চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

বিচারের অপেক্ষায় খালেদা জিয়ার আরও ৩৪ মামলা

প্রকাশ: ২০১৮-১০-৩০ ১১:০১:২১ || আপডেট: ২০১৮-১০-৩০ ১৬:০৪:৩৯

খালেদা জিয়াজিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায় হওয়ার পর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায় হলো। এ মামলা দুটি বাদ দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য দেশের বিভিন্ন আদালতে আরও ৩৪টি মামলা বিচারের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। হত্যা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, রাষ্ট্রদ্রোহসহ দুর্নীতি ও মানহানিকর বক্তব্যের অভিযোগে দায়ের হওয়া এসব মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত আছে ১৬টি মামলার কার্যক্রম

নাশকতার বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানীর দারুস সালাম থানার ১১ মামলা:

রাজধানীর গাবতলী, বালুর মাঠ ও মিরপুর মাজার রোড সংলগ্ন এলাকায় ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যানবাহন ভাঙচুর, পুলিশের কাজে বাধা দানসহ বেশ কিছু নাশকতার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় মোট ১১টি মামলা দায়ের করা হয়। ঢাকার বকশিবাজারস্থ বিশেষ জজ আদালতে মামলাগুলো বিচারের জন্য উঠলেও হাইকোর্টের আদেশের ফলে এর কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

হত্যা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ৪ মামলা:
২০১৫ সালের জানুয়ারিতে পেট্রোল বোমা দিয়ে চারজনের গায়ে অগ্নিসংযোগ, হত্যা ও হতাহতের ঘটনায় যাত্রবাড়ী থানায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে ঢাকার বকশিবাজারস্থ বিশেষ জজ আদালতে মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ১ মামলা:

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী। ঢাকার বকশিবাজারস্থ বিশেষ জজ আদালতে চলমান এ মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টের নির্দেশের কারণে স্থগিত রয়েছে। তবে এ মামলায় জামিনে আছেন খালেদা জিয়া।

পুলিশের প্রতিবেদন, অভিযোগ পত্র দাখিল ও অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় আছে ১০টি মামলা

নাইকো দুর্নীতি মামলা:

ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে ‘তুলে দেওয়ার’ মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ ওঠে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুদক। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৮ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা:

ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে গ্লোবাল অ্যাগ্রো ট্রেড কোম্পানি লিমিটেডকে (গ্যাটকো) ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলে (প্রয়াত) আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনকে আসামি করে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী। মামলায় গ্যাটকোকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকা ক্ষতির অভিযোগ করা হয়। বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেনের নেতৃত্বধীন ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতে মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১৫ নভেম্বর দিন ঠিক রয়েছে।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা:

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ক্ষতি ও আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছর ৫ অক্টোবর ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২ এ অভিযোগ গঠনের জন্য ২৭ নভেম্বর দিন নির্ধারণ রয়েছে।

গুলশানে বোমা হামলার অভিযোগে মামলা:
২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালনের জন্য গুলশানে সমবেত হয়। পরে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় ঘেরাও করার জন্য রওনা হলে আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের ওপর বোমা নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ করা হয়। পরে ওই ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, খন্দকার মাহবুবুর রহমানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতা ইসমাইল হোসেন। ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের অপেক্ষায় রয়েছে।
খুলনায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলা:

খুলনার ফুলতলা উপজেলায় বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়। ২০১৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ফুলতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর খায়রুল বাশার বাদী হয়ে খালেদা জিয়াসহ মোট ৫৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৬০-৭০ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি খুলনার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জসিট) দাখিলের পর্যায়ে রয়েছে।

সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে ‘মিথ্যা’ মন্তব্য করায় ঢাকায় মানহানির ২ মামলা:

শ্রমিক দিবসে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে ‘মিথ্যা’ বক্তব্য দেওয়ায় অভিযোগ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকার বিচারিক আদালতে বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী মানহানির মামলা করেন। যা বর্তমানে পুলিশের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এছাড়াও সজীব ওয়াজেদ জয়ের অ্যাকাউন্টে ৩০ কোটি ডলার রয়েছে বলে ‘মিথ্যা’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩ মে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’র মুরাদনগর উপজেলা কমিটির সভাপতি শরিফুল আলম চৌধুরী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন। কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

৪২ জনকে হত্যার অভিযোগে মামলা:

