চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

ভিখারীর অর্থও লুটে খেল ওসেপ

প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৬ ১৯:২০:৩৯ || আপডেট: ২০১৮-১১-০৬ ২০:৩৪:০৫

আখতার হোসাইন

চট্টগ্রাম ভিত্তিক অর্গানাইজেশন অব সোস্যাল সার্ভিস অ্যান্ড এলিমিনেশন অব পোভার্টি (ওসেপ) নগরীর বিভিন্ন স্থানে অফিস, শাখা অফিসের মাধ্যমে হতদরিদ্র লোকদেরকে দ্বিগুণ, তিনগুণ লাভের প্রতিশ্র“তি দিয়ে ২০হাজার গ্রাহকের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই সব গ্রহকদের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে প্রায় ৩বছর। গ্রাহকরা এখনো ওসেপ অফিসসহ নগরীর প্রত্যান্ত এলাকায় ওসেপ কর্মকর্তাদের খুঁজছে।

ভিক্ষা করে মেয়ের বিয়ের জন্য জমানো টাকাও রেখেছে অনেক ভিখারী। দিনমজুর, শ্রমিক, গৃহকর্মী, গার্মেন্টস কর্মী, জিএনজি চালক ইত্যাদি ধরনের লোক থেকে ১০হাজার থেকে শুরু করে ১০লক্ষ টাকা পর্যন্ত আমানত সংগ্রহ করেছে তারা।

চট্টগ্রাম শহরের এনায়েত বাজারের বাটালি রোডে চারতলা ভবনে ওসেপের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা: জসিম উদ্দিন। অল্প সময়ে বেশী লাভের লোভ দেখিয়ে রাতারাতি বিশাল অংকের আমানত সংগ্রহ করে বসে তিনি। ২০১৫ সালে জসিম উদ্দিন মারা যাওয়ার পর এই প্রতিষ্ঠানের হাল ধরে তার স্ত্রী। তবে তার মৃত্যুর পর থেকে কোন গ্রহক টাকা পায়নি বলে অভিযোগ করেন গ্রাহত আজগর আলী।

আজগর আলী জানান, ডাবল লাভের আশায় বিভিন্ন সময়ে এ সংস্থায় আমি ৪লক্ষ টাকা আমানত রেখেছিলাম। এখনো একটি টাকাও পায়নি। শ্রমজীবি আজগর আলী বলেন, জীবনে যা অর্জন করেছি তাই এখানে রেখেছি। এখন কোন কর্মও করতে পারছি না অন্যদিকে ওসেপে গচ্ছিত রাখা টাকা গুলো পাওয়ারও কোন আশা দেখছে না।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। টাকা ফেরতের আশায় প্রতিদিন অসংখ্য গ্রাহক কার্যালয়ের সামনে ভিড় করে। অফিস তালাবদ্ধ দেখে তারা হতাশ হয়ে ফেরত যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ টাকা হারিয়ে বিলাপ করছেন।

ওসেপের গ্রহক আমেনা খাতুন বলেন, ভিক্ষা করে কোন রকমে দিন যাপন করতার মেয়ে নিয়ে খুলশী এলাকায় বসবাস করতাম। মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ভিক্ষা টাকা থেকে না খেয়ে, না পড়ে প্রতিদিন টাকা জমা দিতাম ওসেপে। কিন্তু আজ সব হারিয়ে পথে পথে ঘুরছি। তার ২লক্ষা টাকা সেখানে জমা ছিল।

অপর কর্মী তসলিমা বেগম জানান দৈনিক ৫০ টাকা করে সপ্তাহে সাড়ে ৩০০ টাকা ওসেপের মাঠকর্মীকে জমা দিয়েছি। এ পর্যন্ত আমার আমানত দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার টাকা। চার বছর পর আমাকে ১ লাখ টাকা দেয়ার অঙ্গীকার করেছিল ওসেপ। স্বামীর আয় থেকে অনেক কষ্টে এ টাকা আমানত রেখেছিলাম লাভের আশায়। এখন তো সব শেষ।

জানা গেছে, ওসেপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তার গ্রামের বাড়ী নরসিংদিতে এই টাকা নিয়ে ২টি ইটভাটা স্থাপন করে আর নগরীর বাটালী রোড়ে নিজস্ব জায়গা নিয়ে চারতলা বিশিষ্ট এক ভবন নির্মাণ করেন।

এখন এই সংস্থার গ্রহকরা কখনো তাদের মাঠকর্মীদের বাসা-বাড়ীতে, কখনো থানায়, কখনো জেলা প্রশাসকে কার্যালয়ে আবার কখনো ওসেপ অফিসে গিয়েও কোন প্রকার সুরাহা পাচ্ছে না।

পালিয়ে থাকা ওসেপের ফিল্ড অফিসার জাহানারা বেগম লাকীকে গত ৪ নভেম্বর খুশলী এলাকা থেকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে গ্রাহকরা। পরে গ্রহকরা থানার সামনে বিক্ষোভ করে এবং প্রতারক জাহানারার বিরুদ্ধে মামলা নিতে বাধ্য করে।

খুলশী থানাও ওসি শেখ মো: নাসির উদ্দিন বলেন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোক্ত জাহানারা লাকীসহ ৯জনকে আসামী করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এদিকে গতকাল জাহানাকে আদালতে আনা হলে খুলশী এলাকায় বসবাস রত ৩শতাধিক নারী পুরুষ আদালতে ভীড় করে এবং মিছিলসহকারে কোর্ট হিলে উঠার সময় পুলিশ বাধা দেয়। পরে তারা লালদীঘিতে বিক্ষোভ করে এবং তাদের জামাকৃত টাকা ফেরতের জন্য প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান জানান।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, খুলশী থানার ঝাউতলা

এলাকার থেকে ওসেপের কিছু গ্রাহক তাদের পাওনা টাকার জন্য আদালতে এসে বিক্ষোব করার পরিকল্পনা ছিল। তা বুঝতে পেরে আমরা শৃংখলার স্বার্থে জেলা পরিষদ মার্কেটে সামনে তাদের বাধা দিই। পরে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।