চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

চালককে সাজা দেয়ায় হাটহাজারীতে সড়ক অবরোধ

প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৫ ১৩:৪৩:০৬ || আপডেট: ২০১৮-১০-২৫ ১৩:৪৩:০৬

হাটহাজারীতে মো. দিদারুল আলম দিদার নামের বাস চালককে সাজা দিয়ে জেলে পাঠানোর প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে রেখেছে বাস-ট্রাক মালিক, চালক ও শ্রমিকরা। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বাস-ট্রাক মালিক সমিতির ডাকে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে চালক ও শ্রমিকরা সড়কটি অবরোধ করেছে। এতে ওই সড়কে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। আটকা পড়েছে ঢাকাসহ উত্তরবঙ্গ থেকে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা দূর পাল্লার যানবাহন।

চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাটহাজারীসহ উত্তর চট্টগ্রামে বসবাসকারী চট্টগ্রাম শহরের চাকরিজীবীরা।

চট্টগ্রাম উত্তরজেলা বাস-ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামশুল আলম জানান, আগের দিন (বুধবার) হাটহাজারী ১নং রাস্তার মাথায় (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গেইট) গাড়ি থামাতে সিগন্যাল দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট। তবে চালক গাড়ি না থামিয়ে কিছুদূর সামনে এগিয়ে যেতেই পুলিশ ওই গাড়ি চালককে ধাওয়া করে আটকায় এবং ম্যাজিস্ট্রেট সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠান।

পরে বাস-ট্রাক মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত হয়, সেই চালককে মুক্তি দেয়া পর্যন্ত এই সড়কে সকল ধরনের যানবাহান চলাচল বন্ধ থাকবে।

জেলার স্থানীয় সাংবাদিক আবু শাহেদ জানান, চালকের মুক্তির দাবিতে নাজিরহাট নতুন রাস্তার মাথা, হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড ও অক্সিজেন মোড়ে অবস্থান নিয়ে বাস মালিক-চালক ও শ্রমিকেরা দূর জেলা থেকে আগের দিন ছেড়ে আসা পর্যটকের গাড়ি বাস-ট্রাক আটকে দিচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেসব পরিবহনের যাত্রী ও পর্যটকরা। পূর্ব কোনো ছাড়া ধর্মঘট ডাকায় শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ শহরের চাকরিজীবীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এ বিষয়ে জেলার হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বেলাল উদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর বলেন, সকালে অবরোধের খবর জানার পর পরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া বাস-ট্রাক মালিক, চালক ও শ্রমিকদের সাথে প্রশাসন এই বিষয়ে কথা বলছে।

উল্লেখ্য, বুধবার জেলার হাটহাজারীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ১নং গেইটে ভ্রম্যমাণ আদালত বসায় বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউল হক মীর। ওই সময় হাটহাজারী সড়কের স্পেশাল বাস সার্ভিসের একটি বাসকে থামানোর জন্য সিগনাল দেয় অভিযানে থাকা পুলিশ। তবে চালক বাস না থামিয়ে তিন পুলিশ সদস্যকে বিপজ্জনকভাবে ক্রস করে চলে যায়। এরপরই সেই বাসটিকে ধাওয়া করে আটকানো হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাসের চালক মো. দিদারুল আলম দিদারকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউল হক মীর বলেন, মোবাইল কোর্ট চলাকালে ৩ পুলিশ সদস্যের সিগনাল অমান্য করে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর দায়ে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। ওই সময় অল্পের জন্য তিন পুলিশ প্রাণে বেঁচে গেছেন। পুলিশ লাফ দিয়ে সড়কের বাইরে যেতে না পারলে সেই গাড়ির চাপায় তিনজনই মারা যেত।