২০ দলীয় জোটের আন্দোলনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মারা যাওয়া ৪২ জনকে হত্যার অভিযোগে এনে ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াসহ দলটির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে পঞ্চগড়ে এক মামলা:
২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর, ২০১৫ সালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। এরপর থেকে খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভীকে হুকুমের আসামি করে পঞ্চগড়ের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ মামলাটি করা হয়। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে তাদের নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মীসহ সন্ত্রাসীরা পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ হত্যা ও নানাভাবে জানমালের ক্ষতিসাধনের পাশাপাশি রাষ্ট্রদ্রোহের মতো অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়। এ মামলাটিও পুলিশের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নিয়ে কটাক্ষ, স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগে মামলা:

২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। পরদিন খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্য বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ওই বক্তব্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে, স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন জজ কোর্টে মামলা করা হয়। যদিও হাইকোর্ট থেকে এ মামলায় জামিনে আছেন খালেদা জিয়া।

পুলিশের প্রতিবেদন জমা আছে ২টি মামলায়

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগে মামলা:
২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার এক বক্তব্যের জের ধরে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিভিন্ন ধর্মবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ ওঠে। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগটির ভিত্তিতে মামলা হয়। মামলাটিতে পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদন জমা পড়েছে। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হবে কি না সে বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৬ নভেম্বর দিন নির্ধারণ রয়েছে।

নড়াইলে মানহানির এক মামলা:
২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বির্তক আছে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া একই সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে তাকে (বঙ্গবন্ধু) ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, তিনি স্বাধীনতা চাননি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি। তার ওই বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে নড়াইলের কালিয়ার চাপাইল গ্রামের রায়হান ফারুকী ইমাম বাদী হয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর নড়াইলের জেলা জজ আদালতে তিনি এ মামলা দায়ের করেন। এ মামলাটিতেও পুলিশের প্রতিবেদন জমা পড়েছে। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন।

শিগগিরই বিচারের জন্য আদালতে উঠছে ৬টি মামলা

হত্যা ও অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার অভিযোগে কুমিল্লার ৩ মামলা:

২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হায়দার পুলের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে এ মামলায় কুমিল্লার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। খালেদা জিয়াসহ ৩২ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়। এর একটিতে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন। যা পরে আপিলে বহাল থাকে। আরেকটি মামলায় হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানি অবস্থায় রয়েছে।
২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে প্রেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এই ঘটনায় ৭ জন যাত্রী মারা যান এবং আরও ২৫/২৬ জন গুরুতর অসুস্থ হন। এ ঘটনায় পরদিন (৩ ফেব্রুয়ারি) চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে এ মামলায় আদালতে অভিযোগ পত্র দেওয়া হলেও এর আনুষ্ঠানিক বিচারকার্য এখনও শুরু হয়নি। এই মামলায় আগামী ১১ নভেম্বর জামিন আবেদনের শুনানির দিন নির্ধারণ রয়েছে।
‘মিথ্যা’ জন্মদিন পালনের অভিযোগে মামলা:

১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনকে ভুয়া অভিযোগ করে ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটিতে পুলিশের প্রতিবেদন আমলে নিয়েছেন আদালত। তবে নিম্ন আদালত থেকে এ মামলা খালেদা জিয়া জামিনে আছেন।

বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃতির অভিযোগের মামলা:

বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। খালেদা জিয়া হাইকোর্ট থেকে এ মামলায় জামিনে আছেন।
বঙ্গবন্ধু ও আ. লীগ সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে সমালোচনা ও মানহানির অভিযোগে মামলা:২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, জেনারেল জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ায় এ দেশের জনগণ যুদ্ধে নেমেছিলো। অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া আরও বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে কোনও উন্নতি হয়নি। সারাদেশে উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ দলীয় লোকদের জঙ্গি বানিয়ে নিরীহ লোকজনকে হত্যা করছে বলেই তিনি অভিযোগ তোলেন। পরে উক্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মানহানির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

নিম্ন আদালতে রায় হয়েছে ২টি মামলার

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা:
ট্রাস্টের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।এ মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাভোগ করছেন খালেদা জিয়া। বর্তমানে মামলাটির আপিল শুনানি শেষ ঘোষণা করে এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা:

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুদক। ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত সোমবার (২৯ অক্টোবর) মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়ে এখনও কিছু স্পষ্ট করেননি তার আইনজীবীরা।

মামলাগুলো প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের আদালতগুলো থেকে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মামলায় ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করে আসছিলাম। কিন্তু মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা জিয়া অরফানেজ এবং চ্যারেটবল ট্রাস্ট মামলায় ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এই বিচারে আদালতের আদেশের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে আমরা মনে করি। তাই বাকি ৩৪টি মামলায় ন্যায় বিচার পাবো কিনা তা নিয়ে আমাদের আইনজীবীসহ দেশের জনগণের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।-বাংলা ট্রিবিউন