চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলনের ডাক

প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৬ ১৯:২০:০৭ || আপডেট: ২০১৮-১১-০৬ ২০:৩১:৩০

আগামীকালের সংলাপে দাবি না মানা হলে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা থেকে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচিও দিয়েছে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনের নির্বাচনের দাবিতে গড়ে ওঠা নতুন এই জোটটি।

রাজধানীতে প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভা অনুষ্ঠিত। বিএনপির নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

জনসভায় বক্তব্য রাখেন ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আ স ম আব্দুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না, মওদুদ আহমেদ, সুলতান মনসুরসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। বক্তারা সবাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করেন। দাবি মানা না হলে আন্দোলনের ডাক দেন।

জনসভা থেকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। এর মধ্যে আগামীকালের সংলাপে দাবি না মানা হলে ৮ নভেম্বর রাজশাহী অভিমুখে লংমার্চ; সেখানে পরেরদিন ৯ নভেম্বর সমাবেশ করা হবে; এরপর ধারাবাহিক ভাবে খুলনা ও ময়মনসিংহেও লংমার্চ ও সমাবেশ এবং নির্বাচন কমিশন তফসিল না পেছালে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা।’

জনসভায় প্রধান অতিথি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামালা হোসেন বলেন, ‘দেশের মালিক জনগণ। অধিকার আদায়ের দেশের মানুষরা দাঁড়িয়েছে এবং দাঁড়িয়ে থাকবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি দেশের মানুষকে মালিকানা ফিরিয়ে দিতে। আমরা জনগণকে দেশের মালিক করে তবেই ছাড়বো ইনশাল্লাহ।’

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা জনগণের মুক্তি চাই। গণতন্ত্রের মুক্তি চাই। আমরা সংলাপ চাই। কিন্তু সংলাপের নামে নাটক চলবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে, তা না হলে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের ৭ দফা দাবি আদায় করবো।’

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘৭১-এ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যেভাবে দেশকে স্বাধীন করেছিলাম, তেমনিভাবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘উন্নয়নের ফাঁদে দুর্নীতির কারণে সরকারের উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই কারণে আজকে আমাদের কি করনীয় সেই চিন্তা করতে হবে। গত ১০ মাসে নাশকতার নাম করে বিনা বিচারে সাড়ে পাঁচ জনকে সরকার হত্যা করেছে। এছাড়া কত হাজার লোককে হামলা, মামলা চালিয়েছে তার সবই আমাদের জানা।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকের (মঙ্গলবার) সমাবেশ সাত দফা দাবির পক্ষের সমাবেশ। এই সাত দফা দেশের জনগণের দাবি। দেশের জনগণ সাত দফা দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। তাই আমরা দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব। বুধবার ফয়সালা করুন, সমাধান দিন। যদি সাত দফা দাবি না মানেন, তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমাদের এক নম্বর কথা শেখ হাসিনা, বর্তমান ইসির অধীনে নির্বাচন হবে না। আমরা কাল আবার আলোচনা করতে যাবো। যদি আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায় না হয়। তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথ প্রকম্পিত করে দাবি আদায় করা হবে।’