চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামে মা মেয়ে খুনের ঘটনায় মামলা

প্রকাশ: ২০১৮-১০-৩১ ০০:৩৩:২৮ || আপডেট: ২০১৮-১০-৩১ ১০:৫৯:৩৫

চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানা এলাকায় মা মেয়ে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে নিহত হোসেনে আরার মেয়ে রেশমি আকতার বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন বলে ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহির হোসেন জানান।

তিনি বলেন, নিহত পারভীনের স্বামী আবদুল মতিনকে আসামি করা হয়েছে মামলায়। ঘটনার পর থেকে মতিন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে পাঠানটুলি পশ্চিম মগ পুকুর পাড়ের গায়েবী মসজিদের বিপরীতে আবদুল হালির মালিকানাধীন দোতলা বাড়ির নিচতলায় পাশাপাশি দুটি ঘর থেকে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদেরকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতরা হলেন- নগরের ডবলমুরিং থানাধীন পাঠানটুলি পশ্চিম মগপুকুর পাড় এলাকার হোসনে আরা (৬০) ও তার মেয়ে পারভীন আক্তার (২২)। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধনবতী এলাকায়।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে খবর পেয়ে পাঠানটুলি পশ্চিম মগ পুকুর পাড়ের গায়েবী মসজিদের বিপরীতে আবদুল হালির মালিকানাধীন দোতলা বাড়ির নিচতলায় পাশাপাশি দুটি ঘর থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করে। নিচ তলায় একটি বারান্দার দুই পাশে ছোট আকারের এক কক্ষের মোট সাতটি বাসা। এর মধ্যে একটিতে থাকতেন হোসনে আরা ও তার ছেলে সোহেল। পাশের ঘরে স্বামী মতিনকে নিয়ে থাকতেন পারভীন। তাদের বিয়ে হয়েছিল দেড় বছর আগে। বিয়ের পর সিলেটে থাকলেও গত ১ অক্টোবর তারা চট্টগ্রামে এসে ওই বাসায় ওঠেন। তাদের কোনো সন্তান নেই। ঘটনার পর থেকে পারভীনের স্বামী মতিন পলাতক রয়েছে।

ঘটনাস্থলের অদূরে একটি বাসায় ভাড়া থাকেন হোসনে আরার মেজ মেয়ে রেশমী আক্তার ও তার স্বামী সাইফুল আলম। সাইফুল জানান, মতিন আগে সিলেটে ভাঙারির ব্যবসা করতেন। চট্টগ্রামে আসার পর রিকশা চালাতেন মতিন। আর পারভীন নগরীর চৌমুহুনি এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। মতিনের মাদকাসক্তির কারণে পারিবারিক অশান্তির হচ্ছিল, গত রোজায় পারভীনকে কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ঈদের পর মতিন গিয়ে আর মারধর করবেন না বলে পারভীনকে সিলেটে নিয়ে যান।

রেশমী আক্তার বলেন, গত সোমবার দুপুরে রিকশা না চালিয়ে মতিন বাসায় চলে আসে। এক প্রতিবেশী বাসায় ফিরে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে আমার মা-বোনকে নিয়ে বাজে কথা বলে। আমার মা কথাটা শুনতে পেয়ে প্রতিবাদ করে। পরে আমার বোন বিকালে এ নিয়ে কথা তুললে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয় বলে শুনেছি।

নিহত পারভীনের ভাই সোহেল স্থানীয় একটি বেকারিতে চাকরি করেন; তিনি বলেন, সোমবার রাত ১১টার দিকে ভাত খেয়ে আমি বেকারিতে চলে যাই। তখন আমার বোন টিভি দেখতেছিল। সকাল ১০টার দিকে বাসায় ফিরে দেখি মা খাটের ওপর মুখ বাঁকানো অবস্থায় শোয়া। সাড়া শব্দ না পেয়ে গায়ে হাত দিয়ে দেখি শরীর শক্ত হয়ে গেছে। পারভীনকে ডাকতে পাশের ঘরে গিয়ে দেখি তালা দেওয়া। তখন বাসার জানালা ঠেলে ভেতরে আমার বোনকে শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পায়।

ডবলমুরিং থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, মা ও মেয়েকে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি। সোমবার রাতে বা মঙ্গলবার সকালের কোনো এক সময় ওই হত্যাকা- ঘটে। পারিবারিক কলহের জের ধরে মতিনই তার স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।