চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

মিয়ানমারে এখনও গণহত্যা চলছে: জাতিসংঘ

প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৫ ১৩:৩৯:৩১ || আপডেট: ২০১৮-১০-২৫ ১৩:৩৯:৩১

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর এখনও গণহত্যা চলছে বলে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্বের সর্বোচ্চ সংস্থাটির তদন্তকারী দলের কর্মকর্তারা বলেছেন, মিয়ানমার সরকার তাদের কর্মকাণ্ডে বুঝিয়ে দিচ্ছে- পুরোপুরি কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাদের কোনও আগ্রহ নেই।

বুধবার (২৪ অক্টোবর) মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসম্যান এক সংবাদ সম্মেলনে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। সেখানে আরও ছিলেন মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াং লি।

ইয়াংহি লি বলেন, অং সান সু চির নেতৃত্বে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকার গণতন্ত্র বিনির্মাণে সত্যিকারের কোনও আগ্রহ দেখায়নি। সু চি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের খবর অস্বীকার করার পর লি তাকে তার সঙ্গে সেখানে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে তিনি নিজেই দেখাবেন। কিন্তু সু চি জবাব দেন, তার রাখাইনে যাওয়ার দরকার নেই। এ ক্ষেত্রে তার মন্ত্রীরাই যথেষ্ট।

তিনি বলেন, মিয়ানমার ববাবরই বলে আসছে যে প্রমাণসাপেক্ষে তারা ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু মিয়ানমার আসলে তা করবে না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। মিয়ানমারের অপরাধের অংশবিশেষের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে (আইসিসি) প্রাথমিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তিনি। এর পাশাপাশি তিনি নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের অপরাধ তদন্তে আইসিসিকে দায়িত্ব দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘ সনদের আওতায় এবং রোম সনদের সদস্য দেশগুলোকে বিচারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মারজুকি দারুসমান বলেন, মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের থার্ড কমিটিতে মিয়ানমার নিয়ে তিনি প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে যখন রোহিঙ্গা গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের তথ্য দিচ্ছিলেন তখন মিয়ানমারের দূত এসব অস্বীকার করেন। এ থেকেই প্রমাণ হয় যে মিয়ানমার এসব অপরাধ তদন্তের উদ্যোগ নিলেও তাতে ফল আসবে না।

তিনি বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে চার থেকে পাঁচ ধরনের গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। সেখানে এখনও যে আড়াই লাখের মতো রোহিঙ্গা অবশিষ্ট আছে তাদের তিলে তিলে শেষ করে ফেলার প্রক্রিয়া চলছে। তাদের চলাফেরা, সন্তান গ্রহণ থেকে কোনও ধরনের অধিকার নেই। এখনও সেখানে গণহত্যা চলছে।

মারজুকি দারুসমান বলেন, সু চি তার প্রতিবেদনের তথ্য অস্বীকার করেননি। তবে এগুলো মিয়ানমারে শান্তির জন্য সহায়ক হবে না বলেও সু চি মন্তব্য করেছেন।

নিরাপত্তা পরিষদকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, মিয়ানমারের জবাবদিহিতার উদ্যোগ নেওয়া না হলে এই গণহত্যা ও অপরাধের ধারা অব্যাহত থাকবে। আইসিসি বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে মিয়ানমারের অপরাধের বিচার করা উচিত।

এদিকে ইয়াংহি লি বলেন, অতীতে চীনের সঙ্গে তার যোগাযোগ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও দেশটি তার পাঠানো চিঠি ও ই-মেইলের কোনও জবাব দেয়নি। মিয়ানমার বলছে, চলমান সংকটের দ্রুত সমাধান নেই। বাস্তবে তারা এটি সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে সংকট জিইয়ে রাখছে।

রোহিঙ্গাদের এখনই মিয়ানমারে ফেরার বিরোধিতা করে ইয়াংহি লি বলেন, সম্প্রতি দেশটির একজন উগ্র ধর্মীয় নেতা বলেছেন যে আইসিসি মিয়ানমারে গেলে তারা অস্ত্র হাতে তুলে নেবেন। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পরই প্রত্যাবাসনের প্রশ্ন আসা উচিত।

নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে সত্যানুসন্ধানী দলের ব্রিফিংয়ে চীনের বিরোধিতা প্রসঙ্গে মারজুকি দারুসমান বলেন, চীন মনে করে মানবাধিকার ইস্যুতে অন্য ফোরামে আলোচনা হওয়া উচিত। তিনি বিশ্বাস করেন, নিরাপত্তা পরিষদের জন্য মিয়ানমার ইস্যুতে কাজ করা একটি ব্যতিক্রমী সুযোগ। নিরাপত্তা পরিষদকেও মনে রাখা উচিত যে তাদের কাজের মূল বিষয় হলো মানবাধিকার।