় আসবেন; উনাদের কি দল লাগবে না- প্রশ্ন রাখেন তিনি।

জানতে চাইলে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সম্ভবত আমাদের আর কার্যনির্বাহী কমিটির সভা করা সম্ভব হবে না। এই সভাতেও মন্ত্রী-এমপিরা না আসায় নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। কারণ, উনারা আবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী। স্বাভাবিকভাবেই সেটা নিয়ে সভায় আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।’

সূত্র আরও জানায়, সভায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ওয়ার্ড ও কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর বাইরে কোনো প্রার্থী যদি ব্যক্তিগতভাবে কমিটি গঠন করতে চান, তাতে যোগ না দেওয়ার জন্য থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটির নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সভায় নির্বাচনের আগে অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিশৃঙ্খলা নিরসনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।