চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সেরে মেশিনটি নিজেই রোগী!

প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৪ ১৮:৩০:৪৯ || আপডেট: ২০১৮-১০-২৪ ২২:০৬:৫৬

এস এম সালাউদ্দিন 

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২০০০ সালের শেষের দিকে অর্ধকোটি টাকা মূল্যের নতুন এক্সেরে মেশিন সরবরাহ করে সরকার। এটি বসানো ও হয়। কিন্তু বিগত ১৭ বছরে এই মেশিনটির সুবিধা নিতে পারেনি সাধারণ মানুষ। বসানোর পর ছিলনা টেকনেশিয়ান (রেডিও গ্রাফার)। আর যখন রেডিও গ্রাফার এসেছে অল্প কিছুদিন সেবা দেওয়ার পর বিকল হয়ে যায় মেশিনটি। ফলে রোগীরা পাচ্ছে না পর্যাপ্ত সেবা।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাক্তার রাখাল চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, আমি এই উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ যোগদান করেছি এক বছর আগে। আমি আসার আগে থেকে এক্সেরে মেশিনটি নষ্ট।

গত ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং তারিখে ১৬৫০ স্মারক মূলে লাইন ডাইরেক্টর কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার বরাবরে একটি ডিজিটাল এক্সেরে মেশিনের জন্য আবেদন করছি। এখনো পর্যন্ত কোন ধরণের আসারবাণী পাওয়া যায়নি জানান, রাখাল চন্দ্র বড়ুয়া।

তিনি আরো বলেন, আশা করছি অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হবে।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, জরুরী বিভাগে ডাক্তার বসার পিছনের দেওয়ালের সাথে বিকল এক্সেরে মেশিনটি লাগানো আছে। অনেকের মন্তব্য স্থানীয় ডায়াগষ্টিক সেন্টার গুলোর সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আতাত রয়েছে। ফলে ১৭বছরেও মেরামত করা হচ্ছেনা বিকল এক্সেরে মেশিনটি। রোগীদের কাউকে এক্সেরে করাতে হলে ছুটতে হচ্ছে ২ কিলোমিটার দূরে চাতুরী চৌমহুনী বাজারে ডায়গনষ্টিক সেন্টারে। মেডিকেলের আসে পাশে মান সম্মত কোন রোগ নির্ণয় কেন্দ্র নেই।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, আনোয়ারা ছাড়াও প্রতিদিন বাশঁখালী ও কর্ণফূলী উপজেলার অসংখ্য হতদরিদ্র রোগীরা ডাক্তার দেখাতে আসেন। বাশঁখালী উপজেলার ১নং পুকুরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সেবা নিতে আসা মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দীন বলেন, আগত রোগীদের এক্সেরে প্রয়োজন হলে হাসপাতাল থেকে করানোর কোন সুযোগ নেই। বাহির থেকে করালে টাকা দিতে হচ্ছে কয়েকগুন বেশী। ১টা এক্সেরে মেশিনের অভাবে এমন দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে হতদরিদ্র সাধারণ মানুষদের।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানায় হাসপাতালটি ১টা এক্সেরে মেশিনের বরাদ্দ পেলে রোগীদের সেবা দেওয়া আরো অনেক সহজ হবে। এক্সেরে মেশিনটি নষ্ট হওয়ার কারণে অনেক দূর্ঘটনা জনিত রোগীদের সেবা দিতে না পেরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে প্রেরন করতে হয়। আশা করি উর্ধ্বতন মহলের সদিচ্ছায় এই সমস্যার সমাধান হবে।