চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

চবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরিবহন চালককে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশ: ২০১৮-১১-০২ ১২:১৪:৪৪ || আপডেট: ২০১৮-১১-০২ ১২:১৪:৪৪

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন এবং কেমিকৌশল বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির এক পরিবহন চালককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে.এম নুর আহমদ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি উপাচার্য মহোদয় দেখছেন। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।’

অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. হেলাল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জননেত্রী শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্টের দায়িত্ব পালন করছেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়- গত সোমবার (২৯ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ মোড়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন দফতরের চালক মো. জসিম উদ্দিনকে তিনি মারধর করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার স্বার্থে তখন কোনও অভিযোগ না দিলেও দুই দিন পর ভুক্তভোগী চালক ও কর্মচারী সমিতি পৃথকভাবে অভিযোগ দিয়েছে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে শহর থেকে সকালে শিক্ষকদের আনতে যান জসিম। তার দায়িত্ব ছিল ছয় শিক্ষককে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার। ডিউটি রোস্টারে (ডিউটি তালিকা) উল্লেখিত স্থানে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছোন তিনি। প্রথমে রসায়ন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক বেনু কুমার দে এবং ফলিত রসায়ন এবং কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হেলাল উদ্দিনকে নিতে যান জসিম। অধ্যাপক বেনু কুমার দে গাড়িতে উঠলেও অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নির্ধারিত স্থানে না থাকায় চালক তাকে ফোন করেন। কিন্তু তিনি রিসিভ না করলে বিষয়টি জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন মাহাবুবুর রহমানকে জানান জসিম। এর মধ্যে গণিত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. গণেশ চন্দ্র রায়, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল আজিম গাড়িতে উঠলে তারা জানান অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন পাঁচলাইশ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। পরে গাড়ি নিয়ে পাঁচলাইশ মোড়ে পৌঁছালে অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন গাড়ি চালক জসিমকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন ও তার নাকে-মুখে কিল-ঘুষি মারেন। এতে চালক জসিম আহত হন। তবে তিনি গাড়ি চালিয়ে শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে দেন।

এদিকে এই ঘটনায় কর্মচারী সমিতি থেকে দেওয়া অভিযোগে ওই শিক্ষককে প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানের দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে ওইদিন গাড়িতে উপস্থিত থাকা একাধিক শিক্ষক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করলেও গণমাধ্যমে কোনও বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

একই বিষয়ে কর্মচারী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা বলেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আমরা লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যকে জানিয়েছি। উপাচার্যের ওপর আমাদের আস্থা আছে। আশা করছি বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ অভিভাবকের কাছে ন্যায়বিচার পাবো।’

এ বিষয়ে কথা বলতে চেয়ে শিক্ষক অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিনের মোবাইলফোনে কল করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।