চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

কোটিপতি হবার স্বপ্নে অভিনব কায়দায় ব্যাংক চুরির চেষ্টা রাউজানের মহিউদ্দিনের

প্রকাশ: ২০১৮-১১-১২ ১৫:৪৯:২৬ || আপডেট: ২০১৮-১১-১২ ১৫:৪৯:২৬

ব্যবসায়ে বন্ধুর কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর চাকরি নেন ঢাকার এক অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে। সেই প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা মেরে চলে আসেন চট্টগ্রামে। এবার কোটিপতি হবার স্বপ্নে বিভোর যুবকটি অভিনব কায়দায় ব্যাংকে চুরির চেষ্টা করেন। তবে একের পর এক চেষ্টা করেও শেষতক সফল হননি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন হাসান (২৮)।

পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ইমরান খানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ব্যাংক চুরির নানান কায়দা বর্ণনা করেন তিনি।

মহিউদ্দিন হাসানের কাছ থেকে চুরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কে এই মহিউদ্দিন?

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গুজরা ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকার মোহাম্মদ ইলিয়াছের ছেলে সে।

যেভাবে অপরাধ জগতে এলো যুবকটি

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম জানান, বিভিন্ন ব্যবসায় লসে পড়ে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন মহিউদ্দিন হাসান। অতীতে একবার গ্রেফতার হয়ে ৪ মাস কারাভোগও করেন।

জামিনে বের হয়ে ঢাকায় একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। পরে ওই প্রতিষ্ঠানের ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা চুরি করে চট্টগ্রামে পালিয়ে আসেন।

অভিনব কায়দা

নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. ইলিয়াছ খান বলেন, মূলত গ্রাহক সেজে বিভিন্ন কৌশলে ব্যাংকের বাথরুমে লুকিয়ে থাকতো মোহাম্মদ মহিউদ্দিন হাসান। পরে রাতে নিরবে ব্যাংকের লকার ভেঙে টাকা চুরির চেষ্টা চালাতো।

কী ঘটেছিল সিটি ও এবি ব্যাংকে?

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম বলেন, মহিউদ্দিন হাসান সিটি ব্যাংকের আগ্রাবাদ ও জিইসি শাখায় দিনের বেলায় গ্রাহক সেজে ঢুকে বাথরুমে লুকিয়ে ছিলো। ব্যাংকের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সিলিংয়ের উপর থেকে নিচে নেমে সকল সিসিটিভি এবং অ্যালার্ম সিস্টেম বন্ধ করে চুরির চেষ্টা করে।

একই পদ্ধতিতে আগ্রাবাদ এবি ব্যাংকে ঢুকে চুরির সরঞ্জামাদি সিলিংয়ের উপর রেখে বাথরুমে বসে থাকেন। কিন্তু এবি ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মীরা বাথরুম বন্ধ দেখে কর্তৃপক্ষকে জানায়। কর্তৃপক্ষ বাথরুমের দরজা খুলে তাকে ভিতরে দেখতে পায়। তখন মহিউদ্দিন মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার অভিনয় করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহক মনে করে তাকে ‘সুস্থ’ করে বিদায় করে দেয়।

পুলিশের কাছে যা বলল যুবকটি

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম বলেন, ব্যাংক চুরির কিছু ঘটনা তদন্তে গিয়ে যুবকটির খোঁজ পায় পুলিশ। পরে শনিবার সন্ধ্যায় নগরের লালখানবাজার ইস্পাহানি মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আর তখন সে স্বীকার করে সৌদি আরব থেকে দেশে এসে হোটেল ব্যবসা করা, সেখানে লস হওয়ার পর ঢাকায় গিয়ে নিজে আবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করা এবং সেখানেও লস হওয়ার পর অনলাইন প্রতিষ্ঠানে চাকরী নেয়ার পর নগদ টাকা চুরি করে পালিয়ে আসার কথা। এরপর ব্যাংক চুরির ঘটনাও জানায় সে।