চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

অ্যাম্বুলেন্সও আটকাচ্ছে শ্রমিকরা, চালকের মুখে দিচ্ছে পোড়া মবিল

প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৮ ১৭:৫৭:১৪ || আপডেট: ২০১৮-১০-২৮ ২১:০৪:৩৫

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ডাকা সারা দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘটের প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জে রোববার(২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট পালন করছেন মালিক-শ্রমিকরা।

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে রোববার ভোর ৬টা থেকেই ধর্মঘটের সমর্থনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেয় শ্রমকিরা। এ সময় শ্রমিকরা মহাসড়কের সাইনর্বোড, সানাড়পাড়, শিমরাইল মোড়, সিদ্ধিরগঞ্জপুল ও কাঁচপুর পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে সব প্রকার পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। রিকশা, অটোরিকশা ও রোগীর এ্যাম্বুলেন্সসহ আটকে দেয় তারা। এছাড়াও শ্রমিকরা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে তাণ্ডব চালায় তারা।

পিকেটিং চলাকালে তারা কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে দেননি। মহাসড়কে নারী শিক্ষার্থী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গাড়িচালকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পেশাজীবী মানুষ লাঞ্ছিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মহাসড়ক দিয়ে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস গন্তব্যে যেতে চাইলে পরিবহন শ্রমিকরা ওইসব পরিবহনে কালো রঙ লাগিয়ে দেন। এমনকি অনেক চালকের শরীরেও পরিবহন শ্রমিকরা কালো রঙ লাগিয়ে দেন। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন প্রাইভেট পরিবহনগুলোর মালিক, চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।

এদিকে, শ্রমিকদের সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপরও চড়াও হতে দেখা যায়। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরও শ্রমিকরা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতে থাকে। ছবি তুলতে গেলে বাঁধা দেয় সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের।

অপরদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিমরাইল মোড় এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর পিএস সাজ্জাদুল হাসানের গাড়ি আটকে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় আধা ঘণ্টা তার গাড়ি অবরোধ করে রাখার পর শিমরাইল মোড়ে কর্তব্যরত নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের টিআই (প্রশাসন) মোল্যা তাসলিম হোসেন শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার পর গাড়িটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। যানবাহন না পেয়ে এ সময় হাজার হাজার মানুষকে হেঁটেই নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

গার্মেন্ট কর্মী সাহেরা আক্তার বলেন, ‘আমরা সকাল ৬টায় অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে শিমরাইল মোড়ে এসে দেখি সব পরিবহন বন্ধ রয়েছে। গাড়ি না পেয়ে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে অফিসে যেতে হচ্ছে।’

দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একাদ্বশ শ্রেণির ছাত্রী শান্তা জামান বলেন, ‘কলেজে যাওয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার পর রাস্তায় এসে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে কোনো গাড়ি না পেয়ে বাসায় যেতে বাধ্য হই।

সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা কেএ মোতালিব মিয়া বলেন, ‘পূর্বের ঘোষণা ছাড়াই শ্রমিকরা অবরোধ ডেকে আমাদেরকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে। আমরা এখন কিভাবে নিজ কর্মস্থলে যাব।’

শনির আখড়া থেকে আসা মনির মিয়া নামে এক যাত্রী বলেন, ‘আমার এক আত্মীয় মদনপুর এলাকায় গতকাল রাতে মারা গেছেন। তাকে দেখতে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে শিমরাইল মোড়ে এসে আটকা পড়েছি। আমার আত্মীয়ের লাশ দেখতে পারবো কিনা এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছি।’

যাত্রী শেফালী আক্তার বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকরা সকাল ১০টার পর থেকে রিকশা, ভ্যান ও রোগী বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স সহ সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা মারাত্মক বিপাকে পড়েছি। এটা আসলে অমানুবিক।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিমরাইল মোড়ে দায়িত্বরত পুলিশের এক কনস্টেবল জানান, এ্যাম্বুলেন্সে বহনকারী একজন মারাত্মক অসুস্থ রোগীর গাড়ি শিমরাইল এলাকায় আটকে দেয় শ্রমিকরা। পরে তাদের অনুরোধ করে রোগীবাহী গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা মহাসড়ক থেকে সড়বো না। আমাদের দাবি অবশ্যই মানতে হবে।

বাংলাদেশ ট্রাক ক্যাভার্ডভ্যান পিকআপ মালিক সমিতি শিমরাইল শাখার সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকদের ৮ দফা দাবি মেনে নেওয়ার লক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে আমরা কর্মসূচি পালন করছি।’

শিমরাইল মোড়ে দায়িত্বরত নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের টিআই (প্রশাসন) মোল্যা তাসলিম হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকদের ঢাকা অবরোধে যাতে করে শ্রমিকরা গাড়ি ভাঙচুরসহ কোনো ধরনের অপ্রতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেনি।

উল্লেখ্য, সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবি আদায়ের লক্ষে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা এ ধর্মঘট পালন করছে।