চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

সাজা বাতিল না হলে নির্বাচনে অযোগ্য খালেদা জিয়া: অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রকাশ: ২০১৮-১০-৩০ ১১:৪৮:০৮ || আপডেট: ২০১৮-১০-৩০ ১১:৪৮:০৮

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মামলার অন্য আসামিদের ১০ বছরের সাজা বহাল রয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন।

খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, খালেদা জিযার সাজা বাতিল না হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

এর আগে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয় মন্তব্য করেছিলেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আপিল, অন্য আসামিদের আপিল এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাজা বৃদ্ধির আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গতকাল সোমবার রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য করেন আদালত।

গতকাল সকালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার আপিল হাইকোর্টে নিষ্পত্তিতে সময় বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান।

পরে মো. খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আপিল শুনানিতে এর আগে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। সেই আদেশ অনুসারে পুনরায় আপিল শুনানির সময় বৃদ্ধি চেয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আপিল বিভাগ সে আবেদন খারিজ করে দেন। এর ফলে এ মামলায় হাইকোর্টে আপিল নিষ্পত্তিতে পূর্বের নির্ধারণ করা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বহাল থাকছে। তাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টে করা খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি আর মাত্র একদিন পরেই (আজ মঙ্গলবার) নিষ্পত্তি করতে হবে।’

এছাড়া সোমবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অস্থায়ী আদালতের বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার অপর তিন আসামিকেও একই দণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এর আগে গত ৯ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আপিল গত ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। এরপর গত ৩১ জুলাই খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আরেক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। তবে খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তি করতে আরো সময় চেয়ে আপিল বিভাগে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন জানালে সোমবার (২৯ অক্টোবর) তা খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারত মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মামলার অন্য পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ের পর ওই দিনই খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। এ মামলায় ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়াসহ তিনজন কারাবন্দি। বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি দুজন হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।