চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

১০ দিন অপেক্ষা করুন: চট্টগ্রামে ডা. জাফরুল্লাহ

প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৭ ১৭:১৩:৪০ || আপডেট: ২০১৮-১০-২৭ ১৯:০৭:৫৬

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘১০ দিন অপেক্ষা করুন, এর মধ্যে দেশের পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে। ১০ দিনের মধ্যে দেশের সব বুদ্ধিজীবী ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেবেন। বামপন্থী, আওয়ামীপন্থী সব বুদ্ধিজীবী আসবেন। শুধু ১০ দিন অপেক্ষা করেন, দেখেন কী হয়’।

শনিবার দুপুর দেড়টা থেকে নগরের কাজির দেউড়িতে নাসিমন ভবনের সামনে নুর মোহাম্মদ সড়কের উপর ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের মঞ্চ তৈরি করা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজের ছায়া দেখে ভয় পাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ভয় পাবেন না। ড. কামাল হোসেন আছেন, তিনি আপনাকে রক্ষা করবেন। কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার মইনুল আপনাকে আইনি সহায়তা দেবেন’।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচনাও করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কথা ও কাজে মিল নেই। বর্তমান সরকার পাকিস্তানের চেয়েও খারাপ শাসন চালু করেছেন’।

ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে আইনের শাসন দেওয়ার জন্য বিএনপি নেতাদের আহ্বান জানান তিনি।

গদি ছাড়ো, তুমি যাও

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না।

তিনি বলেন, সরকার ঐক্যের পথে বিভ্রান্তি ছড়াবে। আমরা অনেকগুলো দল এক হয়েছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই- সরকারের পতন। তারা হঠাৎ তফসিল ঘোষণা করতে পারে। আমরা লড়াই করব এবং ভোটে জিতব। ভোটকেন্দ্রে, ভোটের মাঠে, রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকব। জয় আমাদের হবেই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের স্লোগান একটাই- গদি ছাড়ো, তুমি যাও। গদি না ছাড়লে কিভাবে ছাড়াতে হয়, সেটা আমাদের জানা আছে।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার বলছে ৭ দফা ১১ দফা মানবে না। আমরা বলছি, মানতে হবে। সরকার বলছে তারা পদত্যাগ করবে না, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেবে না। আমরা বলছি, দিতে হবে। আমরা কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছি, আমাদের দাবি মানতে হবে।

ডাল ম্যা কুচ কালা হ্যায়

সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, এ ঐক্য ক্ষমতার ঐক্য নয়, জনতার ঐক্য। এ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ নয়। এটা তাজউদ্দীনের আওয়ামী লীগ নয়। এটা লুটপাটের আওয়ামী লীগ। আমরা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করি। গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য তাই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য করেছি। এই ঐক্য ক্ষমতার ঐক্য নয়, জনতার ঐক্য।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। ২৬ মার্চ ঘোষণা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। ইতিহাস বিকৃত করে লাভ নেই।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার যদি উন্নয়ন করে থাকে তাহলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে এত ভয় পাচ্ছে কেন? উন্নয়ন হয়ে থাকলে মানুষকে এত ভয় কেন! তাহলে বুঝতে হবে, ডাল ম্যা কুচ কালা হ্যায়।