চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

আপন ছকে আওয়ামী লীগ, ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলনে

প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৭ ২০:৫০:৩৩ || আপডেট: ২০১৮-১১-০৮ ১১:৩৮:১৪

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের দুই দফা সংলাপ জাতিকে অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিতে পারেনি। সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য সরকারের কাছে তুলে ধরা ৭ দফার প্রধান দাবিগুলোই নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের আগে বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া, দলীয় সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালী নির্দলীয় সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির নিশ্চয়তা পায়নি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। রাজনৈতিক মতবিভেদ জিইয়ে রেখেই বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণাকে সমর্থন করেছে আওয়ামী লীগ।

বুধবার (৭ নভেম্বর) গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দফা সংলাপ শেষে বিকেলে বেইলি রোডে সংবাদ সম্মেলন করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা সংলাপের মাধ্যমে দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেছি। আমরা চেয়েছি শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি আদায় করতে। এখন বল প্রধানমন্ত্রীর কোর্টে। এরপর যা হবে তার দায়-দায়িত্ব সরকারের।

তিনি বলেন, সারা দেশে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে আর মামলা দায়ের না করা এবং নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার না করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু অন্য বিষয়গুলো অমিমাংশিত রয়েছে গেছে। আমরা চাই একটা স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে সবকিছু হোক।

সংবাদ সম্মেলনে সংলাপ সফল না হওয়ার দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়ে দেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করা হবে। আমরা আন্দোলনে আছি। কাল রাজশাহীতে সমাবেশ হবে। সংলাপ আমাদের আন্দোলনেরই অংশ। যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। সরকার যদি তা না চায়, তার দায়ভার তাদের। আমরা আমাদের দাবিগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে, তাদের সঙ্গে নিয়েই আন্দোলন মাধ্যমে দাবি আদায় করবো।

নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে-এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, তফসিলের সঙ্গে আলোচনার কোনো সম্পর্ক থাকবে না। প্রয়োজনে তফসিল আবার পরেও ঘোষণা করা যাবে। ওটাকে রিসিডিউল করা যেতে পারে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আলোচনা মনঃপূত হয়নি, দ্বিতীয় দফা সংলাপেও কোনো ‘সমাধান’ পাইনি।

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের সংলাপ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে । তবে চাইলে এর পরও ছোট পরিসরে সরকার দলীয়দের সঙ্গে বিরোধী দল ও জোটের আলোচনা চলতে পারে। সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে একজন প্রধান উপদেষ্টার অধীনে ১০ জন উপদেষ্টামণ্ডলীর সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের পুরনো ফর্মুলা তুলে ধরা হয়। এই দাবিগুলো ‘সংবিধানসম্মত নয়’ বলে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের জানান ওবায়দুল কাদের।

বিরোধীদের বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে ৯০দিন পর নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটি গ্রহণযোগ্য নয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন পরে নির্বাচনের দাবির ক্ষেত্রে কোনো দূরভিসন্ধি বা কৌশল থাকতে পারে। এখানে তৃতীয় কোনো শক্তির ক্ষমতায় আসার সুযোগ থাকে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সব পক্ষকে সমান সুযোগ দেয়া, রাজনৈতিক মামলার সুরাহা করাসহ সংবিধান সম্মত যেসব বিষয়ের দাবি তারা করেছে সেগুলোর বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা পূর্বঘোষিত বৃহস্পতিবারই তফসিল ঘোষণায় অনঢ় রয়েছেন। তার এই তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। বুধবার নির্বাচন ভবনে গিয়ে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অবস্থান জানায় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। ১৬ সদস্যের এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টায় সিইসি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ওই ভাষণেই তিনি একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। এ ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি ও বেতার।

এর আগেই গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আয়োজিত সংলাপের ফলাফল নিয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণভবনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা তাদের করণীয় নিয়ে দফায় দফার মিটিং করছেন। এরই মধ্যে ঢাকা থেকে রাজশাহী অভিমুখে পূর্বনির্ধারিত রোডমার্চ কর্মসূচি তারা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে রোডমার্চ বাতিল করলেও রাজশাহীতে জনসভা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।- পূর্বপশ্চিম