চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামে ‘কুপ্রস্তাবে’ সাড়া না দেয়ায় ৯ ছাত্রীকে ‘ফেল’ করানোর অভিযোগ

প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৭ ২৩:৩৩:৪০ || আপডেট: ২০১৮-১১-০৮ ১৪:৪০:৪৮

শিক্ষকের ‘কুপ্রস্তাবে’ সাড়া না দেয়ায় চট্টগ্রাম সিটি (চসিক) করপোরেশন পরিচালিত কৃষ্ণকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষায় ৯ ছাত্রীর খাতা আটকিয়ে রেখে ‘ফেল’ কারানোর অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার এর প্রতিকার এবং ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে চসিক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীনের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

বুধবার বিষয়টি তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ওই শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিয়েছেন।

ওই নয় শিক্ষার্থীর অভিযোগে জানা যায়, নগরের কোতোয়ালী থানাধীন রহমতগঞ্জে অবস্থিত কৃষ্ণকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশান্ত বড়ুয়া দশম শ্রেণির ছাত্রীদের বিভিন্ন সময় ‘অনৈতিক প্রস্তাব’ দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানানোর পর দশম শ্রেণিতে পাঠদান থেকে প্রশান্ত বড়ুয়াকে বিরত রাখা হয়।

শিক্ষার্থীদের এসএসসির টেস্ট (নির্বাচনী) পরীক্ষার গণিত বিষয়ে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ২০৪ নম্বর কক্ষে পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষক প্রশান্ত বড়ুয়া।

সেদিন তিনি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ নয় ছাত্রীর পরীক্ষার খাতা দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় আটকিয়ে রেখে মানসিক টর্চার করেন। পরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ১০ মিনিট আগে খাতা ফিরিয়ে দেন।

পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়েই সেই ৯ ছাত্রী বিষয়টি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহমেদ হোসেনকে জানান।

এ প্রসঙ্গে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, মেয়র স্কুলের প্রধান শিক্ষককে মোবাইল করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। আর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে কীভাবে তাদেরকে পরীক্ষায় সুযোগ দেয়া যায়।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহেদা ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। সিটি করপোরেশনকেই দায়িত্ব নিয়ে বিষয়টি সমাধান করতে হবে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করালে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে হবে।

কৃষ্ণকুমারী স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহমদ হোসেন বলেন, ওই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। এরপরই পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে শিক্ষক প্রশান্ত বড়ুয়ার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।