চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেয়ার জেরে শাহ আলম খুন

প্রকাশ: ২০১৮-১১-০১ ১৯:৫১:৫৬ || আপডেট: ২০১৮-১১-০২ ১১:৪৫:৩২

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হাত পায়ের রগ কেটে মোঃ শাহ আলম (২৩) নামে এক যুবককে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গত বুধবার (৩১ অক্টোবর) রাতে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর ঢালাপুকুর পাড় নামক পাহাড়ে এঘটনা ঘটে। নিহত শাহ আলম ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর গ্রামের আলী আকবরের ছেলে। শাহ আলম পেশায় গ্রীল মিস্ত্রি ছিল। বৃহস্পতিবার (১নভেম্বর) নিহত লাশ ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বাদ এশা দাফন করা হবে। ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে পুলিশ আটক করতে পারেনি।

নিহতের বাবা মো.আলী আকবর অভিযোগ করেন, জমিতে ট্র্যাক্টার চালানো ও মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেয়ায় মধ্যম ওয়াহেদপুর গ্রামের ফকির আহম্মদের ছেলে সোহেলের সাথে প্রায় এক বছর আগে শাহ আলমের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার মধ্যম ওয়াহেদপুর ঢালাপুকুর পাড় নামক পাহাড়ের উপর সোহেল, মুনছুর আহম্মদের ছেলে রায়হানসহ ৫-৬জন মিলে শাহআলমের হাত পায়ের রগ কেটে দেয়। ঘটনার পর তারা এক মহিলাকে পাঠিয়ে শাহ আলমকে মেরে ফেলার খবর পাঠায়। শাহ আলমকে মারধরের খবর পেয়ে তাকে উদ্ধারের জন্য যাওযার পথে ওই সন্ত্রাসী সোহেল, রায়হান, শাহজাহান, জসিম, মিয়াখান আলাউদ্দিনেরও পথরোধ করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, রায়হান, সোহেল এলাকায় প্রকাশ্যে চোলাইমদ বিক্রি করত। বিভিন্ন সময় মাহ আলম এলাকা ছেলেদের নিয়ে তাদেরকে মদ বিক্রিতে বাঁধা দিত। এ কারণে শাহ আলমকে তারা হত্যা করেছে।

শাহ আলমের রগ কেটে দেয়ার সময় একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী আলা উদ্দিন জানান, শাহ আলমসহ সে (আলাউদ্দিন) গত মঙ্গলবার পাহাড়ের ভেতর দিয়ে ফটিকছড়ি যায়। বুধবার আবার তারা পায়ে হেঁটে বাড়ির উদ্দ্যেশে আসা পথে সন্ধ্যার দিকে মধ্যম ওয়াহেদপুর ঢালাপুকুর পাড় নামক পাহাড়ে সোহেল ও রায়হান তাদের পথরোধ করে। এসময় সোহেল আলাউদ্দিনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং আটকিয়ে রাখে। এরপর তারা শাহ আলমকে লোহার রড় দিয়ে পিটাতে থাকে। একপর্যায়ে তারা শাহআলমের হাত পায়ের রগ কেটে দিয়ে চলে যায়। পরে শাহআলমের বাবা ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সরেজমিনে বৃহম্পতিবার শাহ আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ছেলেকে হারিয়ে বিলাপ করছে মা হাবাধন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে পঙ্গু করে পেলে রাখতো। অন্তত সে বেঁেচ থাকতো। আমার ছেলে তো কোন অন্যায় করেনি। কেন তোরা আমার বুকের মানিককে কেড়ে নিলি। আল্লাহর কাছে তোদের বিচার দিলাম। আলী আকবর ও হাবাধনের ৩ সন্তানের মধ্যে শাহ আলম সবার ছোট। এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে শাহ আলমের লাশ বাড়িতে নেয়ার পর এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতরণ হয়। অনেককে বলতে থাকে একই গ্রামের ছেলে সবাই এভাবে রগ কেটে হত্যা করবে! তারা প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তারপুর্বক উপযুক্ত শাস্তি দাবী করেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার সুমন ঘোষ জানান, শাহ আলমকে হাসপাতালে আনার আগেই সে মারা যায়। তার হাত পায়ের রগ কাটা ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপে দাগ রয়েছে।

মিরসরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিপুল দেবনাথ জানান, নিহত যুবকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকান্ড নিয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কি কারণে হত্যাকান্ড ঘটেছে তার খোঁজখবর নিচ্ছি এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